মঙ্গলবারে জর্ডন নদীর পশ্চিম পারে রামাল্লা শহরে প্যালেস্টাইনের প্রাক্তন নেতা ইয়াসার আরাফাতের মরদেহ কবর খুঁড়ে তোলা হচ্ছে. এই প্রক্রিয়া করতে হচ্ছে, কারণ যাতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা, তার মধ্যে রাশিয়ার বিজ্ঞানীরাও রয়েছেন, তারা দেহ থেকে মাংসের নমুনা সংগ্রহ করতে পারেন. ২০০৪ সালে সবচেয়ে বিখ্যাত প্যালেস্তিনীয় ব্যক্তির মৃত্যুর পর থেকে আট বছর কেটে গিয়েছে, কিন্তু এই সময়ের মধ্যে আরাফাতকে যে বিষ দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল, তা নিয়ে সন্দেহ কেটে যায় নি. সত্য কথা উদ্ঘাটন করার জন্যই আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের ডেকে আনা হয়েছে.

আরাফাতের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা এই সম্বন্ধে কি ভাবেন? “রেডিও রাশিয়া” এই প্রশ্ন নিয়ে আরাফাতের ঘনিষ্ঠ মহলের এক সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে উপস্থিত হয়েছিল, তিনি প্যালেস্টাইনের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শ দাতা ও প্যালেস্টাইনের প্রতিরক্ষা মূলক নিরাপত্তা বিভাগের কর্তা জিব্রাইল রাজুব. বর্তমানে তিনি প্যালেস্টাইনের নেতৃত্বের সংগঠনের সদস্য ও পিএলও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, যা আরাফাত নিজেই সৃষ্টি করেছিলেন. তাঁর সাক্ষাত্কার এখানে দেওয়া হল.

আরাফাত তাঁর জীবনের শেষ বছর গুলিতে খুবই ভুগেছিলেন. তাঁর রোগভোগের সময়ে আপনি প্যালেস্টাইনের একটি বিশেষ বাহিনীর প্রধান ছিলেন. সুতরাং আপনার মতো আর কে আছেন, যিনি বলতে পারবেন এই মরদেহ কবর খুঁড়ে তোলার যৌক্তিকতা সম্বন্ধে? এটা সত্যই কি দরকার? রাজুব এক উত্তরে বলেছেন:

“আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর দেবো একজন প্যালেস্তিনীয় নাগরিক হিসাবে. আমরা প্যালেস্টাইনের নাগরিকরা আগ্রহী এই খবর জানতে যে, তে ইয়াসের আরাফাতকে হত্যা করেছিল. দোষী কে তা প্রকাশ করতে হবে. কাকে এই বিষয়ে অভিযুক্ত করা হয়েছে, তা স্পষ্ট: আমরা ইজরায়েলকে সন্দেহ করি. কিন্তু প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে. কবর খুঁড়ে দেহ তোলার লক্ষ্য হল এই প্রমাণ জোগাড় করা. আমি আপনাকে আরও বেশীকরে বলব: আমরা চাই যে, আরাফাতের হত্যাকারীকে আন্তর্জাতিক আদালতেই বিচার করা হোক.

আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল যে, এই কবর খুঁড়ে তোলার ব্যাপারে কিছু রুশ বিজ্ঞানীও অংশ নিচ্ছেন. আমরা নিজেরাই এই বিষয়ে অনুরোধ করেছিলাম. আমরা রাশিয়াকে বিশ্বাস করি, রুশ বিজ্ঞানীদেরও ভরসা করি. এই ধরনের অংশ গ্রহণে আমাদের মনে একটা আস্থা জন্মায়. আমরা আশা করি যে, প্রধান অভিযুক্ত - ইজরায়েলকে শাস্তি দেওয়ার জন্য উপযুক্ত প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারব”.

কিন্তু আপনারা এত আস্থার সঙ্গে ইজরায়েলের উপরে দোষ দিচ্ছেন কেন? অন্য কেউই কি আরাফাতকে হত্যা করতে চাইতে পারতো না? রাজুব বলেছেন:

“আমরা সেই ধারণা থেকেই উপনীত হয়েছি যে ইজরায়েল ছিল আরাফাতের মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশী আগ্রহী পক্ষ. তার ওপরে কেছু ইজরায়েলের নেতা একাধিকবার নিজেরাই আরাফাতকে ধ্বংস করার বিষয়ে হুমকি দিয়েছিল. তাছাড়া, সেই পদার্থ, যা দিয়ে আরাফাতকে বিষাক্ত করা হয়েছিল – আর এটা, সম্ভবতঃ তেজস্ক্রিয় পোলোনিয়াম – তা নিজেদের কাছে অস্ত্র হিসাবে রাখতে পারে শুধু প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে উন্নত দেশই. কিন্তু আবারও বলছি যে, আমাদের প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে”.