রাশিয়া ভারতকে সাহায্য করবে নদীর দূষণ রোধে. সাইবেরিয়ার তোমস্ক শহরের ব্যবসায়ী নিকোলাই বাদুলিন প্রস্তাব করেছেন যে, ভারতকে তাঁর পক্ষ থেকে দান হিসাবে নিজের পেটেণ্ট করা জল পরিস্কার করার জন্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ভারতীয় নদী গুলির দূষণ বন্ধ করার জন্য দেওয়ার কথা. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

ভারত খুবই আগ্রহ বোধ করেছে এই ধরনের প্রযুক্তি বিষয়ে. জলের অপরিচ্ছন্নতা ভারতীয় নদী গুলিতে দ্রুত বেড়েই চলেছে. বিশেষ করে এটা হয়েছে ভারতের পবিত্র নদী মহান গঙ্গা নদীতে. এই নদীর অববাহিকায়, যা প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার শুধু দৈর্ঘ্যে, সেখানে বাস করেন প্রায় দেড়শো শহরে ভারতের অর্ধেক জনগন. বিশেষ করে গঙ্গা নদী মোহনার নিকটবর্তী এলাকা গুলিতেই বেশী দূষিত. সমস্ত শহরের নোংরা নর্দমার জল ও কল কারখানা থেকে বের হওয়া জল এই নদীতে মিশছে. গঙ্গার জলে স্নান করছে প্রতিদিনে বহু লক্ষ লোক, যাদের অনেকেরই ছোঁয়াচে রোগ রয়েছে. গরু ছাগলও স্নান করানো হচ্ছে. এই জলে আর্সেনিক ও অন্যান্য রাসায়নিক ভাবে সক্রিয় যে সব জিনিষ রয়েছে, তা চামড়ার ক্যান্সারের কারণ হতে পারে, তাছাড়া অন্যান্য মারাত্মক সব রোগও হতে পারে.

রাশিয়ার প্রস্তাবিত উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, যা সস্তা দামের পরিশ্রুত করার পদার্থ হতে পারে, তা জল থেকে বহু রকমের ভারী ধাতুর লবণ যৌগ, রেডিও নিউক্লিড, নানা রকমের রাসায়নিক জিনিষ ও সর্ব প্রথমে আর্সেনিক আলাদা করে দিতে পারে.

গত কয়েক দশকে ভারত একাধিকবার এই পবিত্র বলে মনে করা নদীকে দূষণ মুক্ত করার জন্য চেষ্টা করেছে. এই উদ্যোগ চালু হওয়ার প্রথম পনেরো বছরের মধ্যে জল পরিশ্রুত করার জন্য ব্যবস্থায় ২০ কোটি ডলারেরও বেশী খরচ করা হয়েছে, কিন্তু সমস্যা শুধু আংশিক ভাবেই সমাধান সম্ভব হয়েছিল. পরবর্তী বছর গুলিতেও গঙ্গা নদীর দূষণ রোধে কিছু কম খরচ করা হয় নি. গত বছরে দেশের প্রশাসন নতুন পরিকল্পনা তৈরী করেছে ও বিশ্ব ব্যাঙ্কের কাছ থেকে তা পূরণের জন্য একশ কোটি ডলার ঋণ পেয়েছে. বড় অনেক কাজ করার রয়েছে ও রাশিয়ার এই নতুন আবিষ্কার খুবই ফলপ্রসূ হতে পারে. তা নদী গুলিকে ও অনেক ক্ষেত্রে ভারতের জল সম্পদ সংরক্ষণের কাজে লাগতে পারে, যা বর্তমানে আরও কমে এসেছে. আর তা শুধু ভারতের অর্থনীতির উন্নতির জন্যই হয় নি, বরং হয়েছে পরিবেশ ও আবহাওয়াতে বদল হয়ে যাওয়ার জন্যেও.

বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমালয়ের হিমবাহ গুলিও কম করে জল দিচ্ছে ভারতীয় নদী গুলিতে, গত কুড়ি বছরে হিমালয়ের এই অলবণাক্ত জলের উত্স গুলি প্রায় চার কিলোমিটার পিছিয়ে গিয়েছে. এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়া বিজ্ঞানী ও পরিবেশ বিশারদ আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থা সবুজ আলোর প্রধান ভ্লাদিমির গ্রাচেভ বলেছেন:

“হিমবাহ গুলি কমে যাওয়া বর্তমানের বিশ্বে এক সারা পৃথিবী জোড়া সমস্যাই হয়েছে, এটা শুধু ভারতের হিমালয় পর্ব্বত মালাতেই হয় নি. সারা বিশ্বে, যেখানেই পাহাড়ের চূড়া রয়েছে, সব জায়গাতেই বরফের স্তর কমে যাওয়া দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, তাদের অলবণাক্ত জলের উত্স হওয়া ক্ষমতাও তাই কমে যাচ্ছে. এটা সারা বিশ্বেরই একটা প্রবণতা, যা বিশ্বজোড়া তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গেই জড়িত, আর তা থামানো যাচ্ছে না বলেও. এই ঘটনা খুবই বিপজ্জনক, কারণ জল কমে আসছে, যা নদী গুলিকে সমৃদ্ধ করতে পারে”.

এশিয়ার দেশ গুলিতে জলের অভাব এই এলাকার অর্থনৈতিক বিকাশের পরিপন্থী হয়েছে ও খুবই সিরিয়াস রকমের আন্তর্রাষ্ট্রীয় বিরোধের কারণ হয়েছে. এই ক্ষেত্রে খুবই সিরিয়াস সমস্যা আজ ভারতের রয়েছে, চিন, পাকিস্তান, বাংলাদেশের মত সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গেই. রাশিয়া এই ব্যাপারে সহযোগিতা করতে আহ্বান করেছে ও এই অঞ্চলের জলের সমস্যা মেটানোর জন্য হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার জন্যই আহ্বান করেছে.