“বাংলাদেশ চায় সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ হতে, প্রাথমিক ভাবে পর্যবেক্ষক দেশ হিসাবে থাকার অধিকার পেতে”, এই কথা “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন ২২ থেকে ২৫শে নভেম্বর মস্কো সফরে এসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী শ্রীমতী দীপু মনি. তাঁর মস্কো সফরে আলেচনা হয়েছে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে. মন্ত্রী বলেছেন যে, আমরা সন্তুষ্ট সেই বিষয়ে যে, রাশিয়া সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় আমাদের অংশ গ্রহণের আগ্রহে সমর্থন করেছে.

পররাষ্ট্র মন্ত্রী পদে থাকা কালীণ শ্রীমতী দীপু মনি এই নিয়ে তৃতীয়বার মস্কো এসেছেন. তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া বাংলাদেশের নতুন বন্ধু নয়. আমরা সোভিয়েত দেশ যে আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধে সাহায্য করেছে, তার মূল্য দিয়ে থাকি. পরবর্তী কালে সোভিয়েত উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলিতে বহু সহস্র বাংলাদেশের নাগরিককে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে. তাঁরা বর্তমানে বাংলাদেশের বহু অর্থনৈতিক ভাবে উল্লেখ যোগ্য প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হয়েছেন. বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ে আমরা চেষ্টা করছি রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের যোগাযোগকে আরও বৃদ্ধি করতে. এই কথা উল্লেখ করে শ্রীমতী দীপু মনি বলেছেন:

“বাংলাদেশের জ্বালানী ক্ষেত্রে রাশিয়া এক বৃহত্ সহযোগী দেশ, বিশেষত বিদ্যুত উত্পাদনের ক্ষেত্রে. সোভিয়েত দেশের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম ও ঘোড়াশালে তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী হয়েছিল. এই দুই কেন্দ্র থেকে বিগত দশক গুলিতে বাংলাদেশের মোট চাহিদার প্রায় তিরিশ শতাংশ বিদ্যুত শক্তি সরবরাহ করা হয়েছিল. বিগত তিন বছরে আমরা এই কেন্দ্র গুলি থেকে উত্পাদন বাড়িয়েছি আরও দ্বিগুণ. আর আমরা রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের জ্বালানী ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়িয়ে চলেছি. বাংলাদেশে এখন গাজপ্রম সংস্থা প্রাকৃতিক গ্যাস উত্পাদন করছে. তা করা হচ্ছে বহু গ্যাস উত্তোলন কূপ থেকেই, যে গ্যাস ব্যবহার করা হচ্ছে তাপ বিদ্যুত কেন্দ্রের উত্পাদনে”.

কিন্তু তাপ বিদ্যুত কেন্দ্র, যা কার্বন যৌগে চালানো হচ্ছে, তা বাংলাদেশের জ্বালানীরচাহিদা পূরণ করতে পারছে না. এই সমস্যার সমাধান করার জন্য পারমানবিক জ্বালানী উত্পাদনের দিকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে. রাশিয়ার সঙ্গে রূপপুরে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা আজ কয়েক বছর ধরেই চলছে ও তা স্বাভাবিক বলেই পররাষ্ট্র মন্ত্রী মনে করেন ও তিনি বলেছেন যে, এই সংক্রান্ত আলোচনা এখন বাস্তবায়নের পথে. তিনি যোগ করেছেন:

“ইতিমধ্যেই নির্মাণ সংক্রান্ত পাঁচটি দলিল স্বাক্ষর হয়েছে, কাজ হচ্ছে কয়েকটি শেষ দলিল নিয়ে. রূপপুরের পারমানবিক প্রকল্পে দুটি এক হাজার মেগাওয়াচের রিয়্যাক্টর লাগানো হবে, এখানে নির্মাণ ও যন্ত্রপাতি যোগান দেওয়া ছাড়া রাশিয়া এই কেন্দ্র চালানোর জন্য বিশেষজ্ঞও তৈরী করে দেবে. এখান থেকে বাংলাদেশের বিশ্ব বিদ্যালয়ের জন্যও বিশেষ পড়াশোনার প্রোগ্রাম পাঠানো হবে, যা বাংলাদেশেই পারমানবিক জ্বালানী বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তৈরী করতে সাহায্য করবে”.

রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমান বৃদ্ধির জন্যও বাস্তব সব প্রকল্প রয়েছে. বর্তমানে দীপু মনির মতে এই পরিমান খুবই কম – মাত্র ২৫ কোটি ডলার, দুই দেশের সম্ভাবনার কথা বিচার করলে রাশিয়াতে বাংলাদেশে তৈরী পোষাক ও বাংলাদেশ থেকে সামুদ্রিক দ্রব্য রপ্তানী করলে এই পরিমান আরও অনেক বাড়তে পারে. এই দিকে অগ্রগতির পথ এখন তত্ত্বগত ভাবেই বাড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়ার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় অন্তর্ভুক্ত হওয়াতে. বাস্তবে এই বিষয়ে রাশিয়া বেলোরাশিয়া ও কাজাখস্তানের শুল্ক সঙ্ঘই বাধা সৃষ্টি করেছে, তবুও আমরা এই সঙ্ঘের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনায় বর্তমানে অগ্রগতি করতে পেরেছি. তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলাদেশ স্থায়ী ভাবেই রাশিয়া থেকে দানাশষ্য, কৃষির উপযুক্ত যন্ত্র ও সার কিনে থাকে. আর রাশিয়ার সঙ্গে বিজ্ঞান ও সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও সহযোগিতায় আগ্রহী. পররাষ্ট্র মন্ত্রী দীপু মনি বলেছেন যে, এই দিক দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করছেন বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের আগামী বছরে রাশিয়া সফরের আগে, যেখানে আশা রয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল স্বাক্ষরিত হবে.