রাশিয়াতে মহাকাশচারী হওয়ার জন্য প্রথম উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ফল প্রকাশ করা হয়েছে. তাতে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল একেবারে সকলেরই, শুধু সামরিক বিমানের পাইলট বা ইঞ্জিনিয়ারদেরই নয়, যারা মহাকাশ শিল্পের সঙ্গে সাধারণত যুক্ত থাকেন. প্রতিযোগিতার পরে তিনশ জনের মধ্যে বেছে নেওয়া হয়েছে সাত জন যুবক ও এক যুবতীকে. মহাকাশ প্রস্তুতির সাধারন প্রশিক্ষণ পর্ব শেষ হওয়ার পরে তাদের পক্ষে সম্ভব হবে কিছুদিনের জন্য নিজেদের গ্রহ ছেড়ে যাওয়ার.

এই বছরে গাগারিনের নামাঙ্কিত মহাকাশচারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল, তাতে যে কেউই অংশ নিতে পারতেন, যদি ৩০শে এপ্রিলের আগে আবেদন পত্র জমা দিয়ে থাকেন, তাহলে. খুবই স্বাভাবিক যে, মহাকাশচারী হতে গেলে কিছু নিয়ম মানতেই হবে: শারীরিক ভাবে সুস্থ হতে হবে, উচ্চ শিক্ষা থাকতে হবে, ইংরাজী ভাল জানতে হবে, শরীর ও মনের উপরে চাপ নেওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে, ইত্যাদি. কিছু কম তিনশটির মতো আবেদন পত্র জমা পড়েছিল. যাদের ডেকে এনে বাছাই করা হয়েছে, তাদের সংক্যা ছিল ৫০ জন, তাদের মধ্যে শেষ অবধি ৮ জন ফাইনালে উঠতে পেরেছে. এবার তারাই তৈরী হবে মহাকাশ অভিযানের জন্য. এই সব বিষয় জানিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিখ্যাত মহাকাশচারী সের্গেই ক্রিকালিয়ভ বলেছেন:

“এই ছেলেমেয়েদের এখনই মহাকাশচারী বলা যেতে পারে না, কারণ তাদের এখনও মহাকাশ যাত্রার জন্য সাধারন প্রস্তুতি পর্ব পার হতে হবে. আর তার পরিণামে কাউকে দলে নেওয়া হবে আর কাউকে নেওয়া হবে না. এমনও হতে পারে যে, সকলকেই নেওয়া হতে পারে, আবার কেউ পেরে নাও উঠতে পারে – এখানে কোন কঠোর তালিকা ভুক্ত করার নিয়ম নেই”.

এই আট জন ফাইনালে যারা উঠেছে, তাদের মধ্যে একটি মেয়ে রয়েছে – আন্না কিকিনা. এই দলে নাম লেখানোর আগে আন্না কাজ করত রেডিওতে. নিজের প্রস্তুতি নিয়ে আর ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে আন্না বলেছে:

“আমি এই প্রথম পর্বের বাছাইয়ের কোন একটা নির্দিষ্ট ধাপকে বলতে পারবো না যে, সবচেয়ে কঠিন, কারণ প্রত্যেক পর্বেই প্রয়োজন ছিল মনোযোগ দেওয়ার ও শক্তি একজোট করার, মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার, যাতে সবচেয়ে ভাল ফল করা সম্ভব হয়. তা কোন জানার বিষয়েই হোক অথবা শারীরিক কসরতের বিষয়েই হোক,- নিজের কাজের ক্ষেত্রে নিজেকে সবচেয়ে বেশী করে একাগ্র করার দরকার পড়েছিল. পরবর্তী কালে আমি কি বিষয়ের দিকে মনোযোগ দেবো? সব কিছুরই দিকে! আমি সমস্ত কিছুতেই সবচেয়ে বেশী করে মনোযোগ দেবো, যা আমাদের করতে বলা হবে, সেই বিষয়ে, যাতে সবচেয়ে বেশী ফল পাওয়া যায় ও উন্নতি করা যায়”.

মহাকাশচারী হওয়ার জন্য প্রার্থী বাছাইয়ের প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতেও হবে পরবর্তী উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে ২০১৪ সালে.