এটা বিশ্বাস করা কঠিন কিন্তু প্রত্যেক দিনের সঙ্গেই যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গ হিসাবে নিজেদের দেশকে দেখতে চান না, তাঁদের সংখ্যা বাড়ছে. ৬ই নভেম্বর নির্বাচনের পরে হোয়াইট হাউসের বিশেষ সাইট – “আমরা – জনগনে”, সেই রকমের চাহিদা যাঁদের রয়েছে, তাঁদের সংখ্যা এক লক্ষের অনেক বেশীই হয়েছে. কিন্তু আমেরিকার মোটেও বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতা হয় নি. বেশীর ভাগ লোকেরই এই “বিচ্ছেদ” প্রয়োজন শুধু এই কারণেই যে, তারা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের পথ থেকে আলাদা হয়ে চলতে চান. আমেরিকার লোকরা সরকারি ওয়াশিংটনকে পছন্দ করেন না. সুতরাং বিদ্রোহীদের তালিকা বৃদ্ধি – এটা এক রকমের জনগনের প্রতিবাদের ধরণ মাত্র. আর এর পুরোটাই শুরু হয়েছিল একটা কৌতুকের আকারে.

মাত্র কয়েকদিন আগেও, সেই সমস্ত রাজ্যের তালিকা, যারা আলাদা হয়ে যাওয়ার পক্ষে বক্তব্য রেখেছিল, তাতে ছিল ২০টি নাম, আর তার মধ্যে ছিল টেক্সাস ও নিউইয়র্কের মত একেবারেই ছোট নয় এমন সব রাজ্য. যুক্ত ছিল নিউ জার্সি এবং দুটি ক্যারোলিনা, আলাবামা, জর্জিয়া, ফ্লোরিডা ও অন্যান্য রাজ্য.

১৩ই নভেম্বর তাদের সঙ্গে যোগ হয়েছে আরও ৮টি বিদ্রোহী রাজ্য, তার মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া, নেভাদা, পেনসিলভানিয়া ও ওহিয়ো রাজ্য. কিন্তু এই ধরনের প্রতিবাদকে খুব বেশী সিরিয়াস ভাবে নেওয়ার দরকার নেই বলে মনে করে মস্কোর রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের ভাইস রেক্টর আরতিওম মালগিন বলেছেন:

“এই ধরনের খবরের বাহুল্য, যা নির্বাচনের সময়ে করা হয়ে থাকে, তা এক ধরনের রাজনৈতিক কৌতুক বলেই মনে করা যেতে পারে. জোকার যা করে থাকে. কোন রকমের সিরিয়াস পরিনাম তো দূরের কথা, এমনকি কোন পরিনামই এটা থেকে হতে পারে না”.

এটা ঠিকই যে, সমস্যা হল এই নতুন ধুয়া এবারে খুব একটা বুদ্ধি সম্মত কাজের মর্যাদা পায় নি. হোয়াইট হাউস “আমরা – জনগন” বা “উই দ্য পিপল্” – আমেরিকার সংবিধানের প্রথম বাক্যের শুরু দিয়ে এই সাইট তৈরী করার কথা ভেবেছিল ভাল উদ্দেশ্য নিয়েই. আর তা ছিল – আমেরিকার লোকদের রাষ্ট্রপতির প্রশাসনের কাছে সরাসরি পৌঁছে যাওয়ার ক্ষমতা তৈরী করে দেওয়ার জন্য. বারাক ওবামা সেই ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগেই আশা দিয়েছিলেন যে, তিনি তাঁর প্রশাসনকে অভূতপূর্ব রকমের খোলামেলা করবেন. আর তা করেছেন ও.

প্রতিবাদ আবেদন যে কেউ আমেরিকার লোক হলেই পাঠাতে পারেন, যাদের বয়স ১৩ বছরের বেশী. ১৫০টি স্বাক্ষর থাকলেই তা সাইটে জায়গা পেতে পারে. আর পাঁচ হাজার স্বাক্ষর থাকলে, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে যে রকম ভরসা দেওয়া হয়েছিল, এই কাগজ সরকারি দলিলে পরিণত হবে ও তা বাধ্যতা মূলক ভাবেই কোন উত্তর পাবে.

কিছু আলাদা হয়ে যাওয়ার আবেদনের উপরে স্বাক্ষরের সংখ্যা দশ পনেরো হাজারের বেশী হয়ে গিয়েছে. তবে, প্রথমে তা একটা মজার ঘটনা মনে হলেও এখনই বড় একটা বিষয়ে পরিণত হতে চলেছে. বহু আবেদন পাওয়ার পর থেকেই সপ্তাহ পার হয়ে গিয়েছে. কিন্তু কোন রকমের সরকারি উত্তর এখনও দেওয়া হয় নি. মনে হয়, হোয়াইট হাউসে আগে ভাবা হয় নি, কি জিনিষের সঙ্গে তাদের ঠোক্কর খেতে হবে.