পাকিস্তান আফগানিস্তানের অনুরোধে জেল থেকে তালিব দলের নেতাদের ছেড়ে দিতে পারে. এই প্রসঙ্গে এক ঘোষণায় যৌথ ভাবে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর ও আফগানিস্তানের সর্ব্বোচ্চ শান্তি সভা. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

এই ঘোষণা ইসলামাবাদে আলোচনার পরে করা হয়েছে. কাবুলে মনে করা হয়েছে যে, এই ধরনের কাজ তালিবদের আফগানিস্তানের প্রশাসনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে আগ্রহী করতে পারে ২০১৪ সালে ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনী এই দেশ থেকে বিদায় হওয়ার পরে. পাকিস্তানের প্রেসে খবর দেওয়া হয়েছে, যে সব তালিব নেতাদের ছাড়ার কথা হচ্ছে, তাদের মধ্যে তালিব সংগঠনের দুই নম্বর নেতা মোল্লা বার্দার থাকতে পারে, যাকে ২০১০ সালে করাচী শহরে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, আর তারই সঙ্গে তালিব প্রশাসনের প্রাক্তন আইন মন্ত্রীকেও. সরকারি ভাবে পাকিস্তান এই খবরকে অস্বীকার করে নি, কিন্তু বলেছে যে, বার্দারকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে, তবে এই সব পদক্ষেপ, যা নেওয়া হয়েছে, তাতে যদি কোন উন্নতি দেখা যায়, তবেই. ইসলামাবাদে একই সঙ্গে সহমতে আসা হয়েছে যে, এই শান্তি প্রক্রিয়াকে দ্রুত করার জন্য আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে তালিবদের রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে. এখানে পাকিস্তানের ভূমিকাকে আফগানিস্তানের পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণের এক মুখ্য বিষয় বলে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করে রাশিয়ার বিশ্লেষক আঝদার কুরতভ বলেছেন:

“ব্যাপারটা হল যে, পাকিস্তান ও তাদের সামরিক নেতৃত্ব তালিবদের উদয় হওয়ার ব্যাপারের অংশীদার. এক সময়ে পাকিস্তানের আইএসআই তালিবদের এই ধান্ধা থেকেই তৈরী করেছিল যে, এর থেকে লাভ করা যাবে, ভাল রকমের রাজনৈতিক লাভ হবে বলে. বোধহয় এই সময় এবারে এসেছে. আইএসআই এখনও আফগানিস্তানের তালিবদের উপরে প্রভাব বিস্তার করার জন্য সিরিয়াস রকমের পথ খোলা রেখেছে ও আশা করেছে যে, আফগানিস্তানে তা ব্যবহার করে জোট সেনা বাহিনীর প্রত্যাহারের পরে নিজেদের জন্য সুবিধা করা যাবে”.

পাকিস্তানে আজ অনেকদিন ধরেই তথাকথিত “কুয়েতের শুরা” কাজ করছে, তা আফগানিস্তানের তালিবদের প্রধান আলোচনার সংগঠন. তার মধ্যে আফগানিস্তানের তালিবদের সমস্ত প্রধান নেতারাই রয়েছে, যারা মনে করা হয় যে, পাকিস্তানের বিশেষ এই বাহিনীর অভিভাবকত্ব পেয়ে থাকে.

এই “কুয়েত শুরা” ছাড়াও পাকিস্তানে তালিবদের এক সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী সংগঠন রয়েছে – তথাকথিত “হাক্কানি নেটওয়ার্ক”. এই “হাক্কানি নেটওয়ার্ক” বহু পর্যবেক্ষকের মতে আফগানিস্তানের রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতে, যা জোটের সেনা প্রত্যাহারের পরে হবে, তাতে একটি নেতৃস্থানীয় ভূমিকা নিতে পারে.

এই বিষয়ের উপরেই ইসলামাবাদের আশা রয়েছে. পাকিস্তান আফগানিস্তানের সরকারকে সাহায্য করতে পারে তালিবান আন্দোলনের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়াতে – এই কথা উল্লেখ করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিনা রব্বানি খার. আর তিনি যোগ করেছেন যে, “এই এলাকায় পরিস্থিতি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক না থাকলে ভাল হওয়া সম্ভব নয়”. পাকিস্তানের কূটনৈতিক মহলের প্রধানের এই ঘোষণা বোঝাই যাচ্ছে যে, স্রেফ ফাঁকা আওয়াজ নয়.