গ্রেট ব্রিটেনের প্রশাসন লিবিয়ার কাছ থেকে মুহম্মর গাদ্দাফির প্রশাসনকে ধ্বংস করার জন্য ব্রিটিশ বোমারু বিমান ও অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবী করবে না. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন দেশের উপ প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অ্যান্ড্রু ম্যারিসন দেশের লোক সভার এক সদস্যের এই ধরনের এক প্রস্তাবের প্রত্যুত্তর হিসাবে. সদস্যের মতে, বর্তমানের লিবিয়ার প্রশাসন সংযুক্ত রাজতন্ত্রকে বত্রিশ কোটি ডলার এই কাজের জন্য ক্ষতি পূরণ হিসাবে দিলেই পারে. লিবিয়াতে বোমা ফেলা ও বিদ্রোহী জঙ্গী দের প্রশিক্ষণ ও গোলা বারুদ সরবরাহের জন্য এই রকম একটা হিসাব গ্রেট ব্রিটেনের সরকার দেশের লোককে দিয়েছেন. দেখা যাচ্ছে মানুষ মারার জন্যও খরচ করলে, তার হিসাব দেওয়ার অভ্যাস রয়েছে খুনে ইংরেজের.

এই ক্ষেত্রে ব্রিটিশ, ফরাসী ও আমেরিকা ও কাতার সহ অন্যান্য দেশের লোকরা, যারা এই অপারেশনের সময়ে “লিবিয়ার বন্ধু” বলে হাতে হাত ধরে দাঁড়িয়েছিল, তারা একটা বদান্যতা দেখানোর চেষ্টা করছে. গুলি করে মারার জন্য “গুলি আর বন্দুক ভাড়ার খরচ” মৃতের পরিজনদের কাছ থেকে দাবী করতে চাইছে না তারা, যদিও চিনে অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে, পরিবারের কাছ থেকে এই রকমের খরচ নেওয়া হয়ে থাকে. কিন্তু এর মোটেও মানে এই নয় যে, “লিবিয়ার মিত্ররা” স্রেফ ফালতু আবেগে সেখানে লড়াই করতে গিয়েছিল. আমেরিকার কংগ্রেস সদস্যা ডায়না রোরাবাহর এই বিরোধের সময়ে তো সরাসরি ঘোষণা করেছিলেন: “লিবিয়ার লোকদের কাছে প্রচুর ধন সম্পদ রয়েছে. আমাদের উচিত্ হবে এই রকমের সব লোকদের কাছ থেকে দাবী করার, যাতে তারা আমাদের অর্থ দিতে তৈরী থাকে, যদি আমরা এই রকমের ভেবে থাকি যে, আমেরিকার জনগন বিশ্বে স্বাধীনতার কাজে সমর্থন করা চালিয়ে যাবে”. এর পরে লিবিয়ার বিদেশী ব্যাঙ্কে প্রথমে আটকে থাকা ১৫ হাজার কোটি ডলার কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিল. এই ক্ষেত্রে বড় মাপের কোন দুর্নীতি জড়িত স্ক্যান্ডালের আশা করার মানে হয় না, - অর্থ তো আসলে লিবিয়ারই.

তার ওপরে, নিজেদের লাভ “লিবিয়ার মিত্ররা” এই বিরোধের পরে আরও বহু দিন ধরেই পেতে থাকবে, - এই কথা উল্লেখ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মী আনাতোলি ইগোরিন বলেছেন:

“ন্যাটো জোট এই দেশে বোমা বর্ষণ করেছে. লিবিয়া বাস্তবে এক ধ্বংসস্তূপে রয়েছে. এই পটভূমিতে আমেরিকার সামুদ্রিক বাহিনীর সেনারা দেশের প্রধান খনিজ তেল পাঠানোর বন্দর গুলি, যেখান থেকে রপ্তানী করা হয়, তা দখল করে রেখেছে. এই প্রসঙ্গে দেশের তিন চতুর্থাংশ লোকের হাতে রয়েছে অস্ত্র, আর তারা সেই গুলি ফেরত দিতেও অস্বীকার করেছে. বাস্তবে সারা লিবিয়া জুড়ে এখন চলছে গুণ্ডা রাজ. এই দেশ নিজের বিকাশের পথে প্রায় কয়েক শতক পিছিয়ে পড়েছে. শুধু ধ্বংস স্তূপ উদ্ধার করতেই ইউরোপে করা হিসাব মতো লেগে যাবে কম করে হলেও দশটি বছর. আর প্যারাডক্স হল যে, এই ধ্বংসের জন্য, যা বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই পশ্চিমের ও ভাড়াটে সৈন্যরা করেছে, দাম দিতে হবে সেই লিবিয়া লোকদেরই. আর তাদের যা করার স্বীকৃতী দেওয়া হয়েছে, তা হল – শুধু এর দাম নিয়ে দর কষাকষি করার. বহু পশ্চিমের কোম্পানীই এখন খুব বেশী রকমের আগ্রহ দেখাচ্ছে লিবিয়াকে আবার করে তৈরী করার জন্য”.

0অর্থাত্ দেশ সেই নীতিরই এক নতুন খোরাক হয়েছে যে “পরাজিত দের জন্য থাক শোক”. আর লিবিয়া যে, বিগত বিরোধ থেকে বিজয়ী হয়ে বের হতে পারে নি, তাতে নিশ্চয়ই কারও সন্দেহ নেই: যথেষ্ট হবে শুধু দেশের বর্তমানের চেহারা দেখলেই. বিজয়ীরা এই ভাবে তো বেঁচে থাকে না.