রাশিয়া খনিজ শেল তেল উত্তোলনের কাজ শুরু করতে চলছে. প্রায় ৪৫ কোটি বছর আগে সমুদ্রের নীচে উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবাশ্ম থেকে তা মূলতঃ এই শেল তেলে পরিণত হয়েছে. বর্তমানে এই ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয় জায়গায় রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র. কিন্তু রাশিয়ার মাটির নীচে (জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার যোগ্য শেল তেলের হিসাবে) একই রকমের বহু সম্ভাবনাময় বলেই মনে হয়েছে. এই দেশ বিশ্বের সমগ্র খনিজ তেল সঞ্চয়ের শতকরা দশ ভাগের অধিকারী.

বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী সব মিলিয়ে বিশ্বে শেল তেলের সঞ্চয় বেশ কয়েক গুণে সমস্ত খনিজ তেলের সঞ্চয়ের বেশী ও বর্তমানে যে পরিমাণে খনিজ তেল ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে শেল তেল প্রায় ৩০০ বছর অবধি যথেষ্ট হবে. খুবই উল্লেখ যোগ্য পরিমানে শেল তেল খুঁজে পাওয়া গিয়েছে শুধু আমেরিকা বা রাশিয়াতেই নয়, বরং অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চিন, ইজরায়েল, কিছু ইউরোপীয় দেশে, নিকট প্রাচ্যে ও উত্তর আফ্রিকাতে. শক্ত শেল থেকে খনিজ তেল নিষ্কাশনের প্রধান সমস্যা ছিল এই ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত খরচ. আরও একটি প্রধান আশঙ্কা হল শেল থেকে খনিজ তেল উত্পাদনের বিষয়ে পরিবেশ সংরক্ষণের প্রশ্ন. এটা অনেকটাই নির্ভর করছে শেল তেল উত্তোলনের সময়ে আবহাওয়াতে অনেক কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হওয়ার উপরে ও গ্রীন হাউস এফেক্টের জন্য.

খনিজ শেল তেলের যুগ সদ্য শুরু হয়েছে আর তা রাশিয়ার জ্বালানী শক্তি ক্ষমতার সঙ্গে বিশাল পরিমানে নতুনত্ব দিতে পারে. এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় খনিজ তেল ও গ্যাস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আন্দ্রেই কনোপ্লিয়ানিক বলেছেন:

“এটা – উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, এটা – আধুনিকীকরণের প্রযুক্তি. এর জন্য খনিজ তেল পরিশোধনের শিল্পেও প্রয়োজন হবে দ্রুত প্রযুক্তি বদলের, যাতে এই তেল ব্যবহার যোগ্য হয়. আর এই বিষয়েই আরও কাজ করতে হবে”.

রাশিয়া শেল তেল উত্পাদনের ক্ষেত্রে শুরু করেছে প্রথম যৌথ প্রকল্প গাজপ্রম নেফ্ত ও শেল কোম্পানীকে দিয়ে. পশ্চিম সাইবেরিয়ার খনিজ তেল ক্ষেত্রে এই প্রকল্পে বাস্তবায়নের কথা হয়েছে. তার সম্মিলিত এলাকা প্রায় আমেরিকার টেক্সাস রাজ্য ও মেক্সিকো উপসাগরের এলাকা একসাথে জুড়লে যত হয় ততটাই. আপাততঃ শুধু ভবিষ্যত সম্ভাবনার কথা ভাবা হচ্ছে. কিন্তু ২০২১ সালে পরিকল্পনা রয়েছে কম বেশী উল্লেখযোগ্য পরিমানে এই তেল উত্পাদনের. শেল তেলের প্রতি আগ্রহ অন্যান্য এই তেল উত্পাদন কোম্পানীরাও দেখাতে শুরু করেছে.