সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ বিরোধী পক্ষের মত হিসাবের মধ্যে না এনে সারা সিরিয়ার জোট সম্বন্ধে বলা যেতে পারে না, এই কথা রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এর- রিয়াদে বৈঠকের শেষে ঘোষণা করেছেন. সৌদি আরবের রাজধানীতে রাশিয়া- পারস্য উপসাগরীয় রাষ্ট্র গুলির স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা আলোচনা সভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে. এই বৈঠকের অংশগ্রহণকারীরা আবারও সমর্থন করে বলেছেন যে, সিরিয়া সংক্রান্ত জেনেভা সম্মেলনের কম্যুনিকের ভিত্তিতে এই বিরোধের অবসান হওয়া সম্ভব.

এই বৈঠক হওয়ার কয়েকদিন আগে কাতার রাষ্ট্রের রাজধানী দোহা শহরে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের জোট গঠনের কথা বলা হয়েছিল. এই বিষয়টি ছিল জেনেভা সম্মেলনের সিদ্ধান্তের একটি প্রধান বিষয়. এই নতুন তৈরী জাতীয় জোটকে ইতিমধ্যেই বহু আরব লীগের রাষ্ট্র সমর্থন জানিয়েছে. আর ফ্রান্স ইউরোপীয় সঙ্ঘের দেশ গুলির মধ্যে প্রথম সিরিয়ার বিরোধী জাতীয় জোটকে সিরিয়ার জনগনের “আইন সঙ্গত প্রতিনিধি” হিসাবে স্বীকার করেছে. আর তারই সঙ্গে ঘোষণা করেছে বিরোধী পক্ষের “ছায়া মন্ত্রীসভাকে” সিরিয়ার আইন সঙ্গত প্রশাসন হিসাবে স্বীকার করে নেওয়ার কথা.

মস্কো মনে করে যে, ঐক্যবদ্ধ বিরোধী জোট এখনও গঠিত হয় নি, এই কথা উল্লেখ করে সের্গেই লাভরভ এর- রিয়াদের বৈঠকের পরে বলেছেন:

“নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠী একত্রিত হয়েছে, যারা দোহার সম্মেলনে জোটবদ্ধ হয়েছে. কিন্তু সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ নেতৃস্থানীয় বিরোধী সংগঠন গুলি সেই জোটের মধ্যে নেই. কারণ – সঙ্কট থেকে বের হওয়ার পথ নিয়ে মত বিভেদ থাকা. প্রথমতঃ এই মত বিভেদ বাইরের থেকে অনুপ্রবেশ সম্বন্ধে রয়েছে. আমরা অপরিবর্তনীয় ভাবে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের জোটের পক্ষে. আমরা এই বিষয়ে সমস্ত বিরোধী প্রতিনিধিদের সঙ্গেই সাক্ষাত্কার করছি. কিন্তু আমরা সব রকমের বিরোধী শক্তির ঐক্যের পক্ষে শুধু আলোচনাতে তৈরী থাকার ভিত্তিতেই”.

দোহাতে যে বিষয় গুলিতে সহমত আসা সম্ভব হয়েছে তার দলিল পড়ে বোঝা গিয়েছে যে, বিরোধীদের জোট তৈরী হয়েছে সম্পূর্ণ অন্য ভিত্তিতে – রাষ্ট্রের সমস্ত বর্তমান সংবিধান সম্মত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে ধ্বংস করে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে. কিন্তু এই পথ নিয়ে যাবে মাত্স্যান্যায়ের দিকে, উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার মন্ত্রী. এই প্রসঙ্গে তিনি আরও একবার নির্দেশ করেছেন যে, রাশিয়ার এই ধরনের অবস্থানের অর্থ বাশার আসাদকে সমর্থন করা নয়. কিন্তু এই মত কিছু আরব রাষ্ট্রের সাংবাদিককে সন্তুষ্ট করতে পারে নি. তাঁদের একজন লাভরভকে প্রশ্ন করেছেন, “মস্কোতে বোঝা হয়েছে যে, সিরিয়ার রাষ্ট্রপতিকে সমর্থন করে রাশিয়া আরব দেশ গুলিকে নিজের জন্য হারিয়েছে?” রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান উত্তর দিয়েছেন যে, বরং উল্টো, আজ রাশিয়ার স্থিতিশীল করার ভূমিকা এই এলাকার সমস্ত দেশেই স্বীকার করা হয়েছে, তিনি তাই বলেছেন:

“আমি নিয়মিত ভাবে আরব রাষ্ট্র গুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করছি, আর আমার কোন ধারণা তৈরী হয় নি যে, তারা আমাদের নিজেদের জন্য হারিয়ে যাওয়া বলে মনে করেছেন. তারা সকলেই আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যে, রাশিয়া যেন এই এলাকায় উপস্থিত থাকে, আর সকলেই উল্লেখ করেছেন রুশ প্রজাতন্ত্রের ভূমিকার কথা. আরব জাতি গুলি আমাদের অবস্থানের বিষয়ে পরম্পরা রক্ষা করার কথা জানেন”.

লাভরভের সহকর্মী বাহরিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদ আল- খালিফের উত্তর ছিল আরও আবেগ প্রসূত. তিনি ঘোষণা করেছেন যে, এর- রিয়াদে হওয়া রাশিয়া ও পারস্য উপসাগরীয় রাষ্ট্র সমূহের স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা আলোচনার সভার বৈঠক বিশেষ করেই মস্কো ও আরব দেশ গুলির সম্পর্কের বিশেষ চরিত্রের কথাই উল্লেখ করে. বহু প্রশ্নের সমাধান, তার মধ্যে সিরিয়া সংক্রান্ত বিষয়ও শুধু রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমেই করা সম্ভব. এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, সিরিয়ার সঙ্কট অন্যান্য সমস্যা গুলিকে ঢেকে দিতে পারে না. প্রাথমিক ভাবে প্যালেস্টাইনের সমস্যা, যা ইজরায়েলের পক্ষ থেকে গাজা সেক্টরে আবার করে বিশেষ অপারেশন শুরুর পরে আরও বাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে. সের্গেই লাভরভ ঘোষণা করেছেন যে, অবিলম্বে গোলাগুলি বর্ষণ বন্ধ করা দরকার ও তিনি আরও দুঃখ প্রকাশ করেছেন যে, নিকটপ্রাচ্য চতুষ্টয় এই হিংসার প্রসার বন্ধ করতে অক্ষম হয়েছে.