নিজেদের এলাকা বলে আদায় করার ধান্ধা নিয়ে চিন এবারে নিজেদের নতুন পাসপোর্টে বিতর্কিত এলাকা গুলিকে নিজের বলে চিহ্নিত করে ছেপেছে. তাতে যেমন দক্ষিণ চিন সাগরের দ্বীপপূঞ্জ গুলি রয়েছে, তেমনই রয়েছে চিন ভারত সীমান্তের এলাকা গুলিও. চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজেদের বিগত ঘোষণায় বেজিংয়ের এই পদক্ষেপকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু তা স্বত্ত্বেও এশিয়ার বেশ কিছু দেশের এই পাসপোর্টের ছবি ক্ষুব্ধ হওয়ার কারণ হয়েছে.

এর প্রতিবাদে ভিয়েতনাম চিনা লোকদের নতুন পাসপোর্টে ভিসা দেওয়ার বদলে, আলাদা পাতায় ভিসা দেওয়া শুরু করেছে, যা তারা চিনা নাগরিকদের কাছ থেকে দেশে থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময়ে ফেরত নিয়ে নিচ্ছে. ভারত চিনের নতুন পাসপোর্টধারীদের জন্য আলাদা করে ভারতের মানচিত্রে নিজেদের এলাকাকে বিশেষ করে চিহ্নিত করে ভিসার স্ট্যাম্প লাগিয়ে দিচ্ছে. বিগত কয়েক দিন ধরে চিন চাইছে সকলকেই বিশ্বাস করাতে যে তাদের নতুন পাসপোর্টের মানচিত্র লাগিয়ে, তারা কোন পাসপোর্ট যুদ্ধ শুরু করে নি. বেজিংয়ে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই মানচিত্র কোনও তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে নয়. চিনের পররাষ্ট্র দপ্তর এক সরকারি ঘোষণায় আহ্বান করেছে যে, তাদের পাসপোর্টে দেওয়া মানচিত্রে বিশেষ মনোযোগ না দিতে. তারই মধ্যে এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে শুধু এই অঞ্চল নিয়ে যারা বিতর্কে মগ্ন তারাই নয়, এমনকি অন্যান্য আঞ্চলিক ও এই অঞ্চলের বাইরের এলাকার দেশও প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড ঘোষণা করেছেন যে, ওয়াশিংটনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে চিনের নতুন পাসপোর্টে বিতর্কিত এলাকা নিয়ে নিজেদের মানচিত্র বলে ছাপা হওয়াতে এই অঞ্চলে উত্তেজনার বৃদ্ধি হয়েছে. ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্টি নাতালেগাভা এই বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন তাও উল্লেখ যোগ্য, যদিও ইন্দোনেশিয়ার চিনের সঙ্গে কোন এলাকা সংক্রান্ত বিতর্ক নেই. সরকারি ভাবে জার্কাতায় মনে করা হয়েছে যে, চিনে পাসপোর্টের এই নতুন আকৃতি এক উল্টো ফল দেবে এমন পদক্ষেপ. পররাষ্ট্র মন্ত্রীর কথামতো, বেজিংয়ের এই ধরনের কাজ কোন বিতর্ক সমাধানের পথ নয়. কূটনীতিবিদ বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, এই ভাবে চিন যেন পরীক্ষা করে দেখছে, প্রতিবেশীরা কি রকমের প্রতিক্রিয়া দেখায়.

রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ভূ- রাজনৈতিক সমস্যা গবেষণা একাডেমীর সভাপতি ও প্রাক্তন কর্নেল জেনারেল লিওনিদ ইভাশভ বলেছেন যে, চিন স্পষ্টই এলাকা সংক্রান্ত বিতর্কে নিজেদের অবস্থান কড়া করছে, তিনি যোগ করেছেন:

“চিনের জন্য তাদের দ্রুত বিকাশের কারণে প্রয়োজন পড়েছে তাদের অর্থনীতির প্রয়োজনকে পররাষ্ট্র নীতির বিষয়ে প্রধান করে তোলার, তাদের রসদ ও জীবনের উপযুক্ত এলাকার সমস্যাকে. চিনের লোকরা এমনকি তাদের পাসপোর্টেও যে বিতর্কিত এলাকাকে নিজেদের করে দেখাচ্ছে, তা বলে দেয় যে, তারা এবারে আক্রমণ করতে চাইছে. চিন যে সব দেশের থেকে অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিতে এগিয়ে রয়েছে, তাদের এখন শক্তির অবস্থান থেকে কাজ করে দেখাতে চাইছে”.

কর্নেল জেনারেল ইভাশভ এই ধারণার সঙ্গে একমত যে, নতুন পাসপোর্ট দেওয়া এক রকমের শুরুর পরীক্ষা আর তারা এখনই খোলাখুলি বিরোধে যেতে তৈরী নয়. তারই মধ্যে বহু বিশেষজ্ঞই উল্লেখ করেছেন যে, এই ধনের উদ্ভাবনী প্রক্রিয়া সমস্যার সমাধানকে মোটেও এগিয়ে আনে না. পরিস্থিতি এমনিতেই যথেষ্ট কঠিন, তার উপরে আবার নিয়মিত ভাবেই চাপানো হচ্ছে নতুন করে বিরক্তির কারণ. আর এই ধরনের বিরক্তির কারণ একই সঙ্গে বহু দেশের জন্যেই হয়েছে এই নতুন চিনে পাসপোর্ট. কিছু দিন আগের আসিয়ান সংস্থার শীর্ষ বৈঠকে চিন ও বেজিং একেবারেই বদ্ধ পরিকর ভাবে এই এলাকা সংক্রান্ত বিবাদকে আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়াতে পরিণত করতে দেয় নি. চিনের কূটনীতিবিদেরা ঘোষণা করছেন যে, তারা তৈরী আছেন এই প্রশ্ন নিয়ে শুধু দ্বিপাক্ষিক ভাবেই আলোচনা করতে, আর তা শুধু যাদের স্বার্থ রয়েছে, তাদের সঙ্গেই. এরই মধ্যে নিজেদের কাজ দিয়ে বেজিং বক্র ভাবে নিজেদের বিরুদ্ধেই জনমত তৈরী করে চলেছে, চিনের বিরুদ্ধে জোট তৈরী করতে, যা সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই – এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় যারা চিনের প্রধান স্ট্র্যাটেজিক শত্রু, - তারা সব সময়েই তৈরী আছে সহায়তা করার.