রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি পদে দিমিত্রি মেদভেদেভ আবারও তৈরী আছেন নির্বাচিত হওয়ার জন্য, দেশের নির্বাচকরা যদি এই রকম মনে করেন. এই বিষয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি তাঁর আসন্ন ফরাসী দেশ সফরে প্রাক্কালে ঘোষণা করেছেন ফ্রান্সের সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়ে. মেদভেদেভ বলেছেন যে, তাঁর ক্রেমলিনে জায়গা পাওয়া নিয়ে কোনও আগ্রহ নেই, বরং কাজে রয়েছে. রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী তারই সঙ্গে সিরিয়ার প্রসঙ্গে দেশের বাইরে থেকে হস্তক্ষেপের বিষয়েও নিজের আপত্তি জানিয়েছেন. তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সিরিয়ার ভাগ্য নির্ধারণ করা সিরিয়ার জনগনেরই উচিত্.

সংবাদ সংস্থা “ফ্রান্স প্রেস” ও “ফিগারো” সংবাদপত্রকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে মেদভেদেভ রাশিয়াতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর থেকে এই প্রথম তাঁর দেশের নেতৃত্বের পদে আসীন হওয়ার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেছেন:

“যদি আমার এর জন্য যথেষ্ট রকমের শক্তি ও স্বাস্থ্য থাকে ও যদি আমাদের দেশের লোকজন এর জন্য আমাকে ভবিষ্যতে ভরসা করে এই কাজ করতে দেন, তবে আমি অবশ্যই, এই ধরনের ঘটনা বদলকে বাদ দিই না. কিন্তু এটা নির্ভর করছে অনেক গুলি কারণের একসাথে হওয়ার থেকে. আমি এর মধ্যেই কখনও এক সময়ে বলেছি: কখনই কোন কিছু থেকে আলাদা করে অস্বীকার করার দরকার নেই. কারণ, জানাই আছে যে, কখনই বলা উচিত্ নয় যে কোন দিনও নয়, তার ওপরে আমি ইতিমধ্যেই একবার এই নদীতে প্রবেশ করেছি আর এটা আসলে সেই নদী, যাতে দ্বিতীয়বার প্রবেশ করা সম্ভব”.

এই বারেই প্রথম মেদভেদেভের সাক্ষাত্কারে সেই কথা শুনতে পাওয়া গিয়েছে যে, তিনি রাশিয়ার অন্য কেউ রাষ্ট্রপতি হলে তাঁর প্রধানমন্ত্রীর পদ নিতেন না. মেদভেদেভ স্বীকার করেছেন যে, তাঁর পক্ষে সবচেয়ে সহজ হয় ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কাজ করতে. তিনি বলেছেন যে, “অন্য কোনও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও তিনি বোধহয় কাজ করতে যেতে চাইতেন না”.

মেদভেদেভ একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়াতে তিনি এখনও দুই রাজনৈতিক দলের ব্যবস্থা হওয়ার মতো পরিস্থিতি দেখতে পাচ্ছেন না. তাঁর কথামতো, রাশিয়ার রাজনৈতিক ও দল সংক্রান্ত ব্যবস্থা অনেকটাই ইউরোপের কাছাকাছি, আমেরিকার মতো হওয়ার চেয়ে. আর ভবিষ্যতেও এই রকমেরই থাকতে পারবে.

রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়ে ফরাসী সাংবাদিকরা সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে কথা তুলেছেন. এই প্রসঙ্গে মস্কো ও প্যারিসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মত বিভেদ রয়েছে. এই বিষয়ে মনে করিয়ে দিয়েছে দিমিত্রি মেদভেদেভেরই কথা, যিনি বলেছেন যে, কিছু দেশের পক্ষ থেকে সিরিয়ার নেতৃত্বে কে থাকবে, তা ঠিক করে দেওয়ার চেষ্টা “একেবারেই মেনে নেওয়া যেতে পারে না”. তাঁর কথামতো, “সিরিয়ার ভাগ্য সিরিয়ার জনগন ঠিক করবে. সেই ক্ষেত্রে বিরোধ পক্ষও তা ঠিক করুক. পছন্দসই হয় যদি তারা আইন সঙ্গত ভাবেই ক্ষমতায় আসীন হতে পারেন, কোন তৃতীয় দেশের পক্ষ থেকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া অস্ত্রের শক্তিতে নয়”.

ফ্রান্সের সিরিয়ার বাইরের বিরোধী পক্ষকে দেশের একমাত্র আইন সম্মত প্রতিনিধি বলে স্বীকার করে নেওয়া সম্পর্কে ও তাদের অস্ত্র সরবরাহ করা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মেদভেদেভ ঘোষণা করেছেন যে, তিনি এই ধরনের উদ্যোগকে খুবই বিতর্কের উপযুক্ত বলে মনে করেন. “রাষ্ট্রসঙ্ঘের পক্ষ থেকে স্বীকৃত আন্তর্জাতিক অধিকারের সঙ্গে সমতা রক্ষা করে কোন দেশই এমন কোন কাজ করতে পারে না, যা অন্য যে কোনও দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে করতে পারে...”, বলেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ.

0রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া হিংসা প্রয়োগের ক্ষেত্রে যেমন সিরিয়ার প্রশাসনকে, তেমনই বিরোধী পক্ষেরও সমালোচনা করেছে. সেখানে বাস্তবে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে. তাই এর সমাধানের পথ একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া সম্ভব, নির্বাচনের মাধ্যমে ও সেই শক্তিরই ক্ষমতায় আসাতে, যাকে দেশের জনগন সমর্থন করবেন. আর আমাদের একেবারেই প্রয়োজন নেই, যাতে সিরিয়া নানা ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় ও নিকট প্রাচ্যে আরও একটি উত্তেজনার কেন্দ্র তৈরী হয়. মেদভেদেভের কথামতো, এই অবস্থার সুযোগ নানা ধরনের চরমপন্থীরা নেবেই. “আর তা কোন দেশের পক্ষেই হবে না – যেমন সিরিয়ার জন্য নয়, তেমনই ফ্রান্স অথবা রাশিয়ার জন্যও নয়”.