গাজা সেক্টর ও সিরিয়া – সবচেয়ে টাটকা উদাহরণ, যেখানে নিয়মিত বাহিনীকে প্রতিরোধ করছে কালো বাজারে অস্ত্র যোগাড় করতে পারা গোষ্ঠীরা, এই ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ বন্ধ করা অথবা অন্তত তা উদ্ভব হওয়া কিছুটা কম করতে পারা অংশতঃ বোধহয় সম্ভব হত, যদি আন্তর্জাতিক ভাবে অস্ত্র ব্যবসায় সংক্রান্ত একটা চুক্তি করতে পারা যেত. কিন্তু এই ধরনের বহু প্রতীক্ষিত দলিল স্বাক্ষর করা সম্ভব হয় নি. পশ্চিমের দেশ গুলি কেন জানি না, এই বিষয়ে রাশিয়াকে দুষছে.

মনে করিয়ে দেই যে, জুলাই মাস ধরে নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের তাগাদায় আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায় চুক্তি নিয়ে সম্মেলন হয়েছে. এই দলিল সমর্থন করে নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ও চিন – যারা বিশ্বের দুই বৃহত্ অস্ত্র উত্পাদক ও রপ্তানী কারক দেশ. ইউরোপের সংবাদ মাধ্যম রাশিয়াকে এই চুক্তির “নতুন হুমকি” বলেই এবারে দেখাতে চেয়েছে. প্রসঙ্গতঃ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা আপাততঃ এই চুক্তি গ্রহণ করার ব্যবস্থারই বিরুদ্ধে রয়েছে. ফ্রান্স ও গ্রেট ব্রিটেন প্রস্তাব করেছে অস্ত্র ব্যবসায় চুক্তি দুয়ের তৃতীয়াংশ সমর্থন পেলেই তা তা সিদ্ধান্ত বলে ঘোষণা করতে, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায়, পরবর্তী সম্মেলনের যোগদানের অবশ্য শর্ত হতে হবে সকলের সহমত পাওয়া গেলে তবেই.

এই চুক্তির মোদ্দা কথা – সাঁজোয়া গাড়ী বিক্রী, গোলা বন্দুক, রসদ সেই সব দেশের শাসকদের বিক্রী করা বন্ধ করা, যারা নিজেদের দেশের জনগনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে. রাশিয়ার অবস্থান এই রকমের যে, বর্তমানের নথি অনুযায়ী এই চুক্তি চরমপন্থী ও সন্ত্রাসবাদীদের অস্ত্র কেনায় বাধা দিতে পারবে না. তাই রাশিয়া প্রস্তাব করেছে অস্ত্র ব্যবসায় সম্বন্ধে সরকারি ভাবে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা কমাতে, রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বিশ্ব অর্থনীতি ও সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মী ইগর খখলভ বলেছেন:

“প্রধান সমস্যা, যা রাশিয়া এই প্রশ্নে দেখতে পেয়েছে – এটা যে সমস্ত দেশের বিরুদ্ধে আইন সঙ্গত ভাবে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে কোনও বাধা নেই, তাদের কাছ থেকে বেআইনি ভাবে অস্ত্র পাচার হয়ে যাওয়া. রাশিয়ার নীতিগত ভাবে দেওয়া প্রস্তাব হল – সেই সমস্ত কাঠামোকেই শুধু অস্ত্র বেচা, যারা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পেয়েছে. যে মুহূর্তে এই ছকে ব্যক্তিগত মালিকানার কোম্পানী গুলি কোন না কোন ভাবে ঢুকে পড়ে, তবে স্বাভাবিক ভাবেই এই অস্ত্র সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর বা যৌথ অপরাধ গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছতে পারবে”.

ইগর খখলভ বলেছেন যে, আর পশ্চিমের দেশ গুলি, বাস্তবে এই চুক্তিকে তাদের জন্য লাভজনক নয় এমন সব প্রশাসনের উপরে চাপ দেওয়ার জন্য নিতে চায়. এই ধরনের বেছে করা বাধা নিষেধ আন্তর্জাতিক অধিকারের নিয়ম বিরুদ্ধ ও তা সেই ভিত্তিকেই ধ্বংস করে দেবে, যার উপরে একেবারে আদর্শ না হলেও বহু দিনের চলে আসা অস্ত্র ব্যবসা সংক্রান্ত ব্যবস্থা বর্তমানে রয়েছে.

এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, ইউরোপীয় সঙ্ঘে এখনই ইউরোপীয় জোটের জন্য অস্ত্র রপ্তানী করার একটা নিয়ম রয়েছে. এর ভিত্তিতে সঙ্ঘ পরপর চিন, ইরান, সিরিয়া, মায়ানমার, সুদান, উজবেকিস্তান ও বেলোরাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে. এই সব দেশই – সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে রাশিয়ার স্থায়ী সহকর্মী দেশ. ব্রাসেলস স্পষ্টই চাইছে নিজেদের নিয়মকেই আন্তর্জাতিক নিয়ম বলে চালাতে, চুক্তির মাধ্যমে.

সর্বজন স্বীকৃত চুক্তি সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল, যেমন ১৯৯২ সাল থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন অস্ত্রের নথিতে বিভিন্ন দেশ নিজে থেকেই অস্ত্র আমদানী ও রপ্তানী বিষয়ে তথ্য দিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে. কিন্তু রাষ্ট্রসঙ্ঘের সরকারি পরিসংখ্যান থেকে সাক্ষ্য পাওয়া যায় যে, প্রতি বছরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সমস্ত সদস্য দেশের মধ্যে শতকরা চল্লিশ ভাগেরও কম দেশ নিজেদের অস্ত্র আমদানী রপ্তানী সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করে থাকে.

রাশিয়া কোন রকমের আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই খুব কড়া ভাবে বহু স্তরে নিজেদের বাইরের দেশে অস্ত্র রপ্তানীর বিষয়কে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে, আর তা শুধু দেশ থেকে পাঠানোই নয়, বরং তা প্রাপকের পাওয়ার পরেও. এই প্রসঙ্গে রাশিয়া খুবই খুঁটিয়ে দেখে যাতে সেই সব দেশের কাছে অস্ত্র রপ্তানী না করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ভাবে নিষেধাজ্ঞা নেওয়া হয়েছে. সুতরাং সমস্ত রকমের অভিযোগ যে, “রাশিয়া অস্ত্র ব্যবসা সংক্রান্ত চুক্তির জন্য বিপজ্জনক হয়েছে”, আর এই চুক্তি নিয়ে বাস্তবে বিতর্কের চেষ্টা – আসলে সামাজিক মতামত নিয়ে প্রকাশ্যে খেলার চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়.