ইন্টারন্যাশনাল গান দিয়ে চিনের কমিউনিস্ট পার্টির অষ্টাদশ সম্মেলন শেষ হয়েছে. সম্মেলনে প্রতিনিধিরা গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক হু জিনটাও এর রিপোর্টের উপরে নেওয়া সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন, দলের সনদে পরিবর্তন আনা হয়েছে ও নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে. এই কথা সত্য যে, চিনের নতুন দলীয় নেতৃত্বে শেষ অবধি কোন শক্তি কোন দিকে যাবে তা শেষ অবধি বোঝা যাবে বৃহস্পতিবারে, যখন বেজিং শহরে কেন্দ্রীয় কমিটি প্রথম পরিকল্পনা সংক্রান্ত অধিবেশন হবে. “রেডিও রাশিয়ার” সাংবাদিক প্রতিনিধি ইগর দেনিসভ বেজিং থেকে এই বিষয়ে খবর দিয়েছেন.

চিনের ও বিদেশের সাংবাদিকদের অধিবেশনের প্রথম অংশে উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয় নি, যে সময়ে দলের কেন্দ্রীয় সংগঠনের দুটি দপ্তরের নির্বাচন করা হয়েছে – কেন্দ্রীয় কমিটি ও নিয়মানুবর্তিতা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় পরিষদের. প্রসঙ্গতঃ, বহু সাংবাদিকদের বেশ কয়েকটা ঘন্টা ধরে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হয়েছে, যতক্ষণ না তাদের সম্মেলনের সভা কক্ষে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে. সাংবাদিকদের জন্য আলাদা করে রাখা জায়গা সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা নিতে পেরেছেন যা আগে বলা হয়েছিল তার থেকে প্রায় এক ঘন্টা পরে, সম্ভবতঃ এটা সেই কারণেই হয়েছে যে, নির্বাচনের ভোট গণনায় সময় লেগেছে.

যখন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা কক্ষে প্রবেশ করতে পেরেছিলেন, তার অব্যবহিত পরেই হু জিনটাও দ্বিতীয় আলোচ্য বিষয়ে চলে যান – কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্টের উপরে নেওয়া সিদ্ধান্ত গ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়ে. সমস্ত সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে ঐক্যবদ্ধ ভাবে. যেমন আশা করা হয়েছিল, দলীয় সনদে এবারে আনা হয়েছে “বিকাশের বৈজ্ঞানিক ধারণা” নিয়ে এক বিশেষ ধারা. এটা মনে করা হয়েছে যে, চিনের বিশেষত্ব নিয়ে তৈরী সমাজতন্ত্রের ধারণায় হু জিনটাও এর অবদান বলে. অন্য দিকে - সনদ থেকে মাও সে তুংয়ের ধারণা সংক্রান্ত উদ্ধৃতি কিন্তু নিশ্চিহ্ণ করে দেওয়া হয় নি. এই ভাবে গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের কমিউনিস্ট পার্টির ক্ষমতার বিষয়ে পরম্পরা রক্ষা করাকে বিশেষ করেই উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও নেতৃত্ব বিষয়ে একে অপরকে পাল্টে দেওয়া চলেই যাচ্ছে. সনদের বাস্তব নবীকরণ বিষয়ে পর্যবেক্ষকরা লক্ষ্য করেছেন সেখানে এক নতুন ধারা, “পরিবেশ বান্ধব সভ্যতা নির্মাণ” সম্বন্ধে যা নেওয়া হয়েছে. এই ধারা গ্রহণ করেই দলের নেতৃত্ব বিশেষ করে উল্লেখ করেছে যে, তাঁরা পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে জনগনের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে বুঝতে পরেছেন.

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বোঝা হয়েছে ব্যুরোক্র্যাটিক পরিচালন ব্যবস্থার অবক্ষয়ের ব্যাপারটিও. কেন্দ্রীয় কমিটির রিপোর্ট নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তে নিয়মানুবর্তিতা সংক্রান্ত পরীক্ষার বিষয়ে এক দাবী করা হয়েছে, যাতে “দেশের ক্যাডার কর্মীরা সত্ থাকেন, সরকার – ক্রয়ের অযোগ্য, আর রাজনীতি – স্বচ্ছ”. এই সম্মেলনের নেপথ্যে মনে করা হয়েছে যে, “দলীয় দুর্নীতি দলন পরিষদে” এক সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন বর্তমানের উপ প্রধানমন্ত্রী ভান শিষান.

সম্মেলনের শেষ দিনও কিছু চমক রক্ষা করতে পেরেছিল, যা কেন্দ্রীয় কমিটির স্থায়ী সদস্য পদ নিয়ে হয়েছে. বহু বিদেশী পর্যবেক্ষকদের মতে, যাঁদের সঙ্গে এই সম্মেলন চলাকালীণ “রেডিও রাশিয়ার” সাংবাদিক প্রতিনিধি কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন, কেন্দ্রীয় কমিটির স্থায়ী সদস্য পদের গঠন হবে যথেষ্ট সংরক্ষণশীল. ভবিষ্যতের শীর্ষ স্থানীয় দলীয় নেতৃত্বে বেশী করেই থাকবেন জিয়ান জিমিনের মতো দলের তৃতীয় প্রজন্মের নেতৃত্বের সমর্থকরাই, আর তারই সঙ্গে প্রাক্তন দলীয় শীর্ষ স্থানীয়দের ছেলেমেয়েদের প্রতিনিধিরা, যাদের নাম দেওয়া হয়েছে “রাজকুমারদের দল” বলে. প্রসঙ্গতঃ এই বিষয়ে ইতি করবে কেন্দ্রীয় কমিটির পরিকল্পনা অধিবেশনের পরে, যা হতে চলেছে ১৫ই নভেম্বর.

মনে করিয়ে দিই যে, এই ১৫ই নভেম্বরই, কিন্তু সেটা ২০০২ সালে, ষোঢ়শ পার্টি কংগ্রেসের পরিনামে গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন হু জিনটাও, যিনি আজ এই পদ থেকে রেহাই নিচ্ছেন. নিজের অষ্টাদশ সম্মেলনের শেষ বক্তৃতায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, “সম্মেলন নিজের পতাকা উর্দ্ধে তুলেই চলতে পরেছে, বিগত সময়ের ঐতিহ্য রক্ষা করেছে ও ভবিষ্যতের পথ উন্মুক্ত করেছে, এই সম্মেলন এক ঐক্যবদ্ধ হওয়ার মতো সভা হয়েছে, পুরুষকারের সঙ্গে আগে এগিয়ে যাওয়ার সম্মেলন হয়েছে”. এই সমস্ত বলার মতো কথা, যা সম্মেলনের মঞ্চ থেকে ঘোষিত হয়েছে, তা এই কারণেই গুরুত্বপূর্ণ যে, তা ক্ষমতার হস্তান্তরকে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের কাছে করতে পেরেছে, যাদের ভাগ্যে এখন থাকবে চিনের আগামী দশ বছরের পথ নির্দেশ করা.