ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইনের হামাস গোষ্ঠীর লোকরা এখনও শান্তি স্থাপন নিয়ে কোনও চুক্তিতে আসতে পারছে না. আরও বেশী করেই তারা বাইরের খেলোয়াড় দলে টানছে. প্যালেস্টাইনের লোকদের স্বার্থ দেখছে ইজরায়েল ও টিউনিশিয়া. আর কাতারের আমীর ঘোষণা করেছে যে, আরব বসন্তের পরে জোট বদ্ধ মুসলিম বিশ্বের উচিত্ এবারে ইজরায়েলকে কড়া জবাব দেওয়া. কিন্তু গাজা সেক্টরে বিরোধের থেকে প্রধানতঃ লাভবান হতে চলেছে ইরান.

ইজরায়েল মনে করা হয়েছে যে, তৈরী আছে এই ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রকে আক্রমণ করতে. ইজরায়েলের লোকদের হামাস গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে অমনযোগী হওয়ার অর্থ হল এই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সময়েরই পিছিয়ে যাওয়া, এই কথা উল্লেখ করে প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মী ভ্লাদিমির সাঝিন বলেছেন:

ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইনের মধ্যে যে কোন রকমের সশস্ত্র বিরোধের ঘটনা পরম্পরাতেই ইরানের লাভ. তা যেমন লোককে উত্তেজিত করে প্রচারের কাজে, তেমনই স্পষ্টই সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও. কারণ এই পরিস্থিতি যে কোন ভাবেই ইজরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের পারমানবিক কেন্দ্র গুলির উপরে হামলাকে পিছিয়ে দেবে”.

একেবারেই উল্টো একটা ধারণাও রয়েছে. সেটা মানতে হলে ইজরায়েল এখন গাজা সেক্টরে যুদ্ধ করে নিজেদের দক্ষিণের লড়াইয়ের পিছনের এলাকা নিরাপদ করছে, যাতে ইরানের উপরে যদি আসন্ন সময়ে আঘাত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে তা কাজে লাগবে. এই কয়েকদিন আগেও ইরান হামাস গোষ্ঠীর প্রধান স্পনসর ছিল. এবারে এই ভূমিকা নিয়েছে কাতার, আর ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রের গাজা সেক্টরের উপরে প্রভাব কমেই গিয়েছে. কিন্তু গাজা অঞ্চলে সেই রকমের গোষ্ঠীও রয়েছে, যারা ইরানের লোকদের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক বজায় রেখেছে – আর ইজরায়েলের তরফ থেকে ইরানের উপরে আঘাতের ক্ষেত্রে, তারাও পাল্টা আঘাত হানতে পারে.

তা সে যাই হোক, ইরানের সম্পর্ক ছাড়াও ইজরায়েল ও হামাস গোষ্ঠীর কারণ যথেষ্ট ছিল সামরিক লড়াই করার, এই কথাই উল্লেখ করে মস্কোর রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের প্রাচ্য গবেষণা বিভাগের অধ্যাপক নিকোলাই সুরকভ বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, এই বিরোধ তীক্ষ্ণ হয়েছে হামাস গোষ্ঠীরই ভিতরের দৃষ্টিকোণের বদলের জন্য. সম্ভবতঃ, ইজরায়েলেরও আগ্রহ ছিল, কারণ এই বিরোধ থেকে দুই পক্ষই কিছু রাজনৈতিক মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে: নাথানিয়াখু – ভবিষ্যতের নির্বাচন সম্ভাবনার প্রশ্নে, আর হামাস গোষ্ঠী – নিজেদের স্থিতিশীলতা দেখাতে পারবে ও ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে যে তারা তৈরী সেটাও দেখাতে পারবে”.

কোন সন্দেহ নেই যে, এই বিরোধ থেকে হামাস গোষ্ঠী নিজেদের রাজনৈতিক মূলধন কয়েক গুণ বৃদ্ধি করেই বের হবে. প্রসঙ্গতঃ – তা হবে পিএলও গোষ্ঠীর নেতা মাখমুদ আব্বাসের জন্যই, যারা রাষ্ট্রসঙ্ঘে কূটনৈতিক ভাবে ইজরায়েলের উপরে আক্রমণ করতে চাইছে. এখানে বাদ দেওয়া যায় না যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘ গাজা সেক্টরের যুদ্ধে প্রধান পরাজিত পক্ষই হতে পারে.