ইরান আফগানিস্তানে বিদেশী সামরিক উপস্থিতির অবসান চেয়েছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধির ডেপুটি এশাক আল- হাবিব নিজের দেশের অবস্থান সম্বন্ধে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেছেন যে, আফগানিস্তানে বিদেশী শক্তির উপস্থিতি শুধু এই দেশে পরিস্থিতিকেই অস্থিতিশীল করছে. প্রতিবেশীদের মতামত অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বর্তমানের ক্ষেত্রে চোখে পড়ার মতো হয়েছে যে, প্রতিবেশীরা একেবারেই উল্টো অবস্থানে রয়েছেন. এই প্রসঙ্গে পিওতর গনচারভ মন্তব্য করেছেন.

এখানে মুখ্য বিষয় থেকে শুরু করা যাক. তেহরান ও ইসলামাবাদের আফগানিস্তানে আমেরিকা ও ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনীর অপসারণ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য তফাত রয়েছে. যদি তেহরান জোর দিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির আশ্বাস মতো আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার বাস্তব হওয়া দরকার, তবে ইসলামাবাদ, অন্তত তাদের সামরিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউসকে খুবই জোর দিয়ে আহ্বান করছে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে তাড়াহুড়ো না করতে. অন্যথায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তর বিশ্বাস করে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটকে আবার করে ফিরে আসতেই হবে আফগানিস্তানে.

বোঝাই যাচ্ছে যে, এর পিছনে কি রয়েছে. ইসলামাবাদে না বুঝে থাকা যায় নি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করার পরে কাবুলের প্রশাসন যে পাকিস্তানের মতামতের কোন রকম গুরুত্ব দেবে সেই বিষয়ে আশা করাটা হয়ে যাবে একটা ইন্দ্রজালের বেশী আর কিছু নয়. এক সময়ে এমনকি পাকিস্তানের আইএসআই সংস্থার কোলে বেড়ে ওঠা তালিবরা যখন কাবুলের ক্ষমতায় ছিল, তখনও যেই সীমান্ত নির্ধারণের প্রসঙ্গে তোলা হয়েছে, তখনই তারা লাল সঙ্কেত জ্বালিয়ে দিয়েছিল. বোঝাই যাচ্ছে যে, ইসলামাবাদের মনে হয়েছে যে, কাবুলের সঙ্গে ড্যুরান্ড লাইন নিয়ে সমস্যা সমাধান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট চলে যাওয়ার আগেই করা দরকার, আর এখানে তাদের জন্য খুবই বড় বাজী ধরার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে, বিশেষত রয়েছে সেই চির পরিচিত বিশ্ব সমস্যার অনুঘটক দেশ গ্রেট ব্রিটেন.

অন্য ব্যাপার হল- ইরান. এখানে সবই একেবারেই উল্টো. তেহরানের উদ্বেগ রয়েছে স্রেফ একটা সমস্যা নিয়ে: আফগানিস্তান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমনিতেই ইরানের খারাপ সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন অবস্থান নেবে? আর এই ক্ষেত্রে আফগানিস্তানের এলাকা, বিশেষত গেরাট, শিনডান্ডা, কান্দাহার, আর সেই জারাঞ্জেরই সমস্ত বিমান বন্দর ইরানের উপর লাফিয়ে পড়ার জন্য বন্দর হবে না তো? এই সমস্যাকে আফগানিস্তানের বিশেষজ্ঞরা ঠিক কি ভাবে দেখছেন, বিশেষত যখন, আজ ওয়াশিংটন ও কাবুলে আফগানিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল- নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য তৈরী হচ্ছে? তাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তানে উপস্থিতি কি তাদের প্রতিবেশী দেশ গুলির উদ্বেগের কথা মাথায় রেখে প্রতিফলিত করা হবে?

আফগানিস্তানের লোকসভার প্রতিনিধি নাকিবুল্লা ফায়েকের মতে কোন সন্দেহ নেই যে, এই ফ্যাক্টর চুক্তিতে প্রতিফলিত করা হবে, তাই তিনি বলেছেন:

“আমরা খুব ভাল করেই আমাদের প্রতিবেশীদের আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতির প্রসঙ্গে উদ্বেগ বুঝতে পারি. আর আফগানিস্তানের জন্য একেবারেই নীতিগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হল যে, কোন রকম অবস্থাতেই তাদের ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে টেনে আনা যাবে না. আর আফগানিস্তানের নেতৃত্ব এই চুক্তি স্বাক্ষর করার সময়ে তাদের প্রতিবেশীদের কাছে প্রমাণ দিতে হবে যে, তাঁরা বোঝেন প্রতিবেশীদের আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিষয়ে উদ্বেগের কারণ বুঝতে পারেন ও আফগানিস্তান কোন রকমের পরিস্থিতিতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতের পুতুলে পরিণত হবে না. এই তৈরী হতে যাওয়া দলিলে যুক্ত করতে হবেই যে, আফগানিস্তানের এলাকা অন্য কোন দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে না”.

ইরানের ও পাকিস্তানের সঙ্গে পরিস্থিতি আরও একবার খুবই দৃষ্টি যোগ্য ভাবে বলে দিচ্ছে যে, আফগানিস্তানের সমস্যা – এটা প্রাথমিক ভাবে আঞ্চলিক সমস্যা. আর পাকিস্তান ও ইরান আফগানিস্তানের জন্য – সবচেয়ে “মূল্যবান” প্রতিবেশী, যাদের মনোভাবের উপরে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক আবহাওয়ার অনেকটাই নির্ভর করে.