ফিলিস্তিনের গাজা সেক্টর ও ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে আসছে। সংঘাতে জড়ানো উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি হয়েছে।

গত ২১ নভেম্বর বিকেলে ইসরাইলি আর্মি গাজা সেক্টরে হামলা বন্ধ রাখার নির্দেশ পায়।

তবে এরপরও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা পরিস্থিতি বিরাজ করবে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করলেও প্রথমে তা ভঙ্গ করেছে হামাস গ্রুপ। ২২ নভেম্বর গাজা সেক্টর থেকে ইসরাইলি ভূখন্ডে ৩টি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং আরও ২টি রকেটবিরোধী প্রতিরোধ ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা হয়েছে। এছাড়া ইসরাইলে গাজা থেকে ১২টি রকেট হামলা হলেও এর জবাবে ইসরাইল পাল্টা হামলা চালায় নি। এ ঘটনার পরে ইসরাইলি নাগরিকদের মধ্যে চরম ভীতি কাজ করছে। অনেক স্কুল এখনও বন্ধ রয়েছে। তবে স্থলপথে অভিযান চালানোর জন্য গাজার সীমান্তবর্তী এলাকায় পূর্বে মজুদ করা ইসরাইলি সৈন্যরা এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সম্মতি জানানোর সরকারি সিদ্ধান্তে ইসরাইলিরা খুশি নয় বলে জানিয়েছে। যদিও ইসরাইলি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামরিক অভিযান নিয়ে যে উদ্দেশ্য ছিল তা পুরোটাই সফল হয়েছেন

,কিন্তু এটিকে যুদ্ধে বিজয় বলা যেতে পারে না বলে মনে করেন স্ট্রাটিজিক ইনস্টিটিউট অব এ্যানালাইজ- এর বিশেষজ্ঞ সেরগেই দেমিদেনকো। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, “এটি ইসরাইলের নির্বাচনীপূর্ব যুদ্ধ। লিকুদ ও নেতানিয়াহুর মধ্যে। লিকুদ হচ্ছে ইসরাইলের দক্ষিণ-মধ্যপন্থী একটি দল। এ দলটি ইসরাইলের অবস্থান ও জনগনের অধিকার রক্ষায় নিজেদের শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এ যুদ্ধে বিজয়ী হিসেবে লিকুদ দলকেই বলা যেতে পারে। সামরিক দিকে থেকে এ জয়ী নয় বরং বিচক্ষনতার দিক দিয়ে। যা নির্বাচনের পূর্বে নিজেদের অবস্থান ও আদর্শ সমুন্নত রেখেছে”।

এদিকে ইসরাইল-গাজা এ যুদ্ধে হামাস জয়ী হয়েছে বলে দাবী করেছেন হামাস গ্রুপের পলিটব্যুরোর প্রধান খালেদ মাশাল। কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি সমাবেশের মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী এ যুদ্ধের পরিসমাপ্তি পালন করেছে। ৪২ জন শিশুসহ এ যুদ্ধে ১৬২ জন ফিলিস্থিনি নিহত ও ১ হাজার ২০০ জন আহত হয়। এ হতাহতকে ফিলিস্তিনিদের বিজয়ের মূল্য বলা যেতে পারে না। এমনটি বলছেন প্রাচ্যতত্ব্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস দলগোভন। তিনি বলেন, “এবারই প্রথমবার ফিলিস্তিনি কোন রকেট তেল-আবিব ও জেরুজালেমে আঘাত হেনেছে। ইসরাইলের ভূখন্ডে ১৫০০ এরও বেশী রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। এখানে বলা যেতে পারে যে, হামাস গ্রুপ অনেক ক্ষেত্রেই যুদ্ধের কৌশলে সফলতা পেয়েছে। কিন্তু ফিলিস্তিনিরাই যে বিজয়ী হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না। দুই পক্ষের এ বিরোধ অমিমাংসিত থেকেও শেষ হয়েছে। ফিলিস্তিনি সমস্যা সমাধানের মধ্য দিয়েই নতুন সংঘাত প্রতিরোধ করা যাবে। আর যদি তা না হয় তাহলে ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করবেই”।

এদিকে শুক্রবার গাজায় বসবাসরত এক দল লোক সীমান্তবর্তী খান ইউনুস এলাকায় নামাজ আদায় করতে মিলিত হলে ইসরাইল তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে এক কিশোর নিহত হয় যিনি সীমান্তের কাছে হামাসের পতাকা উত্তোলনের চেষ্টা করছিল। এর ঘটনায় হামাস ইসরাইলকে যুদ্ধ বিরতি ভঙ্গ করার জন্য অভিযুক্ত করে।

হামাস কি পাল্টা জবাব বন্ধ রাখার কোন নিশ্চয়তা দিতে পারবে?। তবে বিশেষক্ষ সেরগেই দেমিদেনকো এ ক্ষেত্রে আস্থা পাচ্ছেন না। তিনি বলছেন, “হামাসের অনেক গ্রুপ আছে যেখানে কোন নিয়ন্ত্রন নেই। ফিলিস্থিনি উগ্রবাদ তা শুধু হামাস নয়। গাজা সেক্টরে সর্বদাই উত্তেজনা থাকবে তাই যে কোন অর্থেই যুদ্ধ বিরতি পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না।”

ওদিকে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সেরগেই সেরগেইচেভ বলছেন ভিন্ন কথা। হামাস যুদ্ধ বিরতি বজায় রাখবে। তিনি আরও বলেন, “হামাস যুদ্ধ বিরতি চুক্তি বজায় রাখতে পারে। গাজার অন্য গ্রুপরাও ভাল করে জানে যে, হামাসকে ধ্বংস করা মানে হল নিজেদেরই ধ্বংস করা।”

রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে মধ্যস্থতাকারীদের নিয়ে অতি দ্রুত একটি সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ আস্থার সাথে বলেছেন, গাজার সংকট সমাধানের পরই আরব লীগের অংশগ্রণে হয়ত রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজন করা যাবে।