বেইজিংয়ে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির(সিপিসি) ১৮তম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল. দলের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে শি জিনপিংয়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছে. ছয় মাস পরই তিনি হবেন চীনের আগামীর প্রেসিডেন্ট. শি জিনপিংয়ের প্রধান হিসেবে লি কেকিয়াংকে নির্বাচিত করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি. তাঁরাই আগামী ১০ বছর চীনের নেতৃত্ব প্রদান করবেন.

প্রায় ১ সপ্তহ ধরে চলা বিশ্বের অন্যতম রাজনৈতিক দলের সম্মেলন শেষ হয়েছে গত ১৪ নভেম্বর বুধবার. এদিকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলনের পূর্বে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, পার্টির এবং চীনের সবদিকেই পুনঃসংস্কার করা প্রয়োজন. সম্মেলনের অধিকাংশ সেশনে সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয় নি. এদিকে ‘সরকার’ জার্নালের সহকারি সম্পাদক আলেক্সান্দার গাবুয়েভ মনে করেন যে, দল নিজেদের সংস্কার করার জন্য এখনই প্রস্তুত না. রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, “অনেক নাটকীয়তার কথা বলা হয়েছিল এই সম্মেলনকে নিয়ে, কিন্তু কার্যত তেমন কোন বিশেষ বৈশিষ্ট আমরা দেখতে পাই নি. সেই একই লাল রং সবক্ষেত্রেই, সেই একই বিষন্নতা ও বিরক্তিকর প্রতিনিধিরা. হু জিনতাও অবসর নিতে যাচ্ছেন এবং এখন তাঁর উচিত হবে কিভাবে নিজের ক্ষমতা ধরে রাখা যায় তার ওপর গবেষণাধর্মী বৈজ্ঞানিক চর্চার উন্নয়ন ঘটানো. সেই একই “ইন্টারন্যাশনাল”, যদিও এই শব্দ কেউই জানেন না”.

চীনে দেন সেয়াওপিনার সময় থেকেই সেখানে দেশ পরিচালনার ক্ষমতা প্রতি ১০ বছর পর পরিবর্তন করা হয়ে থাকে. নতুন নেতা প্রথমে দলের সর্বোচ্চ নেতার আসন গ্রহণ করেন এবং এর ৬ মাস পরই চীনের প্রেসিডেন্ট পদের দায়িত্ব নেবেন. তবে পূর্বের চীনা নেতার তুলনায় শি জিনপিংয়ের কিছুটা হলেও আলাদা বৈশিষ্ট রয়েছে. তার বয়স ৬০ এরও নিচে এবং তাকে অনেকেই ইউরোপীয় রাজনীতিবিদদের সাথে তুলনা করেছেন. এমনটি বলছেন চায়না স্ট্রাটেজিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক আলেক্সেই মাসলোভ. তিনি বলেন, “শি জিনপিংয় কোমনীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী, আমি তাকে হাসিখুশি মনের মানুষ হিসেবে বলতে চাই. গতানুগতিক চীনা নেতারা যারা সর্বদাই কঠোর মনোভাব নিয়ে কথা বলেন, সেই অর্থে তিনি অনেকটাই ভিন্ন ধরণের. বলা যায় ইউরোপীয় রাজনীতিবিদদের মতই. সবদিক থেকে তিনি দেখতেই অনেক সুন্দর”.

চুড়ান্ত ওই সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটি দলের পলিটব্যুরোর স্থায়ী সদস্যদের নাম ঘোষণা করেছে. নতুন কমিটিতে সদস্য সংখ্যা ৯ থেকে কমিয়ে ৭ করা হয়েছে.

এদিকে পার্টির নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরই শি জিনপিংয় নিজের দেওয়া প্রথম বক্তব্যে তার নেতৃত্বে চীন ও কমিউনিষ্ট দলের প্রধান সমস্যাবলী উল্লেখ করেছেন. তার বক্তব্যে চীনা জাতীয়ত্ব পুনঃজাগরনের সুর পাওয়া যায়. তিনি সাধারণ জনগনের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও দেশের পরিবেশ পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন. শি জিনপিংয় একই সাথে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরীণ আমলাতন্ত্র ও দুর্নীতির সমস্যাও তুলে ধরেন. আশাকরা হচ্ছে যে, নতুন চীনা সরকার পার্টির অভ্যন্তরীণ রেষারেষিতে না গিয়ে এ সব সমস্যার সমাধানে বেশী আগ্রহী হবে.