রাশিয়া তাজিকিস্থান ও কিরগিজিয়াতে প্রায় দেড়শো কোটি ডলার পর্যন্ত সামরিক প্রযুক্তি সংক্রান্ত সহায়তা করার বিষয়ে প্রস্তুত বলে ঘোষণা করেছে. আশা করা হয়েছে যে, এই সাহায্য করা হবে প্রধানত রাশিয়া থেকে নতুন সমরাস্ত্র সরবরাহ করার মাধ্যমেই. রাশিয়াতে এই সিদ্ধান্ত নানা রকমের প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে: অনেকেই বুঝতে চান নি কেন এত বড় রকমের সামরিক সহায়তা সেই সমস্ত দেশকে করা হবে, যাদের মস্কোর সঙ্গেই সম্পর্ক একেবারেই সাধারন নয়.

আসলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ও তাদের ন্যাটো জোটে সহযোগী দেশ গুলির আফগানিস্তানে আসন্ন সামরিক উপস্থিতির দ্রুত কমে আসার কথা মনে করে এই সিদ্ধান্তকে মনে করা হয়েছে অবশ্যম্ভাবী বলেই. মধ্য এশিয়ার এলাকা আগামী মাস গুলিতে সামনে পড়তে চলেছে ক্রমবর্ধমান সন্ত্রাসবাদী হুমকির. এই প্রসঙ্গে তাজিকিস্তানের ও কিরগিজিয়ায় সামরিক বাহিনী বর্তমানে রয়েছে খুবই হত দরিদ্র অবস্থায়. আর এই দেশ গুলির নিজেদের এলাকা রক্ষা করার ক্ষমতা খুবই বড় রকমের সন্দেহের অবকাশ রাখে.

কিরগিজিয়াতে সরকারি তথ্য অনুযায়ী বারো হাজার সামরিক কর্মী রয়েছেন, তাদের সত্যিকারের যুদ্ধে প্রস্তুত শক্তি শুধু বিশেষ কাজের জন্য তৈরী এক ব্রিগেড, যাদের স্করপিয়ন নামে জানা রয়েছে, সেই দলের মোট সৈন্য সংখ্যা মাত্র আটশোর মত.

কিরগিজিয়াতে সোভিয়েত দেশের পতনের পরে অনেক সামরিক সম্ভার রয়ে গিয়েছিল. মিলিটারি ব্যালেন্স তথ্য নথি অনুযায়ী শুধু টি – ৭২ ট্যাঙ্কের সংখ্যাই ছিল এই দেশে দেড়শো. কিন্তু আর্থিক অনটন, যা বহু বছর ধরেই রয়েছে, আর তারই সঙ্গে কিরগিজিয়ায় সামরিক ক্যাডার ও কর্মীদের গুণমানের পতনের ফলে, এখন এমন পরিস্থিতি হয়েছে যে, বেশীর ভাগ কিরগিজিয়ার সামরিক যন্ত্রই বর্তমানে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে গিয়েছে. প্রাথমিক ভাবে এটা সাঁজোয়া গাড়ী সংক্রান্ত বিষয়ে হয়েছে – বেশীর ভাগ কিরগিজিয়ার ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া গাড়ী বর্তমানে চলার অযোগ্য.

১৯৯ সালে কিরগিজিয়া একবার ঐস্লামিক জঙ্গীদের আক্রমণের সামনে পড়েছিল. এই সংঘর্ষ, যা বাতকেন যুদ্ধ বলে বিখ্যাত, তা শেষ করা গিয়েছিল শুধুমাত্র রাশিয়া ও উজবেকিস্তানের সহায়তায়. তারই মধ্যে ২০১৪ সালের পরে কিরগিজিয়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ আরও প্রসারিত এলাকা জুড়েই হতে পারে.

কিরগিজিয়া রাশিয়ার সামরিক সহায়তার মধ্যে প্রায় একশ দশ কোটি ডলারের সাহায্য আশা করতে পারে. এর ফলে কিরগিজিয়ার সামরিক বাহিনীর কর্মীরা নতুন সাঁজোয়া গাড়ী ও ট্যাঙ্ক পাবেন, রাইফেল ও বন্দুক পাবেন আর থাকবে হেলিকপ্টার. বাকী অর্থ পাঠানো হবে তাজিকিস্তানে.

তাজিকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জন্যও সেই সমস্ত অনটনই উল্লেখ্য, যা কিরগিজিয়াতে হয়েছে: সেখানে যুদ্ধের উপযুক্ত শুধু একটি প্যারাশ্যুট আক্রমণ করার মতো সেনাদল রয়েছে. ২০১০ সালে রাশত্স্ক উপত্যকা ও ২০১২ সালের গ্রীষ্মকালে পাহাড়ী বাদাখশান এলাকার যুদ্ধ স্পষ্ট করে দেখিয়ে দিয়েছে যে, সামরিক বাহিনী যথেষ্ট ভাবে প্রস্তুত নয় ও তাদের অস্ত্র রসদের সম্ভার খুবই দরিদ্র.

তাজিকিস্তান ও কিরগিজিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থাও এমন যে, স্বয়ং সম্পূর্ণ ভাবে এই দেশ গুলি নিজেদের সেনা বাহিনীকে পুনরায় অস্ত্র প্রযুক্তি দিতে সক্ষম নয়. তাদের জন্য সহায়তার অংশ হিসাবে দেওয়া হতে চলেছে রাশিয়ার হেলিকপ্টার, সাঁজোয়া গাড়ী, পরিবহনের গাড়ী, যোগাযোগের যন্ত্রপাতি ও গুলি করার অস্ত্র.

কিরগিজিয়া ও তাজিকিস্তান – সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ, যে সংস্থা আজ এলাকার স্থিতিশীলতার বিষয়ে গ্যারান্টি দিয়েছে. তাজিকিস্তান ও কিরগিজিয়ার পক্ষ থেকে কর্ম পটু সামরিক বাহিনী তৈরী হলে এই এলাকা জুড়ে প্রসারিত সামরিক সংঘর্ষের সম্ভাবনা কমে যাবে ও একই সঙ্গে এই সংঘর্ষে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার বড় দেশ গুলির অংশ নেওয়ারও প্রয়োজন হবে না. এই অর্থে সামরিক সম্পত্তি মধ্য এশিয়ার সবচেয়ে বেশী দুর্বল ও দরিদ্র দেশ গুলিকে দেওয়া হলে সেই সাংহাই সংস্থারই বড় সদস্য দেশ চিন ও রাশিয়ার নিরাপত্তাই শক্তিশালী হবে.