“ত্রিকণ্ড” তৈরী হচ্ছে “তেগ” ও “তারকাশ” নামের ফ্রিগেটের সঙ্গে জায়গা নিতে. রাশিয়াতে তৈরী রকেট বাহী ফ্রিগেট “তেগ” এই বছরের বসন্ত কালে ভারতীয় নৌবাহিনীকে দেওয়া হয়েছিল আর এখন এটি ভারতীয় নৌবাহিনীর মধ্যেই কাজ করছে. এক মাস আগে গোয়ার কাছে সমুদ্র উপকূলে এই ফ্রিগেট “ব্রামোস” রকেটের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে. দ্বিতীয় ফ্রিগেট “তারকাশ” ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করেছে ৯ই নভেম্বর, সেটিও ভারতীয় নৌবাহিনীকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবারে মুম্বাইয়ের উপকূলে কাজ করার জন্য. আর তৃতীয় ফ্রিগেট “ত্রিকণ্ড” এখন নোঙর করার বিষয়ে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে.

সমস্ত নাবিকরাই জানেন যে, যে কোন জাহাজই তার রান্নাঘর থেকেই শুরু হয়, আর তাকে সামুদ্রিক পরিভাষায় কুক রুম বলা হয়ে থাকে. কালিনিনগ্রাদে “ইয়ানতার”জাহাজ নির্মাণ কারখানার বিল্ডিং বার্থে দাঁড়িয়ে থাকা এই জাহাজে প্রথম কাজ হিসাবে এই রন্ধনশালার পবিত্র পূজাই সেদিন করা হল. রুশী নাবিকদের মতই জাহাজে মহিলাদের প্রবেশ নিষেধ করে রেখেছে ভারতীয় নাবিকরা, কিন্তু ভারতীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী এই পূজা জাহাজে সাধারণতঃ করে থাকেন মহিলারাই. তাই এবারে দরকার হয়েছে “ইয়ানতার” কারখানার একজন মহিলা কর্মীকে পূজা করতে বলার. তিনি বলেছেন:

“রন্ধনশালার সব কিছুকেই আমরা শুভ হওয়ার জন্য প্রার্থনা করেছি, সব কিছুই শুদ্ধ করেছি. যাতে সব ভাল কাজ করে. যাতে বিদ্যুতের বৈকল্য না ঘটে”.

আগুন ও সুগন্ধি ধুপ যা দিয়ে এই কুক রুমের জায়গায় “পূজা” করা হয়েছে – তা শুধু অশুভ আত্মার থেকেই এই জায়গাকে পূত করে নি. এটা আবার একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জাহাজ তৈরী করারও. জাহাজ নির্মাতা ও নাবিকরা খুবই দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করেন যে, জাহাজের কুক রুম পবিত্র করে নেওয়া দিয়েই জাহাজের সত্যিকারের জীবন শুরু হয়.

এই পূজা করার পরে সকলকে ভারতীয় মিঠাই দিয়ে স্বাগত জানানো হয়েছে. এক ভারতীয় নাবিকের স্ত্রী এখানেই ময়দা, মাখন ও বাদাম দিয়ে এই সব মিঠাই বানিয়েছেন. আর যেদিন এই জাহাজের চলাচল পরীক্ষা করা শুরু হবে, সেই দিনে জাহাজের বার্বুচিরা সকলকেই অন্যান্য ভাল খাবার খাওয়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন. অপেক্ষার বেশী বাকী নেই. আগামী বছরেই “ত্রিকণ্ড” পরিকল্পনা রয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার.