রাশিয়ার সর্বাধুনিক বহুমুখী পারমানবিক শক্তি চালিত ডুবোজাহাজ “সিয়েভেরোদ্ভিনস্ক”, যা ৮৮৫ নম্বর প্রকল্প “ইয়াসেন” অনুযায়ী তৈরী করা হয়েছে তার থেকে প্রথমবার ভূমি লক্ষ্য করে শব্দাতীত রকেট ছোঁড়া হয়েছে. কারখানাতে এই জাহাজ পরীক্ষা করে দেখার সময়সীমা শেষ হয়ে আসছে, আর খুবই আসন্ন কয়েক মাসের মধ্যে নৌবাহিনীকে এই জাহাজ দেওয়ার কথা রয়েছে. “সিয়েভেরোদ্ভিনস্ক” আটটি বহুমুখী পারমানবিক শক্তি চালিত যুদ্ধপোযোগী ডুবোজাহাজের মধ্যে হতে চলেছে প্রথম, যা ২০১১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে রাশিয়ার নৌবাহিনীকে দেওয়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রীয় সামরিক অস্ত্র সজ্জা আধুনিকীকরণের পরিকল্পনার মধ্যে.

“সিয়েভেরোদ্ভিনস্ক” জলে ছাড়া হয়েছিল ২০১০ সালের জুন মাসে, আর এক বছর বাদে এই জাহাজ চলাফেরা নিয়ে পরীক্ষা করতে বের হয়েছিল. এই ডুবো জাহাজের অনেক কিছুই দেশের জাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রথমবার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে সর্বাধুনিক হাইড্রো অ্যাকাউস্টিক কমপ্লেক্স “ইরতীশ-অ্যাম্ফোরা” যা খুবই বড় মাপের বলয়াকৃতি অ্যান্টেনা ও তা লাগানোর জন্য ডুবোজাহাজের সমস্ত অগ্রভাগের নাসিকা অঞ্চল ব্যবহার করতে হয়েছে. এই ধরনের সিদ্ধান্ত আমাদের সাহায্য করেছে এই কমপ্লেক্সের কাজ করার ক্ষমতা বৃদ্ধিতে. এই ধরনের অ্যান্টেনা ব্যবহার করার ফলে টর্পেডো ছোঁড়ার ব্যবস্থাও স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে, বর্তমানে তা রয়েছে জাহাজের নীচে মাঝামাঝি জায়গায়, সামনের দিক থেকে সরে এসে. এই জাহাজের প্রধান অস্ত্র হল রকেট ব্যবস্থা – তাতে আটটি সব রকমের রকেট লাগানো যায় এমন ব্যবস্থা থেকে একই সঙ্গে ২৪ ধরনের রকেট ভর্তি করা সম্ভব. সাধারণত এই গুলি শব্দাতীত জাহাজ বিধ্বংসী রকেট “ওনিক্স”, আর বিভিন্ন ধরনের রকেট এবং টর্পেডো রকেট কমপ্লেক্স “ক্যালিবার” ধরনের, তাছাড়া ডানা ওয়ালা রকেট “গ্রানাত”. এই ধরনের বিভিন্ন ধরনের রকেট একসাথে ব্যবহার করার সম্ভাবনা থাকায় এই ৮৫৫ প্রকল্পের ডুবোজাহাজ বাস্তবেই বহুমুখী জাহাজে পরিণত হতে পারে, যা যে কোন ধরনের কাজই করতে সক্ষম.