মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় গুপ্তচর সংস্থার নেতৃত্বে বদল হয়েছে. সিআইএ সংস্থার ডিরেক্টর ডেভিড পেত্রেউস বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জন্য স্ক্যান্ডালে পদত্যাগ করার পরে এই সংস্থার সাময়িক প্রধানের পদে মাইকেল মোরেল নিয়োগ পত্র পেয়েছেন. আমেরিকা- পাকিস্তানের সম্পর্ক বা বিশেষ করে মার্কিন সিআইএ ও পাকিস্তানের আইএসআই এই দুই সংস্থার মধ্যে এই বারে সম্পর্ক কি রকমের হতে চলেছে, সেটাই দেখবার বিষয়, এই রকম মনে করে আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ বিশদ করে লিখেছেন.

মাইকেল মোরেল কে “ওসামা বেন লাদেন হত্যার জন্য সিআইএ সংস্থার দলপতি বলা হয়ে থাকে”. মনে করা হয় যে, তিনি পাকিস্তানের এলাকায় অনুপ্রবেশ করে বেন লাদেন হওয়ার বিষয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন. সুতরাং মাইকেল মোরেল যে নতুন পদ পেয়েছেন, তা এই অঞ্চলে তো মনে হয় না খুব একটা সহর্ষে স্বাগত জানানো হবে, এই রকম মনে করেন রাশিয়ার ভূ- রাজনৈতিক সমস্যা একাডেমীর সভাপতি কর্নেল জেনারেল লিওনিদ ইভাশভ বলেছেন:

“সিআইএ সংস্থা নতুন ডিরেক্টর পদে নিয়োগ খুব সম্ভবতঃ ইতিবাচক হওয়ার চেয়ে নেতিবাচক ভাবেই দেখা হবে. পাকিস্তানের জনগন ও সব মিলিয়ে এই পুরো এলাকায় কোন আনন্দ দেখতে পাওয়া যাবে না. ওসামা বেন লাদেন যেই হোন না কেন, তিনি ঐস্লামিক বিশ্বের বহু লোকের জন্য প্রতীক ও তার হত্যাকাণ্ডকে এখানে দেখা হয় এক অভিশাপ বলেই”.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও এই এলাকার দেশ গুলির মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বেদনা দায়ক জায়গা হল আমেরিকার পাইলট বিহীণ বিমানের আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানে হানা দেওয়া. এই আঘাত থেকে শুধু জঙ্গী তালিব লোকরাই মারা যাচ্ছে না, বরং বেশী করেই পাকিস্তানের শান্তিপ্রিয় মানুষ. তারই মধ্যে মাইকেল মোরেল আবার পাকিস্তানে তালিবদের বিরুদ্ধে, আফগানিস্তানে, ইয়েমেনে ও অন্যান্য দেশে যুদ্ধের বিষয়ে পাইলট বিহীণ বিমান ব্যবহার করার বিষয়ে সমর্থক.

পাকিস্তান – আমেরিকার সম্পর্কের মধ্যে ভরসার স্তর খুবই নীচু. সিআইএ ও পাকিস্তানের আইএসআই এর মধ্যে সম্পর্ক এখনও উদ্ধার করা যায় নি. এই সংস্থার প্রধান কর্নেল জেনারেল জাহির উল- ইসলামের এই বছরের আগষ্ট মাসের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সফর কোন উল্লেখ যোগ্য ফল দেয় নি. পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে ন্যাটো জোটের জন্য আফগানিস্তানে ট্রানজিট করে মাল পাঠানোর চুক্তি পুনর্নবীকরণ করার জন্য স্বাক্ষরিত হলেও বাস্তবে তা কাজ খুব একটা করছে না. তালিব জঙ্গীদের আক্রমণ মালবাহী গাড়ী ও জ্বালানী সহ সিস্টার্নের উপরে চালুও রয়েছে.

সিআইএ সংস্থার নতুন প্রধান মাইকেল মোরেল কে পাকিস্তানে খুব ভাল করেই জানে. কিন্তু তার এই খ্যাতি কি তাকে পাকিস্তানের সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভরসা উত্পাদন করতে দেবে.