মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনেট বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নেওয়া নিয়ে এক নতুন আইন প্রণয়নের চেষ্টা করছে. তেহরানের উপরে চাপ বাড়ছে. তারই মধ্যে বিশেষজ্ঞরা কল্পনা করতে বসেছেন – এই চাপ এবারে কি ধরনের আকার নেবে – আর পরিনামে আমেরিকার লোকরা কি পেতে চলেছে.

ইরান তার পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে কতটা সত্ ও তারা এই নিয়ে ঘোষণার ক্ষেত্রে সত্যি কথা বলছে কি না, তা নিয়ে অনেক সময় ধরে তর্ক করা চলতে পারে. তারই মধ্যে, বাস্তব থেকে যাচ্ছে যে, পারমানবিক ক্লাব, যাকে নতুন সদস্যের জন্য বন্ধ বলে মনে করা হয়েছ, সেখানে উপস্থিত হিসাবে নানা দেশ ঢুকে পড়ছে, যারা একই সঙ্গে দুটি লক্ষ্য সাধন করতে নেমেছে. প্রথমতঃ, তাদের এলাকায় নিজেদের নেতৃস্থানীয় অবস্থান স্বীকার করানো. আর দ্বিতীয়তঃ, নিজেদের নিরাপত্তার একটা গ্যারান্টি পাওয়া. সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ: ভারত ও পাকিস্তান. নিকটপ্রাচ্য নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল এই অঞ্চলে নেতার ভূমিকায় রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদত পুষ্ট ইজরায়েল, যাদের কাছে পারমানবিক অস্ত্রের উপস্থিতি আজ সকলেরই মেনে নেওয়া বাস্তবে পরিণত হয়েছে.

একই সঙ্গে বোধগম্য হয়েছে যে, এই ধরনের পশ্চিম পন্থার কঠোর বিরোধী দেশ, যা নিকট ও মধ্য প্রাচ্যের প্রতিদ্বন্দ্বী সেই ইরান, তাদেরও পারমানবিক অস্ত্র খুবই চাই. ইরানের লোকরা প্রতিবেশীদের অভিজ্ঞতা হিসাবের মধ্যে এনেছে. আমেরিকার ইরাকে অনুপ্রবেশ ঘটেছিল সেই অজুহাতে যে, সেখানে নাকি গণহ্ত্যার অস্ত্র রয়েছে. যদিও প্যারাডক্স হল যে, সাদ্দামকে ফাঁসীতে চড়ানো হয়েছিল এই গণহত্যার অস্ত্র তার কাছে নেই বলেই. ইরানের জন্য পারমানবিক বোমা – এটা আমেরিকার লোকদের কাছ থেকে রেহাই পাওয়ার একটা গ্যারান্টি মাত্র. এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক একাডেমীর প্রাচ্য গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান আন্দ্রেই ভলোদিন বলেছেন:

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভয় পেয়েছে ইরান নিকট ও মধ্য প্রাচ্যে নেতৃস্থানীয় শক্তি হয়ে দাঁড়ানোয়. আর এটা সেই বিষয়ে, যা এক সময়ে চেয়েছিলেন ইরানের শাহ মোহাম্মেদ রেজা পেহলভি, আর যা তথাকথিত আরব বিপ্লবের ফলে একেবারেই বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে. যদি সিরিয়াতে ঘটনা এর পরেও চলতে থাকে এবং পরবর্তী সময়েও প্যালেস্টাইনে অস্থিতিশীলতা চালিয়ে যাওয়া হয় ও পারস্য উপসাগরীয় দেশ গুলিতেও তা ছড়াতে থাকে, তবে এই খনিজ তেলের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটবে. সৌদি আরব হয় ভেঙে পড়বে, নয়তো বদলে যাবে এক সংবিধানের রাজতন্ত্র হয়ে. তাদের আঞ্চলিক প্রভাব খুব দ্রুতই কমে যাবে. এর ফল হিসাবেই – ইরান ইজিপ্টের সঙ্গে সবচেয়ে প্রভাবশালী হয়ে উঠবে (আমার মতে, যদিও তাদের মধ্যে আভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে, তবুও তারা সব সময়েই চলেছে এক জোটে). পশ্চিম এর সঙ্গে সহমত হতে পারে না. কিন্তু তাদের এটা বন্ধ করার কোন শক্তিও নেই. ইরানকে ভয় দেখানোর দরকার নেই. ইরান খুব ভাল করেই বোঝে যে, তাদের উপরে কোন ধরনের আঘাতই হানা হতে পারে না. তাদের এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান এর কারণ, তার ওপরে দেশের জনগন, যারা এই ক্ষেত্রে মুহূর্তের মধ্যে দেশের প্রশাসনের সঙ্গে এক হয়ে প্রতিরোধ করতে শুরু করবে. আর মাহমুদ আহমাদিনিজাদ আগামী বছরেই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে যাবেন. খুবই সম্ভব যে, তার জায়গায় আসবে কথার বিষয়ে অনেক বেশী সতর্ক রাজনীতিবিদ. আর এই উত্তরাধিকারীকে দিয়ে পশ্চিমের পক্ষে বিশ্বের জন্য ভয় দেখানোর কাকতাড়ুয়া তৈরী করা খুবই কঠিন হয়ে যাবে”.

ইরানের ব্যাপারটা, তাদের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে একটা খুবই আদর্শ উদাহরণ তথাকথিত পারমানবিক প্রতিরোধ বা পারমানবিক ভয় দেখানোর. কিন্তু বাস্তবে তা অস্ত্র প্রসার রোধের সমস্ত প্রচেষ্টাকেই ব্যর্থ করে দেয়. ইরানের কাছে যদি পারমানবিক বোমা উদ্ভব হয়, আর তাহলেই আমরা দেখতে পাবো পারমানবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার শুরু, আর সেটা অন্য কোথাও নয়, বিশ্বের সবচেয়ে বিস্ফোরক এলাকাতেই. পারমানবিক শক্তি সমৃদ্ধ ইরানের নিরাপত্তা তখন মনে তো হয় না যে, বেড়ে যাবে.