সরকারি জনপ্রতিনিধিদের আয়-ব্যয়ের হিসেব প্রকাশ সংক্রান্ত আইন দূর্নীতি দমন করার ক্ষেত্রে যতটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে তার চেয়ে আরও বেশী বিপদজনক হতে পারে। রুশ রাষ্ট্রপতির প্রশাসনিক দপ্তরের উদ্যোগে নতুন এ আইন ২৩ নভেম্বর দুমায় পাশ হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় দুমার নিরাপত্তা ও দুর্নীতি দমন কমিটির সহকারি সদস্য ইরিনা ইয়ারোভায়া বলেছেন, আগামী নতুন বছর থেকে যে কোন ক্ষেত্রে সরকারি চাকুরিরত কর্মকর্তাকে তার আয়-ব্যয়ের হিসেব প্রকাশ করতে হবে। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, “মূলত যে সব কর্মকর্তা সন্দেহের তালিকায় রয়েছে তাদের কথাই প্রধান গুরুত্ব পাচ্ছে। এরা হচ্ছেন, দুমার নির্বাচিত সদস্য, রাষ্ট্রীয় ও সিটি কর্পোরশনের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা। শুধু তাই নয়, আইন প্রশাসন, বিচার বিভাগ, কেন্দ্রীয় বাংক, পেনশন ভাতা ও সরকারি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠান। তাই, যে আয়-ব্যয়ের হিসেব তদারকির জন্য যে আইন চালু হচ্ছে তা অনেক বিস্তৃত এবং রুশ ফেডারেশনের অনেক পদতালিকা এর আওত্তায় আসবে।”

সরকারী চাকুরিতে নিয়েজিত আছেন এমন পরিবারের কর্তার প্রতিটি সদস্যের আয়ের হিসেব রাখা হবে। তার স্ত্রী ও প্রাপ্ত বয়স্ক সন্তানদের আয়ের গত ৩ বছরের অর্থের পরিমান তালিকাভুক্ত করা হবে। ৩ বছর করার কারণ হচ্ছে, বড় ধরণের কোন কিছু ক্রয় করার জন্য অর্থ মজুদ করার প্রয়োজন হয়। আয়-ব্যয়ের হিসেব তদন্ত করার জন্য নিয়োজিত কমিটি সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে গত ৩ বছরের হিসেব চাইবেন।

তবে এত কিছুর পরও দুর্নীতির পরিমান আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন ইরিনা ইয়ারোভায়। তিনি বলেন, “শুরুতেই বলা যেতে পারে যে, স্বচ্ছ তথ্য না দেওয়া। কারণ হচ্ছে বিশ্বাস ভঙ্গ হলে চাকুরি হারাতে হবে। তাছাড়া আইনি সাজাও ভোগ করতে হবে। সর্বশেষ, আইনে বলা হচ্ছে যে, যদি কেউ দুর্নীতি করে সম্পদের পাহাড় গড়েন তাহলে তা প্রমান পেলে রাষ্ট্র ওই সম্পত্তির অধিকার গ্রহণ করবে।”

সরকারি কর্মকর্তাদের আয়-ব্যয়ের হিসেব নিকাশ নিয়ন্ত্রন সংক্রান্ত যে আইন পাশ হয়েছে তাতে একই সাথে রুশ ফেডারেশনের ফৌজদারী, কর, নাগরিকত্ব, শ্রমনীতিসহ একসারি ফেডারেল আইনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর অর্থ হচ্ছে, দুর্নীতির দমনে রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনের সংশোধনী আনা হবে। সরকারি প্রশাসনের দুর্নীতি দমন বিষয়ক অল রাশিয়ান সেন্টারের কর্মকর্তা ভিক্তর কাস্ত্রোমিন বলেছেন, এখন শুধু প্রয়োজন এর বাস্তব প্রয়োগ। রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, “দুর্নীতি ব্যাপক অর্থে সামাজিক চাপের সৃষ্টি করে। জনগন তো দেখছেন, প্রকৃত অর্থে অনেকে তেমন একটা উচ্চ বেতন না পেলেও তাদের জীবনযাপন দেখে মনে হয় যে তারা বিল গেটস। আর এটিই সমস্যার কারণ হয়ে দাড়ায়। যদি গৃহিত আইনের যথার্থ ব্যবহার করা হয় তাহলেই তার সুফল ভোগ করা যাবে। মানুষের কোন হস্তক্ষেপ ছাড়াই ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মতই পদ্ধতি কাজ করবে।“

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রপতির প্রশাসনিক দপ্তর যে আইনের প্রস্তাবনা করেছিল তার চেয়েও গৃহিত আইন আরও অনেক বেশী কঠোর হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে নতুন এ আইন চালু হবে ২০১২ সালের হিসেব দিয়ে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা স্বচ্ছ পথে আয় করেন তাদের বিপদের কিছু নেই। অন্যদিকে যারা নিজেদের দুর্নীতি ঢাকার চিন্তা করছেন তারা করার আর সময় পাবেন না।

উল্লেখ্য, বিগত সময় রাশিয়ায় বেশ কয়েকটি বড় দূর্নীতির অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের চাকুরি হারাতে হয়েছে। দুর্নীতির কারণেই সম্প্রতি প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার চেয়ার হারিয়েছেন, এ্যাপেক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনে বরাদ্ধকৃত অতিরিক্ত অর্থ আত্বসাতের কারণে সাবেক আঞ্চলিক উন্নয়ন মন্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। গ্লোনাস প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অর্থ আত্বসাতের প্রমান পাওয়ায় জেনারেল কনস্ট্রাকটরকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্নীতির অভিযোগে অনেককেই আটক করা হয়েছে।

রুশ ফেডারেশনের অর্থনীতির বিরাট একটি অংশ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের আয়-ব্যয়ের হিসেব প্রকাশ সংক্রান্ত নতুন এই আইন হয়ত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।