১৯শে নভেম্বর সোমবারে ভারতীয় রাষ্ট্রীয় নেত্রী ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর পঁচানব্বই তম জন্ম দিবস. স্বাধীন ভারতবর্ষের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর কন্যা ইন্দিরা, ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত অপরিবর্তনীয় ভাবেই ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন ছিলেন, আর তারপরে আবার ১৯৮০ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে ১৯৮৪ সালের ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, যে দিনে এক ষঢ়যন্ত্রের ফলে তাঁর অকাল প্রয়াণ হয়েছিল দেহরক্ষীর গুলিতে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

আজকের এই দিনে যে দিবস পালিত হচ্ছে, তা আমাদের সুযোগ করে দেয় স্বাধীন ভারতের বিকাশের পরিপ্রেক্ষিতে নেহরু – গান্ধী পরিবারের ভূমিকা নিয়ে কথা বলার, যা ভারতকে এক প্রাক্তন উপনিবেশ থেকে এক দ্রুত উন্নতিশীল দেশে পরিণত করেছে. জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী বিভিন্ন সময়ে ভারতের মন্ত্রীসভার প্রধান হয়েছেন. সোনিয়া গান্ধী ও শেষমেষ রাহুল গান্ধী আজ দেশের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে সর্ব্বোচ্চ পদ গুলিতে রয়েছেন. তাঁদের ভারতের জাতীয় বিকাশের ক্ষেত্রে অবদান অপরিসীম.

২০০৯ সালে যখন সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট – বাম ও মধ্য পন্থী দল গুলির গোষ্ঠী, যাদের নেতৃত্বে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস রয়েছে, তারা দ্বিতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় উপনীত হয়েছিল, তখন মনে হয়েছিল যে, ভারত সঠিক পথেই চলছে. অর্থনীতি বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পেরেছিল শতকরা সাত ভাগ সামগ্রিক বার্ষিক উত্পাদনের উন্নতি দিয়ে, আর তার গতি বাড়তেই থাকছিল. মূল্যবৃদ্ধির সূচক ছিল নীচু আর “বিশ্বের সর্ব বৃহত্ গণতন্ত্রের” অর্থনীতি যদিও বিতর্কের অবকাশ রেখেছিল, তাও ছিল খুবই স্থিতিশীল. কিন্তু মাত্র দুই বছর পরেই অর্থনৈতিক প্রগতি মন্দ হয়ে পড়েছিল, বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি হতে শুরু করেছিল, আর মূল্যবৃদ্ধি ২০১০ সালের শুরু থেকে ২০১২ সালের শুরু পর্যন্ত কম থাকার পরে দ্রুত বাড়তে শুরু করেছিল. দেশের জনগনের মধ্যেও অসন্তোষ বৃদ্ধি হতে শুরু করেছিল. সরকারের সমালোচনা শক্তিশালী হতে শুরু করেছিল, ক্ষমতাসীন দলের নেতৃত্বেরও কাজকর্মের সমালোচনা বাড়তে শুরু করেছিল.

ভারতে পাঁচটি রাজ্যে এই বছরের বসন্তে হয়ে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনে দেখা গিয়েছিল যে, ভারতীয় লোকরা ক্ষমতাসীন “জাতীয় কংগ্রেসের” প্রতি আস্থা হারিয়েছেন. নির্বাচন প্রশাসনের জন্য পরিণত হয়েছিল বেদনা দায়ক ঘটনা: পাঁচটির মধ্যে মাত্র একটি রাজ্যে তাঁরা জয়ী হতে পেরেছিলেন. বিরোধী পক্ষের জন্য সাফল্য বয়ে আনা নির্বাচন, প্রতিক্রিয়া হয়েছিল পরপর বেশ কয়েকটি বড় দুর্নীতি সংক্রান্ত স্ক্যান্ডালের, যা এই “জাতীয় কংগ্রেসের” সঙ্গেই জড়িত, আর তারই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার সঙ্গেও, - এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার রাজনীতি বিশেষজ্ঞ আলেক্সেই মাকারকিন বলেছেন:

“ভারতের, সেই দেশের, যেখানে রয়েছে রাজনৈতিক ভাবে গণতন্ত্র, সেখানে পরবর্তী নির্বাচনে নিজেদের মুখ রক্ষা করতে না পারা মন্ত্রীসভাকে বিশ্বাস ও সমর্থন না জানানোর উপায় রয়েছে. যদি মন্ত্রীসভা নিজেদের দুর্নীতির কারণে অনেক বেশী দূর অবধি চলে যায়, তবে বিরোধী পক্ষকে ক্ষমতায় আনার উপায় রয়েছে, আর তা সভ্য উপায়েই, কোন রাস্তায় আন্দোলন না করেই”.

ভারতীয় রাজ্য গুলিতে স্থানীয় নির্বাচনে হার হওয়া – খুবই আশঙ্কা জনক সঙ্কেত. “জাতীয় কংগ্রেসের” নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ইতিমধ্যেই আশ্বাস দিয়েছেন “এই বিষয় নিয়ে পরিস্থিতি বিচার করে দেখার ও হয়ে যাওয়া ভুল গুলি ঠিক করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা তৈরী করার”. ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ তাঁর মন্ত্রীসভায় রদবদল করেছেন ও তাকে আরও নবীন প্রজন্মের নেতা বহুল করে তুলেছেন. কিন্তু রাহুল গান্ধী, যিনি একই সঙ্গে দেশের তিন প্রাক্তন প্রধানের ছেলে, নাতি ও প্রপৌত্র, তিনি সরকারে প্রবেশ করেন নি. কেউ আবার ইতিমধ্যেই রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ইতি টেনে দেওয়ার কথা তুলেছেন, আবার অন্য কেউ বলেছেন এই পরম্পরার একেবারেই ইতি হওয়ার কথা.

নিজেদের সময়ে নেহরু – গান্ধী পরিবার পরাজয় খুব একটা কম দেখেন নি, কিন্তু প্রত্যেকবারই তাঁরা আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন ও নিজেদের প্রভাব পুনর্স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন. এখন দলের নেতাদের, যাঁদের মধ্যে রাহুলও রয়েছেন, তাঁদের অনেক কিছুই করতে হবে, যাতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও নেহরু- গান্ধী পরম্পরার উপরে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়. এর জন্য এক ভাল উদাহরণ রয়েছে – ইন্দিরা গান্ধী সব সময়েই শেষ অবধি লড়াই করে গিয়েছেন.