সেক্টর গাজার জন্য হয়ত সাময়িক যুদ্ধ বিরতি অথবা বড় কোন যুদ্ধ অপেক্ষা করছে. গাজা, কায়রো ও জেরুজালেম থেকে এ ধরণই নানা সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে.

গাজায় চলমান সংঘাত সাময়িক বা তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ত আজ বিকেলে অথবা ১৯ নভেম্বর সোমবার সকালে হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফিলিস্তিনি সরকারের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য জানান. তিনি আরও বলেন, মিশরের মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা বিরতিহীনভাবে এগিয়ে চলছে. তবে ইসরাইল, ফিলিস্তিন কিংবা হামাস নেতারা এ বিবৃতির সত্যতা স্বীকার করেন নি. এদিকে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের এ ঘোষণার ১ ঘন্টার পরই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইসরাইল নিজেদের সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করতে তৈরী আছে. তিনি আরও বলেন, “যে কোন মূহুর্তে ইসরাইলি সেনারা স্থল পথে সামরিক অভিযান শুরু করতে তৈরী আছে”.

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বিবৃতির সাথে পুরোপুরি মিল রয়েছে মিশরীয় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মুরসির ঘোষণার সাথে. তিনি কায়রোতে তুর্কি প্রধানমন্ত্রী তাইপ এরদোগানের সাথে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন. পরে এক যৌথ প্রেস বিফিংয়ে মুরসি বলেন, যদিও ১০০ ভাগ নিশ্চয়তা না থাকলেও সংঘাত বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে. তিনি বলেন, “আমরা ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি. সংকট নিরসনের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে. সামরিক অভিযান বন্ধ হতে পারে তার বেশ কিছু সংকেত আমরা পেয়েছি.

প্রসঙ্গত, মিশর এই প্রথমবারই নয়, এ দেশটির মধ্যস্থতার জন্যই এর আগেও বেশ কয়েকবার যুদ্ধ বিরতি পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে. গনমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ইসরাইল ও মিশরীয় গোয়েন্দা বিভাগের প্রতিনিধিরা শনিবার রাতে সিনাইয়ে বৈঠক করেছে.

এদিকে, আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা প্রদানের স্বাপেক্ষে হামাস যুদ্ধ বিরতির সিদ্ধান্ত নিবে বলে বাংর্তাসংস্থাগুলো জানিয়েছে.

অন্যদিকে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরান ফাবিউস রোববারের মধ্যপ্রাচ্যের সফরে হামাসকে ওই নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য যে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবেন তার কোন সম্ভাবনা নেই. ফরাসী পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার ইসরাইলি সহকর্মী আভিগদ লিবেরমান ও প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে সাক্ষাত করবেন. তিনি একই সাথে রামাল্লা সফর করবেন যেখানে ফিলিস্থিন সরকারের প্রশাসনিক কার্যালয় অবস্থিত.

ফিলিস্তিনি ভূখন্ড নিয়ে ইসরাইলের নিজেদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করার সময় এসেছে এবং তাদের উচিত প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর কথা বেশি করে শোনা. মধ্যপ্রাচ্যে গত বছর যে আরব বিপ্লব ঘটে গেল ইসরাইল তা বিবেচনা করছে না. এমনটি বলেছেন ইউরোপীয় পরিষদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক খ্যাতিমান গবেষক দেনিয়েল লেভি. তিনি বলেন, “ইসরাইলের জন্য এখন সামরিক হুঁমকি নয়. নিজেদের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা কি এখনও ইসরাইলের উচিত হবে. আমি চলতি সপ্তাহ, মাস কিংবা বছরের কথা বলছি না. আমি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা বলছি. ইসরাইলকে পূর্বের চরিত্র বজায় রাখা ঠিক হবে না. ফিলিস্তিনি মাটি ও জনগনের অধিকার হরন করতে পারে না. চিরকালই খেলার বল নিজের হাতে রাখা ঠিক না”.

এদিকে আরব লীগের একটি প্রতিনিধি দল আজ বিকেলে অথবা আগামীকাল সোমবার গাজা সফর করবে. শনিবার কায়রোতে একটি জরুরি সভা করছে আরব লীগ.