বারাক ওবামাকে সদ্য নির্বাচন করা হয়েছে, আর তিনি এরই মধ্যে স্ক্যান্ডাল সহ নিজের সিআইএ সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল ডেভিড পেত্রেউসকে বিদায় দিতে বাধ্য হয়েছেন. ১১ই নভেম্বর জেনারেল পদত্যাগ করার জন্য অনুমতি চেয়েছেন, যেদিন জনগনের কাছে খবর পৌঁছেছে যে, তিনি তাঁর স্ত্রীর প্রতি অসত্ ছিলেন. রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ পত্র নিয়েছেন. কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, পেত্রেউস সংক্রান্ত মামলা শেষ হল. তা শুধু শুরু হয়েছে, আর এটা ওবামার জন্য বাড়তি মাথা ব্যাথার কারণ হতে পারে. এবারে কংগ্রেস এই বিষয়ে কি রকমের পরিসরে তদন্ত করবে, তার উপরেই নির্ভর করছে রাষ্ট্রপতির মাথা ব্যাথার বহর.

১৩ই নভেম্বর মঙ্গলবারে প্রশাসনের প্রতিনিধিদের কংগ্রেস থেকে ডেকে পাঠানো হয়েছে, যাতে সমস্ত বিষয়ের পরম্পরা ও পদত্যাগের কারণ সম্বন্ধে বিশদ করে জানানো হয়. খুবই সন্দেহ জনক দেখাচ্ছে পুরো ব্যাপারটাই. কংগ্রেসে জানতে চাওয়া হয়েছে যে, ইচ্ছা করেই রাষ্ট্রপতির প্রশাসন এই পদত্যাগের বিষয় নিয়ে স্ক্যান্ডাল ৬ই নভেম্বরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে পর্যন্ত ধামাচাপা দিয়ে রেখে ছিলেন কি না. সকলেই বুঝতে পারছে যে, এই ভোটের আগে এই রকমের একটা স্ক্যান্ডাল হলে – বলা যায় না যে, ওবামা আবার হোয়াইট হাউস দেখতে পেতেন কি না.

প্রশাসনিক ভাবে থামিয়ে দেওয়া ছাড়া এবারে ঘটনা নিশ্চয় করেই ঘটে নি, এই রকম একটা বিশ্বাস নিয়ে মস্কোর রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিভাগের বিশ্লেষক আন্দ্রেই সিদরভ বলেছেন:

“এটা ঠিকই যে, এই ক্ষেত্রে জানাজানি হয়ে গেলে বারাক ওবামার ভোটের আগে অসুবিধাই হত. তা কোন রকম ভাবে ভোটের ফলের উপরেও প্রভাব বিস্তার করতে পারত. আমেরিকার লোকরা খুবই পারিবারিক মূল্যবোধের বিষয়ে স্পর্শকাতর. এই তথ্য লুকিয়ে রাখা, বোধহয়, দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির থেকেই বাধ্য হয়ে করা হয়েছে”.

সাধারণত তদন্ত যে করা হচ্ছে, তার ওপরে এত উচ্চ পদস্থ এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে, তা আমেরিকার গোয়েন্দা বিভাগ দেশের সর্ব্বোচ্চ নেতৃত্বকে জানাতে বাধ্য. বর্তমানের স্ক্যান্ডাল সোজা প্রশ্ন রেখেছে: রাষ্ট্রপতি কি জানতেন ও কখন এই বিষয়ে জেনেছেন? যদি হোয়াইট হাউস নিজে থেকেই এই ব্যাপারে আটকে দেওয়ার কাজ করে থাকে, তবে এটা কংগ্রেসের কাছ থেকে সত্য লুকিয়ে রাখা হয়ে থাকবে. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরনের কাজ থেকে রাষ্ট্রপ্রধানের উপরে অনাস্থা প্রস্তাব আনা যেতে পারে.

পেত্রেউস যে পতিত গণ্য হয়েছেন ও তাও এই ধরনের অভিযোগে (যদি না এর পিছনে কিছু খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লুকিয়ে থাকে) এটাও একটা আঘাত. ব্যাপার হল যে, পেত্রেউস নামক ব্যক্তিকে ১১ই নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় পূণ্যাত্মা বলেই চালানো হচ্ছিল. সংবাদপত্রে দেখানো হচ্ছিল যে, তিনি খুবই বড় মাপের স্ট্র্যাটেজি নির্মাতা, ইরাক ও আফগানিস্তানে জয়ের স্রষ্টা. তাঁকে এমনকি ২০১৬ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবেও দেখা হচ্ছিল.

নিন্দুকরা অবশ্য বলে থাকেন যে, নিজের এত দ্রুত উন্নতি করা সামরিক ও সামরিক অ্যাকাডেমীর ক্যারিয়ারের জন্য পেত্রেউস তাঁর স্ত্রীর কাছেই কৃতজ্ঞ. পেত্রেউস নামের এক যুবক ক্যাডেট ১৯৭৪ সালে ওয়েস্ট পয়েন্ট সামরিক অ্যাকাডেমীর প্রধান জেনারেল উইলিয়াম হাউল্টনের মেয়ে হেল্লি হাউল্টনকে বিয়ে করার জন্যই এই দ্রুত উত্থান সম্ভব হয়েছিল.