যে সব দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা ভাল, তাদের এক তালিকায় রাশিয়ার স্থান হয়েছে বিংশতিতম. ব্রিটেনের ইকনমিস্ট জার্নাল এক রেটিং তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে রাশিয়া অনেকগুলি দেশকে পার হয়ে এগিয়ে রয়েছে. এই দেশ গুলির শিক্ষা ব্যবস্থাও বিশ্বে সর্বজন সুবিদিত. ব্রিটেনের গবেষণায় রাশিয়ার এই রকমের অবস্থান খুবই দৃষ্টান্ত মূলক. কারণ তা অন্যান্য এই ধরনের গবেষণার চেয়ে অনেক বেশী বিষয়কে হিসাবের মধ্যে নিয়েছে.

ইকনমিস্ট জার্নালের রেটিংয়ে রাশিয়া রয়েছে কুড়ি নম্বরে. আর ফ্রান্স যেমন রয়েছে শুধু ২৫ নম্বর জায়গায়. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার চেয়ে এগিয়ে থাকলেও তা খুব বেশী দূরে নয়, মাত্র ১৭ নম্বরে. এই বিশ্লেষণ ছিল অনেক দিককে নিয়ে ও তা যথেষ্ট জটিলও বটে. প্রথমতঃ, ব্রিটেনের গবেষণা শুধু উচ্চ শিক্ষার বিষয়কেই হিসাবের মধ্যে নেয় নি, বরং মাধ্যমিক শিক্ষাকেও নিয়েছে. আর এটা সমস্ত শিক্ষা ব্যবস্থার চিত্রকেই তুলে ধরে, কোন আলাদা করে বিষয়কে নয়, যা সাধারণতঃ করা হয়ে থাকে বিশ্বের অন্যান্য নেতৃস্থানীয় রেটিংয়ের ক্ষেত্রে. তাছাড়া দ্বিতীয়তঃ হল যে, ইকনমিস্ট জার্নালের বিশ্লেষকরা শিক্ষা নিয়ে সব মিলিয়ে পরিস্থিতির কথা বলছেন – দেশের সামাজিক- অর্থনৈতিক সূচক গুলি সমেত. এই ধরনের পদ্ধতি বাস্তব সম্মত ভাবে যে কোন দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রগতির মূল্যায়ণ করতে সমর্থ, তাই স্কোলকভা উদ্ভাবনী নগরীর শিক্ষা বিষয়ে আবিষ্কার কেন্দ্রের ডিরেক্টর দেনিস কভালচুক বলেছেন:

“এই বাড়তি সূচক গুলি, যা শুধু শিক্ষা ব্যবস্থাকেই বর্ণনা করে না, বরং অর্থনীতিকেই করে, তা আমাদের আরও কিছু পয়েন্ট যোগ করতে দিয়েছে. অংশতঃ, আমাদের জাতীয় বার্ষিক উত্পাদন, এই রেটিংয়ে যে সমস্ত দেশের নাম রয়েছে, তাদের অনেকের চেয়ে ভাল করেই উন্নতি করছে. আবার অন্য দিক থেকে, এই রেটিংয়ে আমরা অনেক উঁচু জায়গায় রয়েছি আরও এই কারণে যে, আমাদের স্কুলের শিক্ষা যথেষ্ট শক্তিশালী. সেখানে বেশ কয়েকটি মাপার পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে, অংশতঃ PISA ও TIMSS টেস্ট, যেগুলি স্কুলের ছেলেমেয়েদের অভ্যাস মূল্যায়ণ করে থাকে. আর এখানেই আমরা ঐতিহ্য গত ভাবেই শক্তিশালী”.

বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয় গুলির রেটিংয়ের ক্ষেত্রে যেমন সাংহাই অথবা QS World University Rankings – সাধারণতঃ হিসাবের মধ্যে এর চেয়ে কম কারণ নেওয়া হয়ে তাকে. তাদের মধ্যে প্রধান হল – বিজ্ঞান গবেষণার সংখ্যা, কতবার তার কথা বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জার্নাল গুলিতে কতগুলি প্রবন্ধ এই খান থেকে প্রকাশিত হয়েছে ও কতগুলি বৈজ্ঞানিক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, এই সব গণনা করে দেখা হয়. আর এখানেই রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় গুলি নিজেদের ঢাক নিজেরা পেটানোর অভ্যাস না থাকাতে হেরে গিয়ে থাকে. তাদের সাফল্যের কথা দেশের ভিতরে পেশাদার লোকরাই নিজেদের ক্ষেত্রে শুধু জানতে পারেন. প্রসঙ্গতঃ, এমন কি রাশিয়া এবারের সেপ্টেম্বর মাসের QS World University Rankings এ কিছুটা ভাল করতে পেরেছে, নিজেদের অবস্থান.

অন্য রকমের গবেষণাও করা হয়ে থাকে, যেগুলি আরও বেশী সঠিক চিত্র দিয়ে থাকে, এই কথা রেডিও রাশিয়াকে বলেছেন হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের শিক্ষা বিকাশ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ইরিনা আবানকিনা. তিনি বলেছেন:

“রাষ্ট্রসঙ্ঘের জীবনের গুণমান নিয়ে একটা রেটিং রয়েছে. সেখানে শিক্ষাও একটি অন্যতম সূচক. সেখানে রাজনৈতিক স্বাধীনতা, স্বাস্থ্য সংরক্ষণ প্রসঙ্গে উন্নতি, জীবনের দৈর্ঘ্য, আর একই সঙ্গে শিক্ষার গুণ মানেরও বিচার করা হয়ে থাকে. এইখানে শিক্ষার ক্ষেত্রে রাশিয়া বিশ্বের ১২৯টি তালিকাভুক্ত দেশের মধ্যে ৩০ নম্বরে রয়েছে. রাশিয়ার শিক্ষার শক্তিশালী দিক গুলি রয়েছে তার ভিত্তি মূলক শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রস্তুতি ভাল করেই করা হয়ে থাকে বলে”.

এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, সেই সমস্ত দেশ, যারা বহু অর্থ রেটিং তৈরী করার জন্য ব্যয় করেছে অথবা তাদের মধ্যে নিজেদের এগিয়ে দেওয়ার জন্যই করছে, তারা অনেক সময়েই নিজেদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার জন্য কিছুই করে না.