ইজরায়েলের সেনা বাহিনী আজ আবার আক্রমণ করেছে, গাজা সেক্টরে হামলার দ্বিতীয় দিনে তারা প্রায় একশোটি জায়গায় বোমা বর্ষণ করেছে. একই সঙ্গে তারা গাজা সেক্টরের সীমানা বরাবর সেনা বাহিনী দিয়ে ঘিরে দিয়েছে ও বিস্তৃত রকমের সামরিক অপারেশনের সম্ভাবনাও বাদ দেয় নি. একই সময়ের মধ্যে ১৭ই নভেম্বরে কায়রো শহরে আরব লীগের রাষ্ট্র গুলি জরুরী অধিবেশন ঘোষণা করেছে.

মরোক্কো, ইজিপ্ট ও প্যালেস্টাইনের দাবী অনুযায়ী রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরী রুদ্ধদ্বার বৈঠক খুব কমই ফল দিয়েছে. কোন সিদ্ধান্ত ঘোষণাই গৃহীত হয় নি. প্রধান প্রশ্ন যা সমগ্র নিকট প্রাচ্যকে বর্তমানের ঘটনা পরম্পরায় উদ্বিগ্ন করেছে: ইজরায়েলের “ঢালাই সীসা” অপারেশন কি আবার হতে চলেছে? সেই অপারেশন ইজরায়েল করেছিল ২০০৮- ২০০৯ সালে. আর তাও শুরু হয়েছিল একই ধরনের চিত্রনাট্য দিয়ে – আকাশ পথে বোমা বর্ষণ দিয়েই. আর তারপরে ইজরায়েলের সেনা বাহিনী অনুপ্রবেশ করেছিল আর গাজা এলাকায় সমুদ্র থেকেও আঘাত হেনেছিল.

বর্তমানের ইজরায়েলের অপারেশন – ২০০৯ সালের পর থেকে সবচেয়ে বড় অপারেশন. হামাস দলের জঙ্গীরা ইজরায়েলের সীমান্ত বর্তী এলাকায় নিয়মিত ভাবেই গোলা গুলি চালিয়ে এসেছে. তেল –আভিভের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে খুবই কড়া প্রতিক্রিয়া এখন ইজরায়েলের আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপরে ও আসন্ন নির্বাচনের জন্যই হয়েছে, এই রকম ব্যাখ্যা দিয়ে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক তাতিয়ানা নোসেঙ্কো বলেছেন:

“ইজরায়েলে আগামী বছরের জানুয়ারী মাসে নির্বাচন হতে চলেছে. ঠিক একই রকমের পরিস্থিতি হয়েছিল ২০০৮- ২০০৯ সালে. এর আগের নির্বাচনের সময়ে. তখন সেই কুখ্যাত “ঢালাই সীসা” অভিযান করা হয়েছিল. এখন সবই একই রকম হচ্ছে. ঐতিহাসিক ভাবেই এমন হয়েছে যে, ইজরায়েলের নেতারা, প্রধানমন্ত্রী নাথানিয়াখু, নির্বাচনের আগে চাইছেন নির্বাচকদের উপরে একটা প্রভাব তৈরী করতে”.

বর্তমানের গাজা সেক্টরে বোমা ও গোলা বর্ষণ এই বাস্তবের উপরেই এক বিশেষ রঙ দেয় যে, ইজিপ্টে বর্তমানে নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় এসেছে. রাষ্ট্রপতি মুহাম্মেদ মুর্সি, যিনি “মুসলমান ভাইদের” সংগঠনের এক প্রাক্তন নেতা, তিনি এখন বাধ্য হবেন ইজরায়েলের প্রতি খুবই কঠোর অবস্থান দেখাতে. তারই মধ্যে আবার ইজিপ্টের সঙ্গে ইজরায়েলের শান্তি চুক্তি রয়েছে.

রাশিয়ার নিকটপ্রাচ্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সভাপতি ইভগেনি সাতানোভস্কি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“ইজিপ্টের রাষ্ট্রপতি মুহাম্মেদ মুর্সি গাজা অপারেশনকে ইজরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি ভঙ্গ করার জন্য ব্যবহার করবেন কি না অথবা অন্য কোন কারণ পরে বের করবেন – সেটা কোন বিশেষ অর্থ আর রাখে না. মুর্সি যে কোন ক্ষেত্রেই ইজরায়েলের সঙ্গে শান্তি চুক্তি প্রত্যাহার করে নেবেন”.

কঠিন হবে বলা যে, এই ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যাবে কি না. তবে ইজরায়েলের অপারেশন যে, বেড়ে যাবে, তা সব দেখে শুনে অবশ্যম্ভাবী বলেই মনে হয়েছে.