রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভার সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্য দেশ প্যালেস্টাইনের স্বয়ং শাসিত এলাকাকে পর্যবেক্ষক দেশের মর্যাদা দিতে স্বীকৃতি দিয়েছে. এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সায় দিয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে ১৩৮টি দেশ, বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল সহ নয়টি দেশ এবং ভোট দিতে চায় নি ৪১টি দেশ, ৫টি দেশ ছিল অনুপস্থিত. (ভোটের ফলাফল জানার জন্য পড়ুন - http://en.wikipedia.org/wiki/United_Nations_General_Assembly_resolution_67/19#Result).

এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে নিকটপ্রাচ্যে নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাস্তব সৃষ্টি হয়েছে, এই রকম মনে করে রাষ্ট্রসঙ্ঘে প্যালেস্টাইনের পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান ডঃ রিয়াদ মানসুর বলেছেন:

“রাষ্ট্রসঙ্ঘ ব্যবস্থায় এই সিদ্ধান্ত দুটি দেশের অস্তিত্বকেই স্বীকার করে. ১৯৬৭ সালের সীমান্ত বরাবর প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র, যার রাজধানী পূর্ব জেরুজালেম. আর ইজরায়েল রাষ্ট্র. এই সিদ্ধান্ত এই দুই দেশকে আহ্বান করেছে সমস্ত অসমাধিত সমস্যা নিয়ে আলোচনায় বসতে, আর এক শান্তি চুক্তি করতে, যা ১৯৬৭ সালের অধিগ্রহণের অন্ত করবে ও প্যালেস্টাইনকে অধিকার দেবে এক স্বাধীন দেশ হওয়ার”.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের সম্পূর্ণ সদস্য দেশ হতে প্যালেস্টাইনের এখনও অনেক দূর, যদিও তাদের সরকারি ভাবে ৬০টি দেশ স্বীকার করেছে. আপাততঃ যতদিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা পরিষদে এই প্রসঙ্গে ভেটো দেওয়া রয়েছে, ততদিন রামাল্লা রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদস্য দেশ হতে পারবে না. গত বছরেও এই চেষ্টা বিফল হয়েছিল.

গত রাত্রেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে. তারা এর কারণ হিসাবে বলতে চেয়েছে যে, এই কাজের ফলে শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে. তারা বলেছে এই সিদ্ধান্তে তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে ও বলেছে এটা উল্টো ফলই দেবে. এই রকম কথা বলে মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন বলেছেন:

“তা বাড়তি বাধার সৃষ্টি করবে শান্তির পথেই. আমরা সেই অবস্থানকেই আঁকড়ে রয়েছি যে, শুধু প্যালেস্টাইন ও ইজরায়েলের মধ্যে সরাসরি আলোচনাতেই শান্তি আসতে পারে, যা দুই পক্ষেরই কাম্য. যখন স্বাধীন প্যালেস্টাইন ইজরায়েলের সঙ্গে শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গেই থাকতে পারবে”.

আসলে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সবার সিদ্ধান্তের বিষয়ে সহমত হতে পারা যাচ্ছে না বলে দেখিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল আসলে এই বিষয়েই সন্তুষ্ট নয় যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘ গত কুড়ি বছর ধরে এই এলাকায় যে সমস্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি অবলম্বন করা হচ্ছে তার প্রতিই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং সেটা এই প্রথম খোলাখুলি ভাবেই প্রকাশ করেছে. এই পুরো সময় ধরে ইজরায়েল ও তার প্রতিবেশী আরব দেশ গুলির মধ্যে সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে একচ্ছত্র অধিকার ওয়াশিংটন কুক্ষিগত করে বসেছিল. ইজরায়েল সব সময়েই চায় আরবদের সঙ্গে কাজকর্ম করতে হয় শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে, নয়তো তাদের সঙ্গে প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদা ভাবেই. আর এখানেও ওয়াশিংটন কাজ করেছে প্রধান রেফারি হয়ে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের এই মঞ্চে ঢুকে পড়াকে মনে করা হয় এই একাধিকারের পরিস্থিতিতে চলতে দেওয়া যেতে পারে না এমন ভাবে হস্তক্ষেপ করাই. তারই মধ্যে, খুব সম্ভবতঃ, এই আক্রমণ – শেষ নয়. বিগত বছর গুলিতে মধ্যস্থতার ব্যবস্থার বিফলতা স্পষ্টই সকলের জন্য দেখতে পাওয়া যাচ্ছে.