২১শে নভেম্বর বুধবারে ভারতে ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে মুম্বাই শহরের রক্তাক্ত সন্ত্রাসবাদী হানায় অভিযুক্ত আততায়ী মোহাম্মেদ আজমল আমির কাসবের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরী করা হয়েছে. তাকে ভারতের একটি জেলে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে.

পাকিস্তানের এই কাসব অংশ নিয়েছিল মহানগরীতে আক্রমণে ও একমাত্র লোক, যাকে পুলিশ জীবন্ত অবস্থায় ধরতে পেরেছিল. ২০১০ সালে তাকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল. তার মৃত্যুদণ্ড রদ করার আবেদন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জ্জী নাকচ করে দিয়েছেন.

ষাট ঘন্টা ধরে চলা হত্যা লীলায় মুম্বাই শহরে নিহত হয়েছিলেন ১৬৬ জন. তখন আক্রান্ত হয়েছিল রেলওয়ে স্টেশন, মর্যাদাময় হোটেল ও অন্যান্য আরও অনেক জায়গা. নয় জন আততায়ীকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল. কাসব ও তার সঙ্গীরা রেল স্টেশনকে বধ্য ভূমি বানিয়েছিল, যেখানে শেষ হয়েছিল ৫২টি প্রাণ. কিন্তু ভারতে মনে করা হয়েছে যে, কাসবের মৃত্যুদণ্ড হয়ে গেলেও এখনও এই মর্মান্তিক ইতিহাসে দাঁড়ি টানা যেতে পারে না.

মুম্বাই শহরে আক্রমণ খুবই তীক্ষ্ণ করেছিল ভারত – পাকিস্থানের সম্পর্ককে. দুই দেশের মধ্যে আপোষ আলোচনা স্থগিত হয়ে গিয়েছিল. একে অপরের প্রতি বিশ্বাস বাস্তবে এসে ঠেকেছিল শূন্যের অঙ্কে. অনেক সময়ের জন্যই এই সম্পর্ক ছিল হিমঘরে পাঠানো অবস্থায়. আর শুধু গত বছরেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের আমন্ত্রণে এসেছিলেন সাবেক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রেজা গিলানি. তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিশ্ব কাপ ক্রিকেটের সেমি ফাইনাল ম্যাচ দেখার জন্য নিমন্ত্রিত হয়েছিলেন. ফলে তথাকথিত “ক্রিকেট কূটনীতি” করে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ধীরে আবার করে তৈরী হতে শুরু করেছিল.

রাশিয়ার ভারত বিশারদ ও ভারতীয় গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান তাতিয়ানা শাউমিয়ান বলেছেন:

“নিজের থেকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর, যখন এই দুই দেশের মধ্যে বহু সমাধানের অপেক্ষায় থাকা সমস্যা রয়েছে, তখন খুবই আশাব্যঞ্জক বাস্তব বিষয়. এত গুলি বছর ধরে চলে আসা বিরোধের পরে প্রয়োজন হয়েছে সম্পর্ক ঠিক করার জন্য রাস্তা খোঁজার, তাদের একটা সভ্য গড়ন দেওয়ার... দুই দেশেরই এবারে উচিত্ হবে বিরোধের থেকে বের হওয়ার, আলোচনার টেবিলে বসার”.

বিগত সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক কিছুটা ভাল হয়েছে. দুই মাস আগে ভারত ও পাকিস্তান ভিসা ব্যবস্থা সহজ করার জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে. কিন্তু প্রক্রিয়া চলছে খুবই মন্দ গতিতে. কয়েকদিন আগেই ভারতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রেহমান মালিকের সফর মুলতুবি রাখা হয়েছে – ভারতের পার্লামেন্টের আসন্ন শীত অধিবেশনের জন্যই. কিন্তু অনেক পর্যবেক্ষকই মনে করেন যে, এটা করা হয়েছে ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের কাছে ২০০৮ সালের হামলার নাটের গুরুদের হয় নিজেরা শাস্তি দেওয়া অথবা ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বানে সাড়া না দেওয়ার জন্যেই. ভারত সরকার, পাকিস্তানের হাতে “লস্কর-এ-তৈবা” দলের পাণ্ডা হাফিজ সৈয়দের বিরুদ্ধে যথেষ্ট রকমের সাক্ষ্য প্রমাণ ২০০৮ সালের হামলা প্রসঙ্গে তুলে দেওয়া স্বত্ত্বেও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে প্রতিবারে বলা হয়েছে যে, তা যথেষ্ট নয় ও খালি নতুন প্রমাণের দাবী করা হয়েছে, যাতে এই রকমের সব দোষী আততায়ীদের কুকাণ্ড প্রমাণিত হয়.

বোঝাই যাচ্ছে যে, মুম্বাই হামলার মামলায় এখনও দাঁড়ি টানার সময় আসে নি.