কাতার রাষ্ট্রের রাজধানী দোহা শহরে সিরিয়ার শান্তি প্রস্তাবে অনিচ্ছুক বিরোধীদের তথাকথিত একজোট হওয়ার সম্মেলন হয়ে গেল. পশ্চিমের ও আরব রাজতন্ত্র গুলির খুবই কড়া চাপ দেওয়াতে শেষ অবধি ঘোষণা করা হয়েছে যে, মতবিভেদ দূর হয়েছে ও একটি ঐক্যবদ্ধ জোট সংগঠন তৈরী করা গিয়েছে.

বিশেষজ্ঞ ভিক্টর নাদেইন রায়েভস্কি মনে করেন যে, দোহা সম্মেলনের ফলাফল নির্দিষ্ট পরিবর্তনের সাক্ষ্য দিয়েছে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের বিদেশী স্পনসরদের পরিকল্পনা সম্বন্ধে, তিনি এই সূত্রে বলেছেন:

“বারাক ওবামা এর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের খাতিরে সিরিয়ার প্রতি কোন রকমের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ধৈর্য ধরেই ছিলেন. কিন্তু যেমন বলা হয়ে থাকে যে, আমেরিকার রাষ্ট্রপতিরা তাঁদের প্রথম শাসনের চার বছরে চেষ্টা করেন, যাতে পরের চার বছরে গদিতে থাকা যায়, আর শেষের চার বছরে চেষ্টা করেন ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকার. তাই বাদ দেওয়া যায় না যে, আমেরিকার যুদ্ধ বাজরা এবারে রাষ্ট্রপতিকে রাজী করিয়ে ফেলবেন সিরিয়ার বিরুদ্ধে আরও এসপার কি ওসপার করার মতো সিদ্ধান্ত নিতে, কারণ তাঁর হাত আর নির্বাচনের বাঁধনে বাঁধা পড়ে নেই. যেমন, তথাকথিত বাফার জোন তৈরী করিয়ে দেওয়া, অথবা সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ করা. রাশিয়া ও চিনের রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের অবস্থান পশ্চিমকে ও তাদের জোটের লোকদের এই এলাকায় সরাসরি অনুপ্রবেশ করতে দিচ্ছে না. কিন্তু এই সম্ভাবনাও বাদ দেওয়া যায় না যে, এবারে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে পতাকা দেখানো হবে এক হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে যাওয়া অনুপ্রবেশের জন্য. এখন, যখন বিরোধীরা অন্তত আপাত দৃষ্টিতে একজোট হয়েছেন, তখনই সুযোগ হয়েছে এদের পশ্চিমের পক্ষ থেকে সিরিয়ার জনগনের আইন সঙ্গত প্রতিনিধি বলে স্বীকৃতী দেওয়ার. আর এরই সঙ্গে যদি বিরোধীরা নিজেদের দখলে সিরিয়া ভিতরেই কোন একটা এলাকা পায় সব দিক থেকে সুরক্ষিত অবস্থায়, যেমন তুরস্কের সীমান্তের কাছের কোনও এলাকায়, তবে পশ্চিম সেখানে খুবই বড় মাপে অস্ত্র রসদ ও সামরিক উপদেষ্টা পাঠাতে পারে. এটা হবে বাস্তবেই অনুপ্রবেশ. কিন্তু এখানেও সব কিছু সহজ নয়. জনমত নিয়ে দেখা হয়েছে যে, বেশীর ভাগ তুরস্কের লোকই সিরিয়ার বিষয়ে অনুপ্রবেশ চায় না. তার ওপরে বহু আরব দেশের পক্ষ থেকেই সিরিয়াতে তুরস্কের অংশ গ্রহণে সামরিক অপারেশন করা হলে, তাকে ওসমান সাম্রাজ্যের সময়ের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন বলে মনে করা হবে. তখন এক বড় আগুন জ্বলে উঠতেই পারে, যা সিরিয়া পার হয়ে বহু দূর অবধি যাবে”.

সিরিয়া ও তার চারপাশ জুড়ে আরও একটা ফ্যাক্টর রয়েছে, যা হিসাব না করা চলতেই পারে না. এই বিষয়ে পর্যবেক্ষক ইভগেনি এরমোলায়েভ বলেছেন:

“লাখদার ব্রাহিমি কয়েকদিন আগে ঘোষণা করেছেন যে, তিনি সিরিয়ার সোমালি হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন. সোমালিতে যেমন জানা রয়েছে যে, হাতে ক্ষমতা তুলে নিতে চাইছে, আল- কায়দা দলের ঘনিষ্ঠ আল- শাবাব দল. ইংল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রী নিজের পক্ষ থেকে আবার বলেছেন যে, যত বেশী দিন ধরে সিরিয়াতে বিরোধ চলতে থাকবে তত বেশী করেই চরম পন্থী গোষ্ঠীদের সম্ভাবনা বাড়বে নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার. রাষ্ট্রসঙ্ঘের সিরিয়াতে মানবাধিকার লঙ্ঘণ সংক্রান্ত তদন্ত পরিষদের প্রধান পাওলো পিনেইরা বলেছেন যে, তিনি সিরিয়াতে বিদেশী যোদ্ধা ও চরমপন্থী ঐস্লামিক ও জেহাদ ঘোষণা করা লোকদের জন্য উদ্বিগ্ন. তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই ধরনের লোকরা কোন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য বোধহয় লড়াই করছে না, বরং নিজেদের লক্ষ্য পূরণের জন্যই চেষ্টা করছে. যদি কূটনীতিবিদদের কথা সংবাদ মাধ্যম সঠিক ভাবেই প্রচার করে থাকে, তবে শুধু তাঁর শিশু সুলভ আচরণ দেখেই অবাক হতে হয়. কবে ও কোথায় সালাফিত ও অন্যান্য জেহাদ ঘোষণা করা লোকরা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সৃষ্টির জন্য লড়াই করেছে?”

তা স্বত্ত্বেও পশ্চিমের দেশ গুলি রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে খুবই জোর প্রয়োগ করে সিরিয়াতে ঘটা সন্ত্রাস বাদী কাণ্ডের নিন্দা করা থেকে বিরত করে রেখেছে, যে সব ঘটনার ফলে প্রতিদিনই বহু শান্তিপ্রিয় মানুষ ও এমনকি শিশুরাও নিহত হচ্ছে. এই ধরনের দ্বিচারিতার রাজনীতি শুধু সন্ত্রাসবাদীদেরই নতুন করে এই সব কাজ করার বিষয়ে উত্সাহ দিচ্ছে. কিন্তু এটা বোধহয়, সেই মূল্য, যা পশ্চিম সিরিয়ার সরকারকে দুর্বল করার জন্য দিতে তৈরী রয়েছে.