মঙ্গলবারে বাংলাদেশে শোক দিবস পালিত হচ্ছে. দেশে জামা কাপড় তৈরীর কারখানায় আগুনে পুড়ে মৃতদের উদ্দেশ্যে শোক পালন করা হচ্ছে. জাতীয় পতাকা অর্ধ নমিত রাখা হয়েছে.

গত রবিবারে ভোর রাতে সাভার শহরে কাপড় জামা তৈরীর কারখানায় আগুন লাগাতে একশ জনেরও বেশী লোকের মৃত্যু হয়েছে. সোমবার সকালে ঢাকা শহরের থেকে সামান্য দূরে আরও একটি কারখানায় আগুন লাগার ফলে আরও কিছু মানুষের প্রাণহানী হয়েছে.

ঢাকা শহরের রাস্তায় সোমবারে কয়েক হাজার কাপড় জামা তৈরীর কাজে যুক্ত শ্রমিকরা মিছিল করতে বেরিয়েছিলেন. প্রতিবাদ যাঁরা করছিলেন, তাঁরা অবিলম্বে এই আগুন লাগার ঘটনার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের শাস্তির দাবী করেছেন, কারণ তাঁরা মনে করেন যে, সরকার কোন কাজ করছে না. তাঁরা উপকণ্ঠের শহর আশুলিয়াতে, যেখানে আগুন লেগেছিল সেখানে ও ঢাকা – টাঙ্গাইল যাওয়ার সড়ক ও রাস্তা বন্ধ করে দেন. বহু সেলাই কারখানাতেই বন্ধ পালন করা হয়েছে.

প্রাথমিক ভাবে মনে করা হয়েছিল যে, এই আগুন লাগার কারণ ছিল শর্ট সার্কিট. বাংলাদেশের কাপড়ের কারখানায় আগুন মোটেও বিরল ঘটনা নয়. পুরনো হয়ে যাওয়া যন্ত্রপাতি, কাজের অনুপযুক্ত ও আজেবাজে জিনিষে ভর্তি জায়গা, শ্রম সংক্রান্ত নিরাপত্তার সম্পূর্ণ অভাব – এই সবই বাংলাদেশে এই ধরনের কল কারখানায় প্রায়ই আগুন লাগার কারণ.

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্লামেন্টে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেছেন অন্য এক ধারণার কথা. তাঁর কথামতো – এই আগুন লাগার কারণ- অন্তর্ঘাত. কারখানার ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, কি করে এক মহিলা এই বাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল. দুজন সন্দেহভাজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে. এই ঘোষণা এক বোমা বিস্ফোরণের মত প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে. প্রধানমন্ত্রীর কথায় এই কাণ্ড ইচ্ছা করেই করা হয়েছে দেশের মন্ত্রীসভা ও তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ভাবেই.

এই ধরনের কাজ খুবই গুরুতর ভাবে পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে পারে, বলে মনে করেছেন শেখ হাসিনা.

এই ভাবেই সাভার শহরের ট্র্যাজিক ঘটনা এক রাজনৈতিক প্রতিধ্বনী উদ্ভব করেছে. রাজনৈতিক ভাবে মূল্য দেওয়াতে এই ঘটনা গুলি সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে কঠোর বিরোধের আরও এক মঞ্চ হতে পারে – যা এমনিতেই রয়েছে বর্তমানের প্রধানমন্ত্রীর পিতা ও জাতির প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমানের হত্যা নিয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত নিয়ে বিরোধের প্রসঙ্গে. এই বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করে মস্কোর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ফেলিক্স ইউরলভ বলেছেন:

“এই ট্রাইব্যুনালের কাজের ফলে মুজিবর রহমানের হত্যা কাণ্ড নিয়ে বহু ঘটনা আজ নজরে আসছে. স্বাভাবিক ভাবেই বহু নতুন তথ্যের স্বরূপ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, যা অন্য বিরোধী শক্তিদের পছন্দ হচ্ছে না, আর তারা প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে, এটা সে রকম নয়. অর্থাত্ ইতিহাসের তথ্য বর্তমানের বাস্তবকেই প্রভাবিত করছে”.

বাংলাদেশে বর্তমানের সরকার ও তার প্রধানমন্ত্রী সকলের জন্য পছন্দের নয়. নেতৃস্থানীয় বিরোধী দল ও তার নেতৃত্বে থাকা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দাবী করছে শেখ হাসিনার পদত্যাগের. বিরোধীদের মতে, তিনি ক্ষমতায় এসেছেন নির্বাচনে কারচুপি করে. খালেদা জিয়া শেখ হাসিনাকে অভিযুক্ত করেছেন যে, তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে তাঁর দলের সদস্যদের হেনস্তা করছেন.

0সাভার শহরের ট্র্যাজেডির রাজনৈতিক রঙ লাগাতে তা বাংলাদেশের আশু প্রয়োজনীয় শ্রম নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে দ্রুত উন্নতি করার কাজকে ব্যহত করবে. ২০০৬ সাল থেকেই বিভিন্ন কাপড় জামা সংক্রান্ত কারখানায় বহু দুর্ঘটনায় ও আগুনে পুড়ে অন্ততঃ পাঁচশো শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে. আর বাংলাদেশের এই শিল্পে বর্তমানে যুক্ত রয়েছেন প্রায় বিশ লক্ষ মানুষ. এই মানুষরা রাজনৈতিক বিরোধের শিকার হতে বাধ্য নন.