জলদস্যূ মোকাবিলা ভারত ও রাশিয়ার নৌবাহিনীর মধ্যে “ইন্দ্র – ২০১২” মহড়ার এক অন্যতম অঙ্গ হতে চলেছে. এই বিষয়ে জানিয়েছেন বিশাল ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী জাহাজ মার্শাল শাপোশনিকভের ক্যাপ্টেন আন্দ্রেই কুজনেত্সভ. ভারতের মুম্বাই বন্দরে বুধবারে মৈত্রী সফরে এসে ভিড়েছে রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবাহিনীর এক জাহাজ দল. আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ এই বিষয়ে বিশদ করে লিখেছেন.

সম্মিলিত ইন্দ্র নামের মহড়া নিয়মিত ভাবেই জলে ও স্থলে করা হয়ে থাকে. শেষ বার এই মহড়া হয়েছিল রাশিয়ার পূর্ব দিকে বুরিয়াতিয়া এলাকায়. রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি সংক্রান্ত সহযোগিতার এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হয়েছে এই ধরনের যৌথ প্রশিক্ষণ.

ইন্দ্র মহড়া আন্তর্জাতিক সমুদ্রে নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্যই করা হয়েছে. মার্শাল শাপোশনিকভ জাহাজ, যেটি এবারে সম্মিলিত মহড়ায় অংশ নেবে, তা জলদস্যূ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা রাখে. এই জাহাজ সামুদ্রিক গুণ্ডাদের সঙ্গে ২০১০ সালে এক যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছিল, যখন রাশিয়ার ট্যাঙ্কার মস্কো বিশ্ববিদ্যালয় আডেন উপসাগরে তাদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিল. তখন এই জাহাজের সামুদ্রিক বাহিনীর সেনারা হেলিকপ্টার ও স্পীড বোটে চেপে এসে রাশিয়ার জাহাজটিকে জলদস্যূদের হাত থেকে উদ্ধার করেছিল. এই বিশাল জাহাজের উপরে রয়েছে দুটি জাহাজের ডেকে থাকা হেলিকপ্টার কা – ২৭ আর তারই সঙ্গে এক দল আন্তর্জাতিক ভাবে জলদস্যূ মোকাবিলায় সক্ষম বাহিনী. ভারতীয়দের খুবই আগ্রহের কারণ হবে দেখা যে, কি করে তারা জলদস্যূ মোকাবিলার কাজে অংশ নিয়ে থাকে.

জলদস্যূতা, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের মতই, মানব সমাজের জন্য একটি সবচেয়ে বিপজ্জনক আধুনিক বিপদ. জলদস্যূরা জাহাজ দখল করে, লুঠ করে ও নাবিকদের ধরে রেখে তাদের জন্য বিশাল মুক্তি পণ আদায় করে. বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যেক বছরে বিশ্বের বাণিজ্যে যে ধরনের ক্ষতি জলদস্যূরা করে, বিশেষত আডেন উপসাগরে ও আরব সাগরে, তা নশো কোটি ডলারের বেশী. এই অর্থের মধ্যে জলদস্যূদের হাতে ধরা পড়া নাবিকদের মুক্তি পণের অর্থ, মাল, যা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তার জন্য ক্ষতি, আর তারই সঙ্গে ভারত মহাসাগরে মাল পরিবহনের জন্য বর্তমানে নিত্য নিয়মিত ভাবে বেড়ে যাওয়া মাল প্রহরার ভাড়াও রয়েছে. এই তথ্য উল্লেখ করে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ইগর জুবকভ বলেছেন:

“বাণিজ্য তরণী গুলিকে আক্রমণ করে জলদস্যূরা এত লাভ করে, যা তাদের শুধু দারিদ্র বিহীণ ভাবেই থাকতে দেয় না বরং কাছে পিঠের নানা রকমের সন্ত্রাসবাদীদের অর্থ সাহায্য করতেও দেয়. জলদস্যূতা সৃষ্টি করেছে বিরাট সব মাফিয়া দলের. তাদের রয়েছে বিশাল এলাকা জুড়ে রাজত্ব, তাদের কাছে আধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে, তাদের সামরিক শক্তি বা নতুন জলদস্যূ পাওয়ার বিষয়ে কোনও সমস্যাই নেই”.

0রাশিয়া ও ভারত সক্রিয় ভাবেই সামুদ্রিক লুঠেরা ও গুণ্ডাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে. তাদের সামরিক নৌবাহিনীর জাহাজ বাণিজ্য পোত পাহারা দিয়ে নিয়ে যায়, সামুদ্রিক বাণিজ্য পথে পাহারা দেয়. গত বছরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে সম্মিলিত ভাবে রাশিয়া, ভারত ও অন্যান্য দেশের তৈরী করা জলদস্যূ মোকাবিলার জন্য এক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে. এই সিদ্ধান্ত জলদস্যূদের ও জলদস্যূতা আইন সঙ্গত ভাবে ন্যায় বিচার করার জন্য পথ করে দিয়েছে. যদিও এটা ঠিক যে, জলদস্যূ সমস্যা পৃথিবীর প্রায় প্রথম সময় থেকেই রয়েছে, তবুও বাস্তবে বিচার সংক্রান্ত নিয়ম ও নীতি এই ন্যায় বিচারের জন্য ছিল না.