ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইনের হামাস আন্দোলনের মধ্যে এক ভঙ্গুর আপাতঃ শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে. তা দিয়ে ইজরায়েলের “ধূম স্তম্ভ” অপারেশন, যা ১৪ই নভেম্বর থেকে ইজরায়েলের এলাকায় গাজা সেক্টরের ছোঁড়া রকেটের উত্তরে শুরু হয়েছিল, তা থামিয়েছে.

বুধবার সন্ধ্যাবেলায় এই শান্তির বিষয়ে ইজিপ্ট ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার ফলে সমঝোতা হয়েছে. ইজরায়েল দায়িত্ব নিয়েছে সমুদ্র, ভূমি ও আকাশ পথে সমস্ত রকমের সামরিক কাজকর্ম বন্ধ করার. প্যালেস্টাইনের গোষ্ঠীরাও গাজা সেক্টর থেকে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে সমস্ত রকমের সামরিক কাজকর্ম থামাচ্ছে, তার মধ্যে রকেট ছোঁড়া ও ইজরায়েলের সীমান্ত রক্ষীদের আক্রমণ করাও থাকছে.

তারই মধ্যে ইজিপ্ট ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় করা “নৈঃশব্দের বিনিময়ে নৈঃশব্দ” চুক্তি এখনই ভঙ্গ হয়েছে. সমঝোতা শুরুর সময়ের অব্যবহিত পরেই তিনটি রকেট গাজা সেক্টর থেকে ইজরায়েলের এলাকায় এসে পড়েছিল.

ইজরায়েলের সামরিক বাহিনীর এক বিস্তৃত অপারেশনের ফলে গাজা সেক্টরে নিহত হয়েছে ১৬০ জন প্যালেস্টাইনের লোক ও আহত ১২০০ জনেরও বেশী. ইজরায়েল হারিয়েছে পাঁচ জন মানুষকে, অনেক লোক আহতও হয়েছেন. বুধবারে সন্ধ্যায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ সাধারন মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনার নিন্দা করেছে, আশা ব্যক্ত করেছে যে এই শান্তি চুক্তি গাজা সেক্টর ও ইজরায়েলের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ভাবে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করাকে বন্ধ করবে.

এই যুদ্ধে কে আগ্রহী ছিল, কে তাতে জয়ী হয়েছে? স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“এটা ইজরায়েলের প্রাক্ নির্বাচনী যুদ্ধ, “লিকুদ” দল ও নেথানিয়াখুর যুদ্ধ. একেবারে সমস্ত রকমের ছোটখাট ব্যাপার নিয়ে পুনরাবৃত্তি হয়েছে ২০০৮ এর শেষ ও ২০০৯ একর শুরুর সময়ের “ঢালাই সীসা” নামের সামরিক অপারেশনের. তখন এটা শুরু করেছিল “কাদিমা” দল. এখন করেছে “লিকুদ”. যারা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে চেয়েছে যে, ইজরায়েলের অবস্থানে শক্ত থাকতে চায় ও দেশের জনগনের প্রতিরক্ষায় ব্যস্ত. বোধহয়, এই যুদ্ধে বিজয়ী বলা ঠিক হবে “লিকুদ” দলকেই, যারা ইজরায়েলের সংরক্ষণশীল দল. তারা সামরিক অর্থে বিজয়ী নয়, নিঃশর্তে বলা যেতে পারে যে, তারা প্রাক্ নির্বাচনী অবস্থান মজবুত করার বিষয়ে বিজয়ী হয়েছে”.

গাজা সেক্টরে ২২শে নভেম্বর ঘোষণা করা হয়েছে জাতীয় বিজয় দিবস বলে. এই ঘেরাও হয়ে থাকা জায়গার প্রশাসন সমস্ত প্যালেস্টাইনের লোককেই এই ঘটনাকে বড় করে পালন করতে আহ্বান করেছে ও যারা এই আগ্রাসনের সময়ে নিহত হয়েছে, তাদের পরিবারের লোকজনের কাছে যেতে বলেছে. প্যালেস্তিনীয় লোকদের বিজয় হয়েছে বলা কি ঠিক হবে? রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস দোলগভ এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেছেন:

“এটা প্রথমবার, যখন প্রতিবারের মতো সামরিক ভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে কাজ করার সময়ে প্যালেস্টাইনের সশস্ত্র যোদ্ধারা রকেট দিয়ে তেল আভিভ ও জেরুজালেম পর্যন্ত পৌঁছতে পেরেছে. ইজরায়েলের উপরে দেড় হাজারেরও বেশী রকেট ছোঁড়া হয়েছে. এখানে বলা যেতে পারে যে, প্যালেস্টাইনের গোষ্ঠীরা অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের সামরিক ক্ষমতা বাড়াতে পেরেছে. কিন্তু তাদের বিজয়ী বলা যেতে পারে না. বিরোধ একটা শর্ত সাপেক্ষ সমান অবস্থায় শেষ হয়েছে. নতুন বিরোধ বন্ধ করতে পারে, শুধু প্যালেস্টাইন প্রশ্নের সমাধান করা হলে তবেই. যদি এটা না হয়, তবে ভবিষ্যতেও এই বিরোধ আবার তীক্ষ্ণ হতেই পারে”.

কায়রো শহরে সাংবাদিক সম্মেলনে হামাস দলের নেতা খালেদ মাশাল আরব দেশ গুলিকে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে প্যালেস্টাইনের বিরোধে অস্ত্র দিয়ে সাহায্যের আহ্বান করেছেন. তিনি তেহরানকে ধন্যবাদ দিয়েছেন সমর্থন ও বিশেষ করে অর্থ দিয়ে সাহায্য করার জন্য.

ইজরায়েল নিজেদের দিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আশ্বাস আদায় করেছে যে, একসাথে ইরান থেকে গাজা সেক্টরে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে প্রতিরোধ করবে. এখানে মূল কথা হল প্যালেস্টাইনের গোষ্ঠীদের সামরিক ক্ষমতা বাড়তে না দেওয়া, এটা ঘোষণা করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেথানিয়াখু.