আমাদের জগতের সঙ্গে আজ থেকে একশ বছর পরে কি হতে চলেছে, অথবা হয়তো তারও আগে? বৈজ্ঞানিক ও সাধারন মানুষরা এই প্রশ্নই আজ বেশী করে করতে শুরু করেছেন. সমগ্র দেশ ও মহাদেশের জন্যই আজ বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা সত্যিকারের যমদূত হয়ে দাঁড়িয়েছে. এই প্রসঙ্গে মাত্র গত কুড়ি বছরেই বিকীরণের প্রভাবে – যা আবহাওয়া উত্তপ্ত হওয়ার সূচক – তা গ্রীন হাউস এফেক্টের ফলে একের তৃতীয়াংশ বেড়ে গিয়েছে. একটি প্রধান কারণ হল মানুষের খুবই দ্রুত গতিতে অর্থনৈতিক কাজকর্মের প্রচেষ্টা. এই ধরনের একটা ধারণা সিদ্ধান্তের কথা লেখা হয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া দপ্তরের থেকে প্রকাশিত ব্যুলেটিনে. আর এই সিদ্ধান্ত মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়.

আবহাওয়ার উষ্ণায়ন – সন্দেহ বাতিক লোকদের প্রিয় বিষয়, যারা পৃথিবী ও তাতে থাকা সমস্ত প্রাণীদের জন্যই এক বিষন্ন ভবিষ্যতের বর্ণনা দিয়ে চলেছে. প্রায়ই তাদের এই বিশ্বের শেষ দিনের ভবিষ্যদ্বাণীতে বেশী করেই থাকে হুমকি, যখন না সত্যিকারের কোন বিপদের উপস্থিতি. আবহাওয়ার অপরিবর্তন যোগ্য বদল – বহু সিনেমার কাহিনী, যা দর্শকের মনে যদি আতঙ্কের সঞ্চার না করেও তবুও একটা আসন্ন বিপর্যয়ের মানসিকতা তৈরী করে দেয়. কিন্তু যদি হিসাবের মধ্যে তাদের না ধরাও হয়, যারা স্রেফ বাণিজ্যিক বা ব্যক্তিগত লাভের জন্য এটাকে ব্যবহার করছেন, তবুও যে ছবি পাওয়া যাচ্ছে, তা মোটেও আনন্দের নয়. বিশ্ব আবহাওয়া দপ্তরের গবেষণার ফল অনুযায়ী গ্রীন হাউস এফেক্টের ফলে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের যে ঘনত্ব বর্তমানের বিশ্বে হয়েছে তা খুবই বেশী পরিমানে হয়ে গিয়েছে.

এই সংস্থার প্রধান মিশেল ঝারো মন্তব্য করে বলেছেন: “বাড়তি কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের বহু শত কোটি টন আবহাওয়াতে রয়ে যাবে, যা উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দেবে আর বিশ্বে সমস্ত রকমের জীবনের উপরেই একটা নেতিবাচক পরিণাম আনবে”. শুধু বিগত সপ্তাহ গুলিতেই বেশ কয়েকটি মানুষের আবহাওয়ার উপরে প্রভাব নিয়ে গবেষণার ফল প্রকাশিত হয়েছে, এই কথা “রেডিও রাশিয়াকে” জানিয়ে বন্য প্রকৃতি তহবিলের আবহাওয়া ও জ্বালানী নামক প্রকল্পের প্রধান আলেক্সেই ককোরিন বলেছেন:

“শুধু রাষ্ট্রসঙ্ঘের কাঠামো গুলিই নয়, বরং বিশ্ব ব্যাঙ্কও এই প্রকৃতির উপরে মানুষের প্রভাব সংক্রান্ত ধারণা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে. প্রসঙ্গতঃ, তাদের পূর্বাভাস হয়েছে সবচেয়ে কঠোর. তাতে বলা হয়েছে যে, সমস্ত রকমের পরিবর্তন আরও বেশী সক্রিয় ভাবেই ঘটছে, যা অন্যান্য পূর্বাভাসে আগে মনে করা হয়েছিল তত দ্রুত হবে না, অর্থাত্ এই শতকের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই তাপমান দুই ডিগ্রী বেড়ে যাবে. কথা বাস্তবে হয়েছে চার ডিগ্রীর. আর এটা সব দেশেরই বিকাশ ও অর্থনীতির উপরেই বিপর্যয় ঘটানোর মতো প্রভাব ফেলবে. কি করা যেতে পারে? প্রাথমিক ভাবে কার্বন ডাই অক্সাইড দূষণ বন্ধ করা যেতে পারে, যা বিশাল পরিমানে জৈব জ্বালানী দহনের মাধ্যমে করা হচ্ছে. প্রত্যেক দেশেরই উচিত্ আবহাওয়া দূষণের বিষয়ে কঠোর নিয়ম গ্রহণ করা”.

এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, এই বিষয়ে আন্তর্রাষ্ট্রীয় কিয়োটো প্রোটোকল নেওয়া হয়েছিল, যার সময় সীমা এই বছরেরই ডিসেম্বর মাসে শেষ হতে চলেছে. কিন্তু এই চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য মোটেও সমস্ত দেশ আহ্বান করছে না. তার ওপরে উদাহরণ স্বরূপ, কানাডা এই প্রোটোকল থেকে বেরিয়ে গিয়েছে, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যদিও এই প্রোটোকলে স্বাক্ষর করেছিল, তবুও তা দেশে গ্রহণ করে নি. বেশ কিছু দেশ, তাদের মধ্যে চিনও একেবারে শুরু থেকেই এই উদ্যোগকে এড়িয়ে গিয়েছিল. তাই এর ভবিষ্যত ভাগ্য একেবারে কুয়াশাবৃতই রয়ে গিয়েছে.

একই সময়ে সমস্ত অস্বাভাবিক ঘটনার সংখ্যা বেড়েই চলেছে এক জ্যামিতিক অগ্রগতিতে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর পরামর্শদাতা আলেক্সেই ইয়াবলকভ বলেছেন:

“শুধু রাশিয়াতেই গত পনেরো বছরে এর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ. এটা ঠিকই যে, এই গুলির সবই মানুষের কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত নয়, তবুও বেশীর ভাগই সেই কারণেই হয়েছে. এখান থেকেই যুক্তি সঙ্গত মনে হয়েছে সেই সিদ্ধান্তকে যে, অস্বাভাবিক ঘটনার নিয়মিত হওয়া ও শক্তি খালি বেড়েই যেতে থাকবে, যেমন বাড়বে, তার থেকে ক্ষতির পরিমানও. কারণ, যেমন প্রত্যেক বছরের সাথে বেড়ে যাওয়া তাপমাত্রার সঙ্গেই বিশ্বের মহা সমুদ্রে জলের স্তরও উপরে উঠছে, আর যদি ১০০ বছর বাদে তা বেড়ে হয় এক মিটার, তাহলে এটা শুধু দ্বীপ পূঞ্জের উপরে থাকা রাষ্ট্র গুলির জন্যই বিপর্যয় হয়ে দাঁড়াবে না”.

বাস্তবে মানব সমাজের সামনে আজ একটা দোনামোনার উপস্থিত হয়েছে: কি করে নিজেদের জ্বালানীর চাহিদা বিকাশের প্রয়োজন অনুযায়ী মেটানো সম্ভব, যাতে প্রকৃতিতে কোন ক্ষতি না হয়. আর বোধহয়, আসন্ন ভবিষ্যতে কোন বিকাশের ধারণায় একেবারেই ব্যতিক্রমী কিছু দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না. কারণ কোন না কোন রকমের কার্বন যৌগের উত্পাদন খালি বেড়েই চলেছে, আর ব্যতিক্রমী জ্বালানী শক্তির ক্ষমতা এখনও অনেক কম. সুতরাং সম্ভবতঃ, কয়েক দশক পরেই এলাকা ও প্রভাব নিয়ে রাষ্ট্র গুলির মধ্যে যুদ্ধ অর্থহীণ হয়ে যাবে. সারা বিশ্বের মানুষই বাধ্য হবে এক জোট হতে, স্রেফ মানুষের মতো করে বেঁচে থাকার জন্যই. কিছু বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে, এখনই জৈব প্রকৃতি নিয়ে সঙ্কট বিরোধী নিয়ন্ত্রণ শুরু করা দরকার. তা না হলে, পরে দেরী হয়ে যাবে.