ইজিপ্টের রাষ্ট্রপতির নির্দেশে আজ গাজা সেক্টরে এসেছেন ইজিপ্টের প্রধানমন্ত্রী হিশাম কান্দিল. তার সফরের সময়ে ইজরায়েলের সামরিক বাহিনী গাজা সেক্টরে আঘাত হানা অব্যাহত রেখেছে. ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, কান্দিল যখন গাজা সেক্টরে যাবেন, তখন ইজরায়েল তৈরী আছে সমস্ত রকমের আঘাত হানা বন্ধ করতে, তবে তার একমাত্র শর্ত হল যে, হামাস একই কাজ করবে. ফলে আঘাত ও প্রত্যাঘাত চলতেই থেকেছে.

বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, ইজিপ্টে প্রধানমন্ত্রীর মিশন শুধু প্যালেস্তিনীয়দের ঐক্য প্রদর্শনই নয়, প্রধান কাজ হল – হামাস গোষ্ঠীকে বুঝিয়ে ইজরায়েলের এলাকায় রকেট ও গোলা বর্ষণ বন্ধ করার চেষ্টা করা. আর সেই ভাবে সামরিক অনুপ্রবেশ ও নিকটপ্রাচ্যে বিরোধের বিপজ্জনক ভাবে বৃদ্ধিকে বন্ধ করা. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি কায়রো কে মনে করেছেন হামাসের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে সব থেকে ভাল ও উপযুক্ত পক্ষ বলেই. বারাক ওবামা এই সপ্তাহে দুই পক্ষ থেকেই অগ্নি সম্বরণের সম্ভাবনা নিয়ে ইজিপ্টের রাষ্ট্রপতি মুহাম্মেদ মুর্সির সঙ্গে কথা বলেছেন.

মস্কো বর্তমানের সঙ্কট বৃদ্ধির কারণে উদ্বিগ্ন ও দুই পক্ষকেই অগ্নি সম্বরণের জন্য আহ্বান করেছে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনে গিয়ে সের্গেই লাভরভ এই ঘোষণা করে বলেছেন:

“আজ এই এলাকায় যা হচ্ছে, প্যালেস্তিনীয় এলাকায়, তা আমাদের খুবই উদ্বিগ্ন করেছে. আমরা মনে করি যে, অবিলম্বে গোল বর্ষণ, আঘাত ও সব রকমের হিংসা বন্ধ করা দরকার”.

জঙ্গীদের আক্রমণের জায়গা গুলিতে আঘাত হেনে ইজরায়েল ঠিক করেছে হামাসকে দীর্ঘ সময়ের জন্য শান্তি চুক্তিতে বাধ্য করতে. কিন্তু এই লক্ষ্য তারা সাধনে সক্ষম নাও হতে পারে, এই কথা উল্লেখ করে বিখ্যাত ইজরায়েলের সামরিক বিশ্লেষক আন্দ্রেই কোঝিনভ বলেছেন:

“এখানে ভাগ্যের পরিহাস রয়েছে সেই বিষয়ে যে, ইজরায়েল হামাসের সামরিক গোষ্ঠীকে যত বেশী করে ক্ষতি করবে, তত বেশী করেই গাজা সেক্টরে চরমপন্থী শক্তি তৈরী হবে. গত কয়েক মাস ও বছর ধরে হামাস ছিল সমস্ত রকমের জেহাদ ঘোষণাকারীদের বিরুদ্ধে একমাত্র আটকে রাখার মতো শক্তি, তার মধ্যে আল- কায়দা ধরনের গোষ্ঠীও ছিল. আর হামাস ছিল আটকে রাখার মতো শক্তি, কারণ তারা নিজেদের হাতে ক্ষমতা পেয়েছিল ও তারা আগ্রহী ছিল তুলনামূলক ভাবে জনগনের স্বাভাবিক জীবনের প্রতি”.

নতুন প্যালেস্তিনীয় যুদ্ধ, অন্য সব কিছুর সাথে সমস্ত তাসকেই বড় “সিরিয়ার খেলায়” একেবারে মিশিয়ে দিয়েছে. তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো জোট ও আরব উপসাগরের খনিজ তেলের রাজতন্ত্র গুলির সেই সমস্ত শক্তি প্রয়োগকেই রুখে দিচ্ছে, যা যে কোন মূল্যেই সিরিয়াতে বাশার আসাদের প্রশাসনকে ধ্বংস করার জন্য লক্ষ্য করে করা হচ্ছিল. যদি আরবদের জন্য প্রধান শত্রু ইজরায়েল সক্রিয়ভাবে সামরিক অপারেশন চালু করে, তবে তখন আর সিরিয়ার কথা মাথায় থাকবে না. আরবদের মধ্যে পরস্পর বিরোধ এই সব ক্ষেত্রে সাধারণত থেমেই যায়.

সব থেকে কঠিন কাজ মার্কিন রাষ্ট্রপতিকে করতে হবে. ইজরায়েলের সমর্থন করা বন্ধ করতে তিনি অবশ্যই চাইবেন না. আবার ইজিপ্টের রাষ্ট্রপতির উপরেও বেশী করে চাপ দিতে ওয়াশিংটন পারছে না – কারণ এই ক্ষেত্রে মুর্সি স্রেফ বাধ্য হবেন হামাস কে সমর্থন করে আমেরিকাকে নিজের পক্ষ থেকে অবাধ্য হওয়া আরও বেশী করেই দেখাতে, যা তিনি এতদিন করে এসেছেন, তার থেকেও.