গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের কমিউনিস্ট পার্টির অষ্টাদশ সাধারন সম্মেলনের পরে প্রথম পরিকল্পনা অধিবেশনে কেন্দ্রীয় পরিষদ দলের নতুন সাধারন সম্পাদক নির্বাচন করেছে ও তারই সঙ্গে রাজনৈতিক সর্ব্বোচ্চ পরিষদের নতুন সদস্যদের নির্বাচিত করেছে. প্রায় পাঁচশো চিনা ও বিদেশী সাংবাদিকেরা এই অধিবেশনের অব্যবহিত পরেই চিনের নতুন দলীয় সাধারন সম্পাদক জি জিনপিংয়ের সঙ্গে ও কেন্দ্রীয় পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে পেরেছেন. এই সাক্ষাত্কারের সময়ে “রেডিও রাশিয়ার” প্রতিনিধি সাংবাদিক ইগর দেনিসভ উপস্থিত থাকতে পেরে বেজিং থেকে এই সম্বন্ধে তাঁর খবর দিয়েছেন.

আমার দেখে মনে হয়েছে যে, এক খুবই ভীড় ভর্তি কক্ষে চিনের থেকেই সাংবাদিকেরা ছিলেন বেশী, বিদেশীদের চেয়ে. আর যেহেতু চিনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল গণ প্রতিনিধি ভবনের বৃহত্ পূর্ব কক্ষ থেকে নতুন পদে নির্বাচিত জি জিনপিংয়ের প্রথম প্রকাশ্য বক্তৃতা সরাসরি প্রচারের ব্যবস্থা করেছিল, তাই এটাকে সম্পূর্ণ ভাবেই তাঁর প্রথম চিনের জনগনের উদ্দেশ্যে ভাষণ বলেই মনে করা যেতে পারে. সম্ভবতঃ সময়ের সঙ্গে বেশী করে খোলাখুলি রাজনীতিই এই নতুন পদাধিকারীর পরিচয় পত্রে পরিণত হতে পারে, আর সেটা হতে পারে চিনের “পঞ্চম প্রজন্মের” রাজনীতিবিদদের সকলেরই জন্য. প্রসঙ্গতঃ জি জিনপিং নিজে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, জনগন ও সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথাবার্তা বলার শৈলী কিছুটা অন্যরকমের, যার সঙ্গে লোকে গত দশ বছরে হু জিনটাও এর সর্ব্বোচ্চ পদে অবস্থানের সময়ে অভ্যস্ত হয়েছিলেন.

দলের নতুন নেতার ভাষণের সবচেয়ে উজ্জ্বল ভাবে মনে রাখার মতো বিষয় হল যে, তাঁর বক্তৃতায় খুব কমই সরকারি ভাবে দলীয় দলিলে উল্লেখ করা বাক্য সমষ্টি রয়েছে. এমনকি তাঁর ছোট প্রায় নিয়মরক্ষার বক্তৃতাতেও জি জিনপিং বলেছেন দুর্নীতির সঙ্গে লড়াইয়ের কথা ও অন্যান্য তীক্ষ্ণ সামাজিক সমস্যাগুলি সমাধানের কথা. এই সবই চিনের জনপ্রিয় “জাতীয় পুনরুজ্জীবনের ধারণার” পরিপ্রেক্ষিতে পেশ করা হয়েছে. “চৈনিক জাতীয়তাবাদ” নামক এই ধারণাই জি জিনপিংয়ের বক্তৃতায় ছয়বার উল্লিখিত হয়েছে. খুবই অলীক “মেলবন্ধনে বাঁধা সমাজ ব্যবস্থার” ধারণা সাধারন সম্পাদকের বক্তৃতায় খুবই নির্দিষ্ট রূপ নিতে পেরেছে, যা সাধারনের পক্ষে কাছের বিষয় বলে বোধগম্য হয়েছে. জি জিনপিং বলেছেন:

“আমাদের লোকেরা জীবনকে ভালবাসেন, আশা করেন শ্রেষ্ঠ প্রশিক্ষণ পেতে, আরও বেশী স্থিতিশীল ভাবে কর্ম সংস্থানের, আরও সন্তোষ জনক আয়ের, চিকিত্সার ক্ষেত্রে আরও উন্নতির, আরও বেশী আরাম দায়ক থাকার জায়গার, সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশের. আশা করতে যে, এখনের শিশুরা আরও ভাল ভাবেই বড় হয়ে উঠবে, ভাল কাজ করবে, ভাল করে বাঁচবে. জনগনের ভাল করে বেঁচে থাকার ইচ্ছাই – আমাদের সংগ্রামের লক্ষ্য”.

এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করার জন্য, চিনের জাহাজকে সুপটু কৌশলী ভাবে সংশোধনের প্রস্তর সংকীর্ণ তলদেশ দিয়ে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যই কাজ করতে হবে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বকে. তাঁরই কেন্দ্র – কেন্দ্রীয় পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন জি জিনপিং নিজে. গত বারের মত এই বারের দলীয় সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ে আর নয় জন নয়, থাকবেন সাত সদস্য.

এখানে দেখার মতো হল যে, জি জিনপিংয়ের পরেই প্রথম মঞ্চে উঠে এসেছেন লি কেকিয়াং – যিনি আগামী বছরের মার্চ মাসে গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের রাষ্ট্রীয় সভার প্রধানের পদ নেবেন. আগে “দ্বিতীয় স্থানে” মঞ্চে আরোহণ করে থাকতেন চিনের পার্লামেন্টের প্রধান, মন্ত্রীসভার নয়. এটা, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, জি জিনপিংয়ের সাথে ও তাঁর গোষ্ঠীর সাথে কাজের ক্ষেত্রে মনোযোগের কেন্দ্র সরে গিয়ে হবে মন্ত্রীসভা. এটা খুবই বোধগম্য, কারণ সেই সমস্ত বাধা, যার সামনে আজ চিনের অর্থনীতি উপস্থিত হয়েছে, আর তারই সঙ্গেই বেশী করে সমাজ মুখী রাজনীতিরও প্রয়োজন পড়েছে.

খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল যে, এখনই জি জিনপিং গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় পরিষদের সামরিক সভার প্রধান হয়েছেন – জিয়ান জি মিনের কাছ থেকে এর আগে হু জিনটাও এই দায়িত্ব বুঝে নিয়েছিলেন তাঁর সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচনের থেকে দুই বছর পরেই. চিনে ক্ষমতা এর ফলে কেন্দ্রীয় পরিষদের সংক্ষিপ্ত সংখ্যায় স্থায়ী রাজনৈতিক সদস্যদের হাতেই আরও ঘণিভূত ভাবে উপস্থিত হয়েছে, আর জি জিনপিংয়ের হাতে সমস্ত রকমের ক্ষমতাই এসেছে – তা যেমন দলীয় ক্ষেত্রে, তেমনই সামরিক বাহিনীতেও.