0বৃহস্পতিবারে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভায় প্যালেস্টাইনকে পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা দেওয়া নিয়ে ভোট গ্রহণের ফলে সেই দেশ এই মর্যাদা পেতেই পারে. প্যালেস্টাইনের এই নতুন মর্যাদা পাওয়ার জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘের বেশীর ভাগ সদস্য দেশের সমর্থন পাওয়ার দরকার হবে. আর এটা হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশী রকমই রয়েছে.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরকারি মুখপাত্র আলেকজান্ডার লুকাশেভিচ এই তথ্য সমর্থন করেছেন যে, মস্কো রাষ্ট্রসঙ্ঘে পর্যবেক্ষক দেশের মর্যাদা পাওয়ার জন্য সেই রাষ্ট্রের আবেদনকে সমর্থন করবে. একই ধরনের অবস্থান চিনও সমর্থন করেছে. বুধবারে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছে ফ্রান্স. এই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান লোরান ফাবিউস ঘোষণা করেছেন যে, প্যারিস প্যালেস্টাইনের জাতীয় প্রশাসনের আবেদনকে সমর্থন করবে রাষ্ট্রসঙ্ঘের পর্যবেক্ষক দেশের মর্যাদা পাওয়ার জন্য.

তারই মধ্যে হোয়াইট হাউসের সরকারি মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড ঘোষণা করেছেন যে, যদি রাষ্ট্রসঙ্ঘে প্যালেস্টাইনের মর্যাদার প্রশ্ন তোলা হয় তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিপক্ষে ভোট দেবে.

গ্রেট ব্রিটেন খুবই বেশী সময় নিয়েছে কি ভাবে ভোট দেওয়া যায় তা নিয়ে চিন্তায়. সম্ভবতঃ, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে বসেছিলেন. কিন্তু সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, লন্ডনের পক্ষে বেশী যুক্তিসঙ্গত মনে হয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে অন্যান্য সদস্য দেশ গুলির অবস্থান. ব্রিটেনের সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে যে, লন্ডন প্যালেস্টাইনের আবেদনকে সমর্থন করতে তৈরী রয়েছে তাদের রাষ্ট্রসঙ্ঘে মর্যাদা বৃদ্ধি করার প্রসঙ্গে. ফ্রান্স ও গ্রেট ব্রিটেনের অবস্থানের বিষয়ে যে মারপ্যাঁচ রয়েছে তা রুশ রাজনীতিবিদ স্তানিস্লাভ তারাসভ ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

“রাষ্ট্রসঙ্ঘের পর্যবেক্ষক দেশের মর্যাদা দেওয়া, এটা অবশ্যই একটা বাস্তব সত্য. সব বিচার করলে দেখা যাবে যে, প্যালেস্টাইন স্বয়ং শাসিত এলাকাকে স্বীকার করে নেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত হবে. কিন্তু তা কেন? কারণ হামাস – এটা চরমপন্থী ঐস্লামিক গোষ্ঠী. মাখমুদ আব্বাস - এটা নিরপেক্ষ প্রশাসন. যদি পশ্চিম মাখমুদ আব্বাসকে ডোবায় তবে তারা হামাস গোষ্ঠীকেই শক্তিশালী করবে”.

একই সঙ্গে প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফ থেকে মর্যাদা বৃদ্ধি অনেক গুলি সমস্যাকে আবার নগ্ন করে দেবে. অংশতঃ, তারা ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইনের প্রশাসনের মধ্যে ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তিকে শেষ করে দেবে, যেখানে দুই পক্ষই রাজী হয়েছিল একে অপরকে না জানিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেবে না, যা তাদের দুই পক্ষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য. এই বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ দিমিত্রি মারিয়াসিস বলেছেন:

“প্যালেস্টাইন স্বাধীনতা সংগঠনের নেতার ইজরায়েলের মতের অপেক্ষা না করেই রাষ্ট্রসঙ্ঘে প্রবেশের লক্ষ্য স্থির করা বলে দেয় যে, বাস্তবে প্যালেস্টাইন অসলো চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে. আর এর অর্থ হল, ইজরায়েল প্যালেস্টাইনের এই সংগঠনের সঙ্গে কোন রকমের বোঝাপড়া না করেই এক তরফা পদক্ষেপ নিতে পারে”.

একই সঙ্গে অসলো চুক্তিও তার উপরে যে রকম আশা করা হয়েছিল, সেই রকম ভাবে নিকট প্রাচ্যে কোনও শান্তি নিয়ে আসতে পারে নি. আর ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইন তাদের যা আলোচনার বিষয় বস্তু হওয়ার দরকার ছিল, সেই রকমের বহু প্রশ্নের ক্ষেত্রেই একতরফা পদক্ষেপ নিয়েছে. সুতরাং বেশীর ভাগ দেশই যারা তৈরী থাকবে প্যালেস্টাইনের পক্ষ থেকে আবেদনকে সমর্থন করতে, তারা আশাও করবে যে, প্যালেস্টাইনের লোকরা ইজরায়েলের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও নিজেদের ইচ্ছার কথা জোর দিয়েই বলবে.