ওয়াশিংটন পোস্ট সংবাদপত্রের মতে ক্রেমলিন রাশিয়ার ইন্টারনেট খণ্ডের উপরে নিয়ন্ত্রণ কড়া করতে চাইছে. এই কথার সমর্থন খুঁজে পাওয়া গিয়েছে রুনেটে তথাকথিত সরকারি ভাবে উদ্ভব হওয়া কালো তালিকা সংক্রান্ত ব্যাপারে মন্তব্যের মধ্যে.কিন্তু বিশ্ব জোড়া জালের রুশ এলাকায় বাধা তৈরী করাটা অন্তত এই কারণেই খুব খেলো দেখাচ্ছে যে, পশ্চিমে ইন্টারনেটের উপরে সম্পূর্ণ স্বাধীনতাকে খর্ব করার চেষ্টা হয়েছিল সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ১৯৯৬ সালে.

প্রথম থেকেই আমেরিকার অভিভাবকরা মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষকরা ভয় পেয়েছিলেন যে, বহু সাইটের অশালীন বিষয় বস্তু শিশুদের উপরে বাজে প্রভাব ফেলবে. আর তাই ১৯৯৬ সালে আমেরিকার কংগ্রেসে তৈরী করা হয়েছিল টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে শালীনতা সংক্রান্ত নিয়মাবলী, যা সাইটে অপমানজনক অথবা অশালীন কিছু রাখার বিরুদ্ধে, কিন্তু যখন বোঝা গেল যে, এই নিয়ম আমেরিকার সংবিধানের পরিপন্থী, তখন তার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল.

বর্তমানে সমস্ত রাষ্ট্রই কোন না কোন মাত্রায় ইন্টারনেটে তথ্যের প্রবাহকে বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করছে. আর এটা প্রামাণ্য, কারণ ইন্টারনেট শুধু পর্ণোগ্রাফির প্রসার ও মাদক আসক্তিকেই জনপ্রিয় করে না বরং তা হতে চলেছে খুবই শক্তিশালী ভাবাদর্শগত অস্ত্র ও চরমপন্থার মঞ্চ.

এক জার্মান সক্রিয় কর্মী ও netzpolitik.org নামের ব্লগ সাইটের সম্পাদক মার্কুস বেকেদাহল বিশ্বাস করেন যে, ইন্টারনেটের বিষয়ে যে কোন সরকারেরই উচিত্ হবে সর্বজন স্বীকৃত মানবাধিকারের নীতি মেনে চলা, তিনি বলেছেন:

“বহু দেশের পক্ষ থেকেই মানবাধিকারের ডিক্রি স্বাক্ষর করা হয়েছে. এই নীতি গুলিই ডিজিট্যাল ক্ষেত্রে কাজ করা উচিত্. কাজের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের উপরে নিয়ন্ত্রণ খালি বেড়েই চলেছে, যা তাদের বাক্ স্বাধীনতা ও সমাবেশের স্বাধীনতা খর্ব করেছে. নিয়মিত ভাবেই উদ্ভব হচ্ছে, নতুন ধরনের নিয়ন্ত্রণের হাতল ও এমনকি সেন্সরের উপায়, যা তথ্যের স্বাধীনতাকেও খর্ব করেছে”.

Open net initiative সাইটের বিশেষজ্ঞরা একটা ইন্টারনেটের উপরে নিয়ন্ত্রণ বিশ্বের কোন দেশে কি রকমের রয়েছে, তা নিয়ে শ্রেনী বিভাগ করার চেষ্টা করে দেখেছেন. সর্বত্র নিয়ন্ত্রণের ও শোধনের বিষয়ে এই রেটিংয়ে প্রথম স্থান পেয়েছে চিন. তাদের পরেই প্রযুক্তিগত সম্ভাবনার বিচারে রয়েছে ইরান, উজবেকিস্তান, সিরিয়া, ভিয়েতনাম, কিউবা ও উত্তর কোরিয়া, যেখানে ইন্টারনেটের গ্রাহক সংখ্যাই মাত্র কয়েক হাজার. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেন ও জার্মানী সেই সমস্ত দেশের দলে পড়েছে, যেখানে ইন্টারনেটে সংশোধনের চেষ্টা খুবই সামান্য. রাশিয়া পড়েছে সেই সমস্ত দেশের দলে, যেখানে পরোক্ষ ভাবে সংশোধন করার চেষ্টা করা হয়েছে.

২০০৪ সালেই আমেরিকার একটা মাঝারি মানের কোম্পানী MetaCarta কাজ শুরু করেছিল এমন ধরনের প্রোগ্রাম বানানোর, যাতে যে কোন রকমের বৈদ্যুতিন লেখার স্রষ্টার হদিস পাওয়া সম্ভব হয়. এই কাজে পেন্টাগনের একটি বিভাগ অর্থ দিয়ে সাহায্য করছে. একই ধরনের কাজ বিশ্বের বহু দেশেই করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন জাতীয় প্রতিরক্ষা নামের জার্নালের সম্পাদক ইগর করোতচেঙ্কো রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে, তিনি বলেছেন:

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এটা অনেকদিনই রয়েছে, আর সব মিলিয়ে এটা এমন একটা বিশ্ব জোড়া বৈদ্যুতিন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা যে, যখন বিগ ব্রাদার সবই দেখছে, কখনোই ঘুমিয়ে নেই. তাই যে কোন ধরনের সক্রিয়তার চিহ্নই ইন্টারনেটে লক্ষ্য করে দেখা হচ্ছে, আর সবচেয়ে মোদ্দা কথা হল, সেই কাজকে নির্দিষ্ট গ্রাহকের সঙ্গেই জোড়া হচ্ছে. সেখানে কোন রকমের বকলমের উপায় নেই ও তা কখনও হবেও না”.

বিশেষজ্ঞদের মতে রাশিয়ার প্রশাসন ব্যবস্থাগত স্তরে এখনও অনেক দূরে রয়েছে পশ্চিমের দেশ গুলির থেকে ও ইন্টারনেটের সাহায্যে সামাজিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে প্ররোচনার বিষয়ে. প্রসঙ্গতঃ, বেশীর ভাগ বিশেষজ্ঞই বিশ্বাস করেন যে, ইন্টারনেটকে সম্পূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব.