ভারত দেশেই তৈরী রকেট ধাওয়া করে ধরতে যাওয়ার রকেট “এএডি” পরীক্ষা করে দেখেছে. বঙ্গোপসাগরের উপরে ১৫ কিলোমিটার উচ্চতায় ওড়া একটি লক্ষ্য রকেট ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে বলে খবর দিয়েছে ভারতেরই সংবাদপত্র “হিন্দু”. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ

ভারত আজ প্রথম বছর জাতীয় রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা সৃষ্টি করা নিয়ে কাজ করছে না. এটা বর্তমানের এই পরীক্ষা থেকেই প্রমাণ হয়েছে, যা করা হয়েছে উইলার দ্বীপ থেকে রকেট ছোঁড়ার মাধ্যমে. পরীক্ষা মূলক লক্ষ্য ছিল ভূমি থেকে ভূমিতে উড়ানের উপযুক্ত পৃথ্বী নামক রকেটের এক সংশোধিত রূপ – যা ছোঁড়া হয়েছিল উড়িষ্যার চণ্ডীপুর রকেট উড়ান কেন্দ্র থেকেই. এই পরীক্ষার সময়ে ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও আবিষ্কার সংস্থার বিশেষজ্ঞরা প্রথমবার পরীক্ষা করে দেখেছেন প্রশিক্ষণ মূলক লক্ষ্য ভেদ করার জন্য রকেট বিরোধী রকেটের উড়ানের গতি পথের গঠন.

তাছাড়া, এই কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা এক বিশেষ ইলেকট্রনিক ভাবে পরীক্ষার যোগ্য উড়ান ব্যবস্থায় দেড় হাজার কিলোমিটার দূর থেকে ছোঁড়া ও ১২০ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকা একটি কাল্পনিক রকেট ধ্বংস করেও দেখে নিয়েছেন, নিজেদের ব্যবস্থার ভরসা যোগ্যতা.

২০১৫ সালের মধ্যে কি ভারত যে রকম পরিকল্পনা করা হয়েছে, সেই রকমের নিজেদের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা কি তৈরী করে ফেলতে পারে? কারণ এটা খুবই কঠিন কাজ, তাই এই প্রসঙ্গে মস্কোর কার্নেগী সেন্টারের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ বলেছেন:

“এই ধরনের প্রচেষ্টার জন্য প্রচুর মূলধন বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে. তার ওপরে আবার ভারতে আধুনিক রাডার ও মহাকাশ থেকে রকেট আক্রমণের আশঙ্কা সম্বন্ধে সাবধান করে দেওয়ার মতো ব্যবস্থাও নেই. আজ মহাকাশে রয়েছে ভারত থেকে পাঠানো মাত্র দুটি কৃত্রিম উপগ্রহ আর তার মধ্যে মাত্র একটি সামরিক কাজের জন্য সরাসরি ব্যবহার করা হয়ে থাকে. এই ধরনের ব্যবস্থা দিয়ে একটা রকেট উড়ানই লক্ষ্য করা কঠিন, আর একসাথে অনেক গুলি হলে তো বলা মুশকিল. তাই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে রকেট উড়ান হলে, তার থেকে সুরক্ষার মতো ভরসাযোগ্য ব্যবস্থা তৈরী হবে কি না বলা কঠিন. কারণ এই সমস্যাই ভারতকে উদ্বিগ্ন করেছে. পাকিস্তানের দিক থেকেই ভারত প্রাথমিক ভাবে রকেট – পারমানবিক আঘাতের বিষয়ে উদ্বিগ্ন. কারণ পাকিস্তান থেকে ভারতের লক্ষ্য পর্যন্ত রকেট উড়ে আসার সময় মাত্র কয়েক মিনিট”.

এই ধরনের জটিলতার মধ্যেই বিশেষত নিজেদের হিসাব করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র. ভারত তৈরী করছে নিজেদের রকেট ও পারমানবিক ছত্র ব্যবস্থা, আর তাতে সাহায্য করা নিয়ে অনবরত প্রস্তাব দিয়ে চলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র. কিন্তু ভারত খুবই সাবধান হয়ে এই ধরনের সহযোগিতার দিকে দেখছে, তার বদলে নিজেদের ক্ষমতার উপরেই বিশ্বাস করে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা বানাতে চাইছে. দিল্লী চায় না এশিয়াতে আমেরিকার ভূ- রাজনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িয়ে ফেলতে. কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান কাজ – চিনকে আটকে রাখা. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থায় সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারতের সাড়া দেওয়ার অর্থ হবে ভারত ও চিনের মধ্যে যে ভঙ্গুর পারস্পরিক ভরসার আবহাওয়া রয়েছে, তাও ধ্বংস হয়ে যাওয়া. এটা দিল্লী অবশ্যই চাইবে এড়িয়ে যেতে.