দেশ জোড়া লোকসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা করা হয় নি, কিন্তু পাকিস্থান জুড়েই প্রাক্ নির্বাচনী লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছে. নির্বাচনের প্রস্তুতির ঢেউতে আবারও ভেসে উঠেছে সেই সব মুখ, যাদের মনে হয়েছিল স্মৃতির অতলে বুঝি তলিয়ে গিয়েছে. গত সপ্তাহের শেষে পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও বর্তমানে লন্ডনের বাসিন্দা পারভেজ মুশারফ বেশ কিছু সগর্জনে ঘোষণা শুনিয়েছেন. তিনি রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ও ২০১৩ সালের নির্বাচনেও লড়তে চাইছেন. মুশারফ বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁকে এত সহজে গা থেকে ঝেড়ে ফেলা যাবে না.

বর্তমানের পার্লামেন্ট ও রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির দায়িত্বকাল শেষ হতে চলেছে আগামী বছরেই. ২০১৩ সালের মে মাস শেষ হওয়ার আগেই পার্লামেন্ট বাতিল করতে হবে, আর নতুন নির্বাচনের দিন ঘোষণা করতে হবে. এই সবেরই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে ও নির্বাচনের পরে কি হতে পারে, তার সম্বন্ধে ধারণাও রয়েছে অনেক রকমের. কিন্তু প্রশাসনের কিছু আপাত গঠন এখনই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“খুবই কম সম্ভাবনা রয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি জারদারি ও তার পিছনে থাকা পাকিস্তান পিপলস্ পার্টি ২০১৩ সালের পরে আবারও ক্ষমতায় আরোহণ করতে পারবে. তাদের পরিবর্তে কে আসবে? এটা বর্তমানের “ব্যবস্থারই” প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের জাতীয় মুসলিম লীগ ও তাদের নেতা, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ অথবা কোন “তৃতীয়” শক্তি?এই রকমের শক্তি প্রায়ই বলা হচ্ছে “ন্যায়ের আন্দোলন” (পাকিস্থান তেহরিক-ই-ইনসাফ), ও সেই দলের নেতা প্রাক্তন ক্রিকেট তারকা ইমরান খানকে”.

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশারফ বর্তমানে অভিবাসনে, তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে (তার মধ্যে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানের রাষ্ট্রপতির স্ত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যারও), আর, মনে হয়েছিল যে, তার পক্ষে দেশে ফিরে আসাই শুধু ক্ষতিকারকই নয়, বরং বিপজ্জনকও. কিন্তু মুশারফ নিজেই এবারে “স্কাই নিউজ” টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন যে, নিজের দেশে তার জনপ্রিয়তা ক্রমবর্ধমান. আর সেই সাক্ষাত্কারেই মুশারফ নিজের প্রস্তাব করেছেন যে, দেশের স্বার্থেই বোধহয় ভাল হয় তার দল “সারা পাকিস্তান মুসলিম লীগ” ও ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ দলের শক্তি একসাথে করার.

এই কথা সত্য যে, ইমরান খান তাড়াহুড়ো করেই এই সম্ভাব্য জোট থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়েছেন এই ঘোষণা করে যে, পাকিস্তানে তাঁর দলের সদস্য সংখ্যা সত্তর লক্ষ ও কোন রকমের জোটের প্রয়োজন তিনি দেখছেন না. তার ওপরে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির সাথে, কারণ বরং তাতে দেশেরই বহু লোক তার দলের প্রতি বীতরাগ হতে পারেন.

বহু পর্যবেক্ষকই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, মুশারফ দেশে ফিরতে চাইবেন বলে, যখন তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা চালুই রয়েছে, সেই সময়ে. কিন্তু সব কিছুই এত সহজ নয়, এই রকম মনে করে বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“বাস্তবে, বর্তমানের পরিস্থিতি অনেকটাই ২০০৭ – ২০০৮ সালের পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন ক্ষমতায় পারভেজ মুশারফ ছিলেন, তিনি নিজের জনপ্রিয়তা বর্তমানের রাষ্ট্রপতি জারদারির মতো একই রকম দ্রুত গতিতে হারিয়ে ছিলেন. আর তখন বিরোধী পক্ষের নেতারা - তা যেমন বেনজির ভুট্টো ও আসিফ আলি জারদারি, তেমনই নওয়াজ শরীফ – ছিলেন অভিবাসনে, আর তাদের বিরুদ্ধেও ছিল ফৌজদারী মামলা চালু অবস্থায়. কিন্তু নিজের ক্ষমতায় কমে আসার পরিপ্রেক্ষিতে মুশারফ বাধ্য হয়েছিলেন এদের উপরে অ্যামনেস্টি ঘোষণায়. এই সব নেতারাই তখন দেশে ফিরে এসেছিলেন ও ভুট্টো হত্যা পরে তাঁর স্বামী ও নওয়াজ শরীফ বাস্তবে দেশের ক্ষমতা নিজেদের মধ্যেই ভাগ করে নিয়েছিলেন”.

ইতিহাস আবারও চক্রাকারেই ফিরে এসেছে, আজ দুই “ঐতিহ্যময়” দলের উপরেই লোকের বিশ্বাস হারিয়েছে, যা এই তো মাত্র চার পাঁচ বছর আগেও খুবই জনপ্রিয় ছিল. কিন্তু খুবই বড় প্রশ্ন হয়েছে: ইমরান খান কি এই বারের নির্বাচনে প্রামাণ্য জয় লাভ করতে পারবেন? অথবা তাঁকে তাও প্রাক্ নির্বাচনী জোট বাঁধতে হবে, আরও বেশী অভিজ্ঞ অথচ কম জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেই?