বর্তমানে রাশিয়াতে একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি সাড়া জাগানো দুর্নীতির ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে. তার মধ্যে একটি হল সেপ্টেম্বর মাসে হয়ে যাওয়া ভ্লাদিভস্তক শহরের এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতির জন্য দেওয়া অর্থের আংশিক ভাবে বেপাত্তা হয়ে যাওয়া. অন্য একটি স্ক্যান্ডাল প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে জড়িয়ে হয়েছে, আর তা থেকেই মন্ত্রী ও সদর দপ্তরের প্রধানের বহিঃস্কার. তদন্তকারীদের কেন্দ্রীয় মনোযোগের বিন্দুতে রয়েছে গ্লোনাসস উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থা, তার নির্মাতাদের উপরে সন্দেহ করা হয়েছে যে, তারা সাড়ে ছয়-শ’ কোটি রুবল(অর্থ মূল্যে ২০ কোটি ডলারেরও বেশী) তছরুপ করেছে. রাশিয়াতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কি করে লড়াই করা দরকার, তা নিয়ে রেডিও রাশিয়ার সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশের অডিট চেম্বারের প্রধান সের্গেই স্তেপাশিন.

অডিট চেম্বার – দেশের পার্লামেন্টের একটি বাজেট বরাদ্দ নিয়ন্ত্রণের জন্য দপ্তর. এই দপ্তর থেকেই রাশিয়ার বাজেটের অর্থ কোথায় কিভাবে খরচ করা হয়েছে, তার হিসাব করা হয়ে থাকে ও তারাই রাশিয়ার বড় সমস্ত দুর্নীতি সংক্রান্ত তদন্তের সূচনা করে থাকে. কিন্তু সমস্ত সাড়া জাগানো তদন্তই সব সময়ে দুর্নীতির জন্য হয় না বলে মনে করেন সের্গেই স্তেপাশিন. প্রায়ই এই গুলি খুবই বাজে রকমের অর্থ সম্পর্কিত নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা, আবার কখনও খুবই বিশ্রী রকমের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বোকামি. এখন যেমন দুর্নীতির সঙ্গে তেমনই বিনিয়োগ সংক্রান্ত আইন ভঙ্গ নিয়ে খুবই জোরদার লড়াই চলছে. স্তেপাশিন বলেছেন যে, এই দুর্নীতির সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজন ফলপ্রসূ পরামর্শের কথা, তিনি যোগ করেছেন:

“কোন রকমের পরস্পর বিরোধী নিয়ম থাকতে পারে না, যাতে সরকারি কর্মচারীর পক্ষে আইনকে নিজের পছন্দমত ব্যবহার করে লোকের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করা সম্ভব হয়. আ এখানে মূল কথা হল, যতদিন না দেশের পুলিশ আদালত জনগনের দিকে মুখ ফিরিয়ে তাকাচ্ছে, ততদিন অবধি আমরা কিছুই বদলাতে পারব না. আর যাতে আমাদের পুলিশ বাহিনীকে সাধারন মানুষ ভয় না পান, বরং তাদের সঙ্গে একসাথে কাজ করতে পারেন”.

কিন্তু এর অনেকটাই আবার দেশের নাগরিকদের উপরেই নির্ভর করছে. সের্গেই স্তেপাশিন বিশ্বাস করেন যে, সরকারের সব সময়েই দেশের মানুষকে দেখানো দরকার যে, কোন একটিও দুর্নীতির ঘটনা, তা সে ছোট বড় যাই হোক না কেন, তা অলক্ষিতেই থেকে যাবে না. তিনি তাই বলেছেন:

জনতাকে এই ক্ষেত্রে ঠকানো সম্ভব নয়, আমরা এক কথা বলব – করব অন্য কাজ. কারণ, অনেক লোকই তার ওপরে সকলের জানা, বিশেষ করে আঞ্চলিক স্তরে. পৌরসভার স্তরে কারা চুরি করছে তাদের লোকে চেনেন, আঞ্চলিক স্তরেও জানা রয়েছে, কারা চুরি করছে, চোর মেয়র কারা সেটাও সকলে জানেন. এখানে পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়া যায় না, তার ওপরে আবার যাদের উপরে আইন রক্ষার দায়িত্ব তাদের পক্ষ থেকে”.

রাশিয়াতে আমরা দুর্নীতির সঙ্গে লড়াইতে প্রগতি আশা করতেই পারি, বলে মনে করেছেন সের্গেই স্তেপাশিন. সারা দেশ জুড়ে দুর্নীতির মোকাবিলা করার রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা কাজ শুরু করেছে.