রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে বিশেষ ব্রিগেড যোগ করা হতে পারে. বহু দেশে এই ধরনের ব্রিগেড “কম্যাণ্ডো” নামে উল্লেখ করা হয়ে থাকে. এই ধরনের গোষ্ঠী তৈরী করার জন্য কেন্দ্রীয় দপ্তরের একদল নেতৃত্ব ও রাশিয়ার প্রধান গুপ্তচর বিভাগের তরফ থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সের্গেই শইগুর কাছে আবেদন করা হয়েছে. এক মাস আগে এই প্রকল্প কোন রকমের কারণ না দেখিয়ে বাতিল করেছিলেন তখনকার প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রধান আনাতোলি সেরদ্যুকোভ.

কম্যাণ্ডো রাশিয়ার নাগরিকদের রক্ষা করতে বাধ্য, যাদের দেশের বাইরে বন্দী করে রাখা হতে পারে. তাদের কোন স্থানীয় সংঘর্ষের এলাকা থেকে বের করে আনা ও নানা রকমের জঙ্গী গোষ্ঠী ধ্বংস করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে. আর যদি যুদ্ধ লাগে, তবে প্রতিপক্ষের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে ধ্বংস করে দেওয়া জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে, তারই সঙ্গে নষ্ট করে দেওয়া যাবে স্ট্র্যাটেজিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোন কেন্দ্র.

এই কাঠামোর নেতৃত্ব সম্বন্ধে মডেল তৈরী করতে গিয়ে রাশিয়ার জেনারেলরা প্রস্তাব করেছিলেন ফ্রান্স, জার্মানী ও গ্রেট ব্রিটেনের একই ধরনের বাহিনীর থেকে অভিজ্ঞতা ব্যবহার করতে, আর প্রকৌশলগত বিভাগ তৈরীর বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতার উপরে নির্ভর করার. এই প্রকল্পের স্রষ্টারা মনে করেন যে, এই ধরনের কাজের জন্য প্রধান কর্মী হতে পারে “সেনেঝ” নামের বিভাগের লোকরা. আজ এই বিভাগ প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে. আর কোন একটি সামরিক এলাকার বিশেষ ব্রিগেড ও পরিবহন বিমান বাহিনীকে বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া হবে তাদের অপারেশনে গোলা ও বোমা বর্ষণের ক্ষেত্রে সহায়তা করার জন্য.

রাশিয়ার জেনারেলদের উদ্যোগ খুবই উপকারে আসতে পারে বলে মনে করে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস বিরোধী বিভাগ “আলফার” ভেটেরানদের সভাপতি সের্গেই গনচারভ বলেছেন:

“এই ধারণা ব্রিগেড তৈরীর বিষয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি দিতে পারে আর আমাদের সমস্ত বিশেষ বিভাগকে একটি সম্মিলিত মুষ্টিতে পরিণত করতে পারে. রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিভাগের যেমন তৈরী করা রয়েছে এক বিশেষ কাজের জন্য মাধ্যম, যারা খুবই সাফল্যের সাথে সন্ত্রাসের সঙ্গে লড়াই করছে. কিন্তু আমরা যদি মনে করি যে, আমাদের দরকার একটা শক্তিশালী মুষ্টির, যা স্থানীয় যুদ্ধে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে আজ এই ধরনের ধারণা প্রশ্রয় পেতেই পারে”.

আজকের দিনে রাশিয়াতে “সেনেঝ”, “আলফা”, “ভীমপেল” ও আরও নানা বিশেষ বিভাগ রয়েছে. তারা স্থানীয় যুদ্ধের সময়ে কাজ করতেই পারে. কিন্তু তাদের শুধু বড় রকমের দায়িত্ব দিলেই চলবে না বলে মনে করে সের্গেই গনচারভ বলেছেন:

“স্থানীয় যুদ্ধের জন্য প্রয়োজন বেশ কয়েক হাজার পেশাদার যোদ্ধার, যারা খুব ভাল করে সশস্ত্র. আমি “আলফা”, “ভীমপেল” অথবা “সেনেঝ” ও অন্য বিভাগের কর্মী সংখ্যার বিষয়ে কোন গোপন খবর ফাঁস করতে চাই না, তবুও এরা সংখ্যায় অনেক কম. তাই যদি কেউ এখন ভাবে যে, আলফা দল স্থানীয় যুদ্ধে অংশ নিতেই পারে ও সারা রাষ্ট্রের সমস্যা একাই সমাধান করতে পারে, - তবে এটা অবাস্তব. এই ধারণার অর্থ হল বিরাট সংখ্যায় বিশেষ বাহিনী তৈরী করা”.

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক উত্স জানিয়েছেন যে, আজ থেকে পাঁচ বছর আগেই বিশেষ অপারেশনের জন্য নেতৃত্ব ও সেই বিশেষ ব্রিগেড গঠনের জন্য কাজ দেওয়া হয়েছিল. বর্তমানে এই প্রকল্প আবার করে শুরু করা হচ্ছে. প্রাথমিক ভাবে তাদের জন্যই, যাতে রাশিয়ার নাগরিকদের বিশ্বের সমস্ত উত্তপ্ত জায়গায় বাঁচানো যায়, তাই এই ধরনের ভরসা নিয়ে সামাজিক – রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসেয়েভ বলেছেন:

“বর্তমানে পরিস্থিতি খুবই পূর্বাভাস দেওয়া অযোগ্য, প্রাথমিক ভাবে সেই নিকট ও মধ্য প্রাচ্যেই. কেউই বলতে পারেন না যে, এই সব বিরোধ সেখানে কতদিন চলবে. তার ওপরে আমরা যা এখন দেখতে পাচ্ছি যে, এই ধনের সংঘর্ষে বিশাল সংখ্যক লোকের প্রাণহানি হচ্ছে, যারা লড়াই করছে, তারা সকলেই খুবই ক্রুদ্ধ, তাদের বাস্তবে কিছুই থামিয়ে রাখতে পারছে না. এই ধরনের পরিস্থিতিতে, যদি কোন রকমের বিপর্যয়ের সময়ে করার উপযুক্ত কাজ না করা হয়, তবে রুশ নাগরিকরা মারা যেতেও পারেন. আমরা বিশ্বাস করি যে, সরকারি পথে তাদের সেই সব জায়গা থেকে বের করে আনা সম্ভব নয়. আর এই দৃষ্টিকোণ থেকে কম্যাণ্ডো ব্রিগেড তৈরী করা খুবই যুক্তিযুক্ত”.

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ অপারেশনের জন্য নেতৃত্ব তৈরী করা হলে, তা উচিত্ হবে সরাসরি দেশের সর্বময় সামরিক কর্তার অধীনে রাখা. তিনি হলেন দেশের রাষ্ট্রপতি. বর্তমানে এই পদে রয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন.