আর্কাদি দ্ভরকোভিচ রেডিও রাশিয়াকে প্যারিস শহরে এক একান্ত সাক্ষাত্কার দিয়েছেন. ফ্রান্সের রাজধানীতে রাশিয়ার মন্ত্রীসভার উপ প্রধানমন্ত্রী ইকাতেরিনবুর্গ শহরকে আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী এক্সপো – ২০২০ আয়োজনের জন্য এক প্রার্থী শহর হিসাবে উপস্থাপনা করতে এসেছেন.

রেডিও রাশিয়া (রে.রা.): আজ আপনি ইকাতেরিনবুর্গ শহরকে এক্সপো – ২০২০ আয়োজনের প্রার্থী হিসাবে প্রস্তাব করতে এসেছেন. প্রার্থী নির্বাচকদের মনোযোগ ইউরোপ ও এশিয়ার সন্ধি-স্থলের এই শহর কি ভাবে আকর্ষণ করতে পারে?

-“বৃহত্ সমস্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশের বিভিন্ন কোণ বিশ্বের সামনে প্রদর্শন করছি – মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গ ছাড়া এবারে যেমন সোচী, যেখানে শীত অলিম্পিক হবে, সেটাও দেখাচ্ছি. আমরা ভ্লাদিভস্তক দেখিয়েছি, যেখানে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলির শীর্ষ সম্মেলন হয়েছে. আগামী বছরে দেখাবো কাজান – যেখানে হবে বিশ্ব ছাত্র ক্রীড়া প্রতিযোগিতা. আর ছয় বছর পরে আমরা এছাড়াও আরও আটটি শহর দেখাবো, যেখানে হবে বিশ্বকাপ ফুটবল. এই ভাবেই, আমরা বাস্তবে বিশ্বের জন্য এক ডজন শহরকে বিখ্যাত করে তুলব. আর আমি মনে করি যে, ইকাতেরিনবুর্গ, সেই কারণ ছাড়াও, যা আপনি নিজেই উল্লেখ করেছেন, - এটা এমন এক জায়গা, যা আগ্রহের কারণ হতে পারে, একটি নেতৃস্থানীয় বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষা কেন্দ্র হিসাবে, এমন এক শহর হিসাবে, যেখানে অনেক ছাত্র, বিজ্ঞানী রয়েছেন, যেখানে বৃহত্ ব্যবসায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তি বাস্তব উত্পাদন ক্ষেত্রে যোগ করছে. তাছাড়া, ইকাতেরিনবুর্গ, পরিবহন পরিসংখ্যান গত ভাবে খুবই উপযুক্ত স্থানে থেকে এক স্বাভাবিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যা ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্য চলাচলের ক্ষেত্রে উল্লেখ যোগ্য. এটা আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ. যদি ইকাতেরিনবুর্গে ব্যবসা থাকে ও দ্রুত ব্যবসার উন্নতির জন্য ৭মতা থাকে, তবে সাফল্যের সম্ভাবনাও রয়েছে”.

রে.রা.: আপনি ইকাতেরিনবুর্গ শহরের উন্নয়নকে এক্সপো- ২০২০ র স্লোগান “বিশ্বজোড়া সংবেদী মনের” সঙ্গে মিলিয়ে কি রকম দেখতে পাচ্ছেন?

-“তিনটে প্রধান বিষয় রয়েছে. প্রথম – বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষা সংক্রান্ত. উরাল রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে এক খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষী উন্নয়নের প্রকল্প নিয়ে কাজ করেছে, যাতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এক খুবই শক্তিশালী আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যেমন প্রতিবেশী দেশ গুলি থেকে, তেমনই দূরের দেশ গুলি থেকেও ছাত্রদের নিয়ে এসে তৈরী করা হচ্ছে. এটা এখনই হচ্ছে. আমরা আশা করছি যে, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশী করে বিদেশী অধ্যাপক ও বিজ্ঞানীরা আসবেন. এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব হবে. দ্বিতীয় অংশ – এটা পরিবহনের বিষয়ে উন্নতি. ইকাতেরিনবুর্গ শহরের ইউরোপীয় ও এশিয়ার দেশ গুলির জন্য একটি আন্তর্আঞ্চলিক কেন্দ্র হওয়া উচিত্. এটা “বিশ্বজোড়া সংবেদী মনের” এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ. আর তৃতীয় হল – কল কারখানার অংশ. ইকাতেরিনবুর্গ শহরে বৃহত্ আন্তর্জাতিক কোম্পানী গুলির প্রকল্পের রূপায়ণ করা হবে, তার মধ্যে বিমান নির্মাণ – “বোয়িং” ও অন্যান্য কোম্পানীর বিমানের জন্য টাইটানিয়াম ধাতু দিয়ে যন্ত্রাংশ তৈরী. এখানে জ্বালানী ও চিকিত্সা প্রযুক্তি সংক্রান্ত প্রকল্পও করা হবে”.

রে.রা.: রাশিয়া বর্তমানে একটি ঐক্যবদ্ধ ইউরো-এশিয়া অর্থনৈতিক এলাকার ধারণা বাস্তবায়ন করছে. আপনি কি মনে করেন, রোমের ২৫শে মার্চ ১৯৫৭ সালের চুক্তি অনুযায়ী যে এলাকা তৈরীর কথা হয়েছিল, তার সঙ্গে এই ঐক্যবদ্ধ অর্থনৈতিক এলাকার একটা সমান্তরাল কি টানা যেতে পারে?

-“অবশ্যই আমরা শুল্ক সংঘ তৈরী করছি, আর তার সঙ্গে আরও প্রসারিত ইউরো-এশিয়া অর্থনৈতিক এলাকা তৈরী করছি – ইউরো-এশিয়া সঙ্ঘ, যা সর্বজনীন নীতির ভিত্তিতে তৈরী হচ্ছে. প্রাথমিক ভাবে ঐক্যবদ্ধ শুল্ক এলাকা, তারপরে এমন এলাকা, যেখানে কোন রকমের বাধা ছাড়াই মূলধন, মানুষ অনায়াসে প্রয়োজন মত চলাফেরা করতে পারে, যেখানে স্ট্যান্ডার্ড ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের নিয়মও এক. যেখানে শেষ হিসাবে অর্থনৈতিক আইন ঐক্যতানে থাকবে. এখানে কোন রকমের সাইকেল আমরা নতুন করে তৈরী করতে যাচ্ছি না, বরং সেই সব শিক্ষার ভিত্তিতেই কাজ করছি, যা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকেই বের করে নিচ্ছি, তার মধ্যে ইউরোপীয় সঙ্ঘের অভিজ্ঞতাও রয়েছে. এতে বিপদ কোথায়? সেই বিষয়ে যে, এটা আরও বেশী প্রসারিত প্রকল্প, যা ইউরোপীয় সঙ্ঘের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের ফলে এক মহাসাগর থেকে অন্য মহা সমুদ্র পর্যন্ত এলাকায় বিস্তৃত হবে – প্রশান্ত মহাসাগর থেকে অতলান্তিক মহা সমুদ্র পর্যন্ত. তাই আমরা আগ্রহী ঐক্যবদ্ধ ইউরো-এশিয়া এলাকা তৈরী করার জন্য ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের সঙ্গে একক এলাকা গঠন করার জন্য, আর এটা বর্তমানের প্রকল্পের সবচেয়ে আলাদা চরিত্র”.

রে.রা.: ইউরো এলাকার সঙ্কট, দেখাই যাচ্ছে যে, রাশিয়া উপরে খুব একটা লক্ষ্যণীয় প্রভাব ফেলতে পারে নি. কি করে সম্ভব হয়েছে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার? রাশিয়ার মুদ্রা কি ভবিষ্যতে সঞ্চয়ের মুদ্রায় পরিণত হতে পারে? আর মনে করা কি সম্ভব হবে যে, শুল্ক সঙ্ঘে একক মুদ্রার উত্পত্তি হবে?

-“প্রথমতঃ আমরা মনে করি যে, ইউরো মুদ্রার কোন সঙ্কট নে. ইউরোপে ব্যাঙ্ক ব্যবস্থায় ঋণ সংক্রান্ত সঙ্কট রয়েছে আর ইউরো একটি আগ্রহের ও স্থিতিশীল মুদ্রা. আমাদের এটা খুবই আনন্দিত করে, কারণ তার ফলে আমাদের ইউরোপীয় সঙ্ঘের সঙ্গে আরও ভরসাযোগ্য ভাবে সহযোগিতা করতে দেয় ও আমাদের ঝুঁকি গুলিকে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে. দ্বিতীয়তঃ, রুবল সত্যই আরও স্থিতিশীল হয়েছে, প্রাথমিক ভাবে সেই জন্যই যে, আমাদের বাজেট নীতি সংরক্ষণ শীল, আমাদের ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের আইন যথেষ্ট কঠোর. দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বর্তমানে কাজ করছে আর্থিক নীতির ক্ষেত্রে একেবারেই স্বাধীন ভাবে এবং তার কাজ সেই দিকেই লক্ষ্য রেখে করা হয়েছে যাতে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়. তাছাড়া আমরা অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিকে খুব একটা খারাপ হতে দিই নি – বছরে প্রায় চার শতাংশ. এটা আমাদের সব সময়েই আমাদের মুদ্রা রুবলের উপরে চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করেছে. যদিও মূলধন যথেষ্ট পরিমানেই দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে ও তা আমাদের মুদ্রার উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তবুও ভবিষ্যতের জন্য প্রধান প্রয়োজনীয় বিষয় হল – দেশের বিনিয়োগের আবহাওয়াকে বা করা, যাতে রুবল শুধু তাদের জন্যই আগ্রহের বিষয় না তাকে, যারা রাশিয়াতে থাকেন, বরং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্যও. এটা খুবই জটিল কাজ, কিন্তু এটা করা সম্ভব. আর আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কেন্দ্র তৈরীর প্রকল্প, বৃহত্ কোম্পানী গুলিকে ব্যক্তিগত মালিকানার কোম্পানীতে পরিণত করা, জ্বালানী নিয়ে শেয়ার বাজারে বাণিজ্যের বৃদ্ধি করা – এই সব কারণই, যা রুবলকে একটি আঞ্চলিক ভাবে সঞ্চয়ের মুদ্রাতে পরিণত করবে. আমি জানি না শুল্ক বা ইউরো-এশিয়া সঙ্ঘের দেশ গুলিতে কোন ঐক্যবদ্ধ মুদ্রা হবে কি না, এই নিয়ে আলোচনা বহুদিন ধরেই চলছে, তাতে ঝুঁকি রয়েছে, ভাল দিকও রয়েছে. আমি মনে করি, যখন সময় আসবে, তখন সকলেই এই সম্বন্ধে জানতে পারবে. আপাততঃ এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নেই”.