চিনের প্রশাসন দুর্নীতির সঙ্গে লড়াই আরও কঠোর করছে. চিনের রাষ্ট্রায়ত্ত্ব ব্যাঙ্ক গুলির ও বিনিয়োগ কোম্পানী গুলির উচ্চ পদস্থ কর্মীদের ডিসেম্বর মাস থেকে দামী গাড়ী ও ঘর বাড়ী কেনা বারণ হচ্ছে. আজকের দিনে এটা সরকারি কর্মচারীদের পক্ষে একটি সবচেয়ে প্রসারিত বেআইনি ভাবে পাওয়া কালো টাকা সাদা করার পদ্ধতি.

এক সঙ্গে ১২টি দলিল গৃহীত হয়েছে, যেগুলি এই ধরনের কাঠামোর কর্মীদের আয় ও ব্যয়ের বিষয়কে স্বচ্ছ করে দেবে. সরকারি কর্মচারীদের অংশতঃ, এখন থেকে নিজেদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য অভিজাত বিলাস বহুল গাড়ী ক্রয় করা বারণ হয়েছে. আর তারই সঙ্গে সরকারি অর্থে কোন ব্যক্তিগত বসবাসের জায়গা ক্রয়, তার মেরামত অথবা ভাড়া দেওয়া যাবে না.

এটি নব নির্বাচিত গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক শি জিনপিংয়ের দুর্নীতির কঠোর মোকাবিলা করা নিয়ে ভাষণের প্রসঙ্গে প্রশাসনের একটি প্রথম প্রতিক্রিয়া. তিনি দেশের সমৃদ্ধির বিষয়ে এই বিষয়কেই একটি অন্যতম বিপদ বলে মনে করেছেন. তিনি দেশের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ পরিষদের অধিবেশনে ঘোষণা করেছেন যে, দুর্নীতির সমস্যা যত বেশী তীক্ষ্ণ হবে, ততই বেশী সম্ভাবনা রয়েছে যে, শেষমেষ এই বিষয়ই যেমন দল, তেমনই দেশকেও হত্যা করবে. এই প্রসঙ্গে শি জিনপিং মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সর্ব রন্ধ্রে অনুপ্রবেশ করা দুর্নীতিই বিগত কয়েক বছরে আরব প্রাচ্যের দেশ গুলিতে বহু প্রশাসনের ধ্বংস হওয়ার কারণ হয়েছে.

নতুন রাজনৈতিক নেতা এই প্রথম প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, দলের কর্মীদের পক্ষ থেকে আইন ভঙ্গ করাতে জন সাধারণের আতঙ্ক হয়েছে. এই পরিস্থিতিতে এটাও সত্য যে, পার্টির পক্ষ থেকে দুর্নীতির মোকাবিলায় করা প্রথম সাফল্য গুলিকেও প্রকাশ্যে তুলে ধরা হয়েছে. অংশতঃ, গত পাঁচ বছরে গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির কেন্দ্রীয় নিয়মানুবর্তিতা পরিষদ প্রায় ছয় লক্ষ ৭০ হাজার পার্টির ঘুষখোর দের শাস্তি দিয়েছে. এই একই সময়ের মধ্যে প্রায় ৮২ হাজার মামলা ব্যবসার ক্ষেত্রে বিচার করা হয়েছে, যার মোট অর্থ মূল্য তিনশ পঞ্চাশ কোটি ডলারের সমান. পার্টির এই কাঠামো, যার কাজ পার্টির সদস্যদের মধ্যে খারাপ লোকদের বাদ দেওয়া, তা আসন্ন ভবিষ্যতে আরও বাড়বে, এই রকম মনে করে সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর ভ্লাদিমির পোর্তিয়াকভ বলেছেন:

“কেন্দ্রীয় নিয়মানুবর্তিতা পরিষদের নতুন প্রধান করা হয়েছে ভান শিশানকে – যিনি কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের একজন স্থায়ী সদস্য. এর আগে পর্যন্ত তিনি ছিলেন কার্যকরী উপ প্রধান মন্ত্রী, ফলে তিনি সম্ভাব্য দুর্নীতি কর্মের অর্থনৈতিক ও আর্থিক দিকটি নিয়ে খুব ভাল করেই ধারণা রাখেন. তার ওপরে তিনি যথেষ্ট কঠোর ও দাবী আদায় করতে জানা লোক. সুতরাং দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, এই ক্ষেত্রে চিনের পার্টির তরফ থেকে একেবারেই আয়োজনের বিষয়ে স্পষ্ট দুর্নীতির সঙ্গে লড়াই করার ইচ্ছা আছে”.

