“পাঝভাক” সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে আফগানিস্তানের দূতাবাস পাকিস্তানের জেল থেকে ছাড়া পাওয়া তালিবদের হাতে আফগানিস্তানের পাসপোর্ট তুলে দিয়েছে, যাদের ছাড়া হয়েছে আফগানিস্তানের সর্ব্বোচ্চ শান্তি পরিষদের তদ্বিরের ফলে. পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ছাড়া পেয়েছে অংশতঃ কাবুল রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্যপাল দাউদ ঝিলানি, আর তারই সঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী ও তালিব সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী আল্লাহদাদ তৈব ও নুরুদ্দীন তুরাবি.

সর্ব্বোচ্চ শান্তি পরিষদে আশা করা হয়েছে যে, এই লোকদের ছেড়ে দেওয়া কাবুলে প্রশাসন ও তালিবদের মধ্যে আলোচনার শুরুতে একটা প্রভাব পড়বে.

কিন্তু আফগানিস্তানের সমস্ত রাজনীতিবিদই এই ধরনের আশাবাদ মানতে রাজী নন. কোন রকমের আস্থা বা ভরসা নেই যে, এই তালিবরা কোন রকম ভাবে রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে. এমনকি কোন গ্যারান্টিও নেই যে, তাদের সেই ধরনের কোনও ইচ্ছে রয়েছে বলে, - এই কথা “রেডিও রাশিয়াকে” বলেছেন আফগানিস্তানের “ঝাবায়ে মিলি” নামক রাজনৈতিক দলের তথ্য সচিব ফাজেল সানচারকি, তিনি আরও বলেছেন:

“বোধহয় এখনই এই নিয়ে কথা বলা তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে, কিন্তু আমি মনে করি যে, খুব শীঘ্রই এই জেল থেকে ছাড়া পাওয়া ব্যক্তিরা নিজেদের স্থায়ী ভাবে থাকার জায়গা হিসাবে পাকিস্তানকেই বেছে নেবেন. সেখানে তারা থাকবেন তাদের পরিবারের সঙ্গে, যারা সেখানে বহুদিন ধরেই আছেন, আর তারই সঙ্গে নিজেদের দলের লোকদের সঙ্গেও, যাদের সঙ্গে তারা নিজেদের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালিয়ে যাবেন. অবশ্যই ভালোর আশা করতেই ইচ্ছা হয় – কিন্তু আশাবাদী হওয়ার জন্য কোন বিশেষ ভিত্তি নেই”.

একই রকমের মত আফগানিস্তানের সাংবাদিক মুস্তাফা মাহমুদের, তিনি বলেছেন:

“আমি মনে করি এই নয় জন তালিব, যাদের পাকিস্তানের জেল থেকে ছাড়া হয়েছে, তারা আফগানিস্তানের শান্তি প্রক্রিয়াতে কোন ভাবেই প্রভাব বিস্তার করবে না. তালিবদের মধ্যে প্রতিশোধের মানসিকতা এটা পাল্টাবো না, তাই মনে করি যে, ভাল হত, যদি শান্তির প্রশ্ন সরাসরি আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সরকারের মধ্যে সমাধান করা হত”.

প্রসঙ্গতঃ, বর্তমানের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে কোন রকমের নিশ্চিত গ্যারান্টি কেউ দিতে পারে না. এই রকমই মনে করেছেন সমীক্ষক কাসেম বাহির:

আমরা এখন খুবই জটিল ও বহু অর্থবহ প্রক্রিয়াতে রয়েছি, যাতে বহু রকমের রাজনৈতিক স্বার্থ মিশ্রিত ভাবে রয়েছে, আর তারই সঙ্গে রয়েছে এক বৃহত্ রাষ্ট্র ও বহু অন্যান্য দেশের স্বার্থ. তারা এবং পাকিস্তানও চায় দেখাতে যে, তারা চেষ্টা করছে আফগানিস্তানে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য.

একই সঙ্গে আমাদের ভোলা উচিত্ নয় যে, আমাদের বিরোধীদের দলবলের মধ্যে সেই ধরনের শান্তিতে অনিচ্ছুক গোষ্ঠীও রয়েছে, যেমন হাক্কানি নেটওয়ার্কের মতো সন্ত্রাসবাদীরা. তাদের জন্য শান্তি চলতে পারে না. তাই যদি কোন একটা আন্দোলনও শান্তির দিকে যেতে চায়, তবুও তা খুব একটা স্থিতিশীল হবে না ও যে কোন মুহূর্তেই উল্টো হয়ে যেতে পারে. আমাদের খুবই সাবধান হতে হবে”.

“ঝাবায়ে মিলি” দলের তথ্য সচিব ফাজেল সানচারকি সহমত হয়েছেন যে, পরিস্থিতি একেবারেই একই রকমের নয়, আর তা যে কোন মুহূর্তেই যেমন এক দিক থেকে অন্য দিকে চলে যেতে পারে, তার মধ্যে খুবই কঠিন হবে ইসলামাবাদের এই ব্যবহারের কোন মূল্যায়ন করা, তিনি তাই যোগ করেছেন:

“ইসলামাবাদ এই ভাবেই দেখাতে চায় যে, তারা কাবুলের সরকারের সঙ্গে বুঝি তৈরী রয়েছে শান্তি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে, কিন্তু আফগানিস্তানের পার্লামেন্টে ও জনগনের মধ্যেও আমাদের প্রতিবেশী দেশের কোন সিরিয়াস ইচ্ছা আছে বলে সন্দেহ রয়েছে.পাকিস্তান এখানে একটা ভাল দান দিয়েছে. একদিকে তারা এই তালিবদের থেকে ছাড়া পেয়েছে, যাদের জেলে ধরে রাখতে গিয়ে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে ও যাদের পক্ষ থেকে খালি সমস্যারই সৃষ্টি হয়েছে, আবার অন্য দিক থেকে ইসলামাবাদ এবারে চাইছে, যাতে আফগানিস্তানের লোকরা শান্তি প্রক্রিয়াতে তাদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানায়.

তারই মধ্যে যদি পাকিস্তান সত্যই আফগানিস্তানে শান্তি চাইত, তবে তারা খুবই পারে সেটা করার জন্য আরও সিদ্ধান্ত মূলক কোন কাজ করে দেখাতে, যেমন, আফগানিস্তানকে তালিবদের কোন একটা অর্থবহ তালিব ব্যক্তিকে হাতে তুলে দিতে পারত, যেমন মুল্লা বরদার. তাদের নিজেদের দেশেই সমস্ত ক্যাম্প বন্ধ করুক, যেখানে তালিবরা প্রশিক্ষণ পাচ্ছে ও শেষমেষ আমাদের দেশ দুটির সীমান্তে একটা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুক, এই সব. কিন্তু তারা এই সবের কিছুই করছে না. তাই সন্দেহ রয়েছে পাকিস্তানের ইচ্ছার সততা নিয়েই”.

আফগানিস্তানের সর্ব্বোচ্চ শান্তি পরিষদের সদস্য সারা সোরহ আবি বরং বেশী আশাবাদ নিয়েই কথা বলেছেন. তিনি সেই ধারণা থেকেই কথা বলেছেন যে, শেষে সকলেরই শান্তির প্রয়োজন রয়েছে.

আফগানিস্তানের সর্ব্বোচ্চ শান্তি পরিষদ একাধিকবার চেষ্টা করেছে তালিবান আন্দোলনের সঙ্গে একটা আলোচনার পর্যায়ে পৌঁছতে, কিন্তু এখনও এই ধরনের চেষ্টা অবধারিত ভাবেই বিফল হয়েছে. পাকিস্তানের জেল থেকে নয় জন তালিব গোষ্ঠীর নেতা ছাড়া পাওয়ার পরে তা শুরু হবে কি না – তা বোঝা যাবে খুবই আসন্ন সময়ে.