খুব সম্ভবতঃ, আসন্ন সময়ে চিনে দুর্নীতি বিরোধী তদন্তের সংখ্যা বৃদ্ধি হবে. আর যত দ্রুত সম্ভব সেই সমস্ত ঘুষখোর লোক, যাদের চিনে বলা হয়েছে কীট হিসাবে, যারা দলের ও দেশের দেহ কুরে খাচ্ছে, তাদের ভাগ্যে কে কোন পদে রয়েছে, তার অপেক্ষা না করেই প্রত্যেককে বুঝতে দেওয়া হবে আইনের শক্তি কতখানি. একই সময়ে এমন একটা ব্যবস্থাও করা হচ্ছে, যাতে আইনের তরফ থেকে যে দলীয় কর্মী দুর্নীতির কালিমা লিপ্ত নয় অথচ তাঁর নামে দুর্নাম রটানো হয়েছে, তাঁরও মর্যাদা যাতে রক্ষা করা সম্ভব হয়, সেই কারণে তৈরী হচ্ছে. এই প্রসঙ্গে চিনের এক বীমা কোম্পানী “পিং অ্যান”, যারা “নিউ ইয়র্ক টাইমস” সংবাদের পত্রের বিরুদ্ধে মামলা করার অভিপ্রায় জানিয়েছে, তাদের উপরে লক্ষ্য করা যেতে পারে. কিছু দিন আগে এই সংবাদপত্রে একটি নতুন তথ্য ছাপা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী ভেন ঝিয়াবাও এর আত্মীয়রা এই কোম্পানীরই বড় শেয়ার হোল্ডার. চিনের বীমা কোম্পানীর তরফ থেকে প্রকাশিত ঘোষণায় বলা হয়েছে যে, এই অভিযোগের ক্ষেত্রে যুক্তির অভাব রয়েছে ও বেশ কিছু গুরুতর ভুল করা হয়েছে. আর এই তথ্য বিকৃত ও মূল বিষয় থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবে বের করা হয়েছে.

চিন সব সময়েই খুব স্নায়ু বৈকল্যের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া প্রদর্শন করে থাকে, যখন বাইরের দেশ থেকে তাদের দেশের সমস্যা নিয়ে কিছু বলা হয়. অংশতঃ, পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যমের ঘোষণা যে, চিনে কোন স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা নেই. আর এটা ছাড়া দুর্নীতি অতিক্রম করা সম্ভব নয়. কিন্তু এই বারে সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, পিং অ্যান কোম্পানীর কিছু যুক্তি রয়েছে, যা বিদেশের প্রচারের বিরুদ্ধে স্রেফ আবেগের বশে প্রতিক্রিয়া না হয়ে বিষয়টি আইনের ক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে. এই প্রসঙ্গে ভ্লাদিমির পোর্তিয়াকভ বলেছেন:

“চিনের জন্য এই ধরনের কাজ অনেকটাই বিরল ধরনের. প্রধানমন্ত্রীর নামে, তাঁর মর্যাদার বিরুদ্ধে খুবই গুরুতর ছায়া ফেলেছে. খুবই স্বাভাবিক যে, এই কোম্পানী তাদের প্রখ্যাত রাজনৈতিক নেতার মর্যাদা বিশ্ব সমাজের চোখে রক্ষার চেষ্টা করবে”.

“পিং অ্যান” অংশতঃ, সাবধান করে দিয়েছে যে, তারা আইন সঙ্গত ভাবে কাজ করবে ও আর্থিক ও মর্যাদার ক্ষতি পূরণ আদায় করে ছাড়বে, যা এই তথ্য বিকৃতি প্রকাশের ফলে কোম্পানীর হয়েছে. এর আগে চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছিল যে, “নিউইয়র্ক টাইমস” “চিনের নামে কুত্সা রটাচ্ছে, আর তার পিছনে রয়েছে গোপন উদ্দেশ্য”.