বাশার আসাদের সাথে আলোচনা বৈঠক না করার কথা পুনঃব্যক্ত করেছে সিরিয়ার বিরোধী দল. কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত হওয়া সিরিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিলের সম্মেলনে এই বিবৃতি দিয়েছেন বিরোধী দলের নেতারা. সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা বিরোধী পক্ষের একটি অস্থায়ী সরকার গঠনের চেষ্টা চালিয়েছিল. এদিকে দামাস্কাসের চারিদিকে ঘটছে নতুন বিতর্কের ঘটনা. তুরষ্ক গোপনে ওয়াশিংটনের সাথে ঐক্যমতের ভিত্তিতে সিরিয়ার সীমান্তে নিরাপত্তা জোন তৈরীর চেষ্টা চালাচ্ছে. অন্যদিকে লিবীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে এই বলে যে, ত্রিপলিতে অর্থ দিয়ে সিরীয় বিদ্রোহীদের সাহায্য করছে.

 

সিরিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিল প্রায় সপ্তাহ ধরে দোহায় সম্মেলন করেছে. গত ৪ নভেম্বর শুরু হওয়া সম্মেলনে একটি একক বিরোধী দল গঠন ও সঙ্গবদ্ধভাবে বাশার আসাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়. এদিকে বিরোধী দলের নেতারা বলেছেন, সিরিয়ার যে সব অঞ্চল বিদ্রোহীদের নিয়নন্ত্রনে সেই সব অঞ্চলে বিরোধী দলকে অস্থায়ী সরকার গঠন করা উচিত. তারা আরও বলেছেন, এর ফলে বহির্বিশ্বের জোট দেশগুলোর পক্ষ থেকে সমর্থন পেতে আরও সহজ হবে.

এদিকে শনিবার সিরিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিলের নতুন শীর্ষ নেতা নির্বাচন করা হয়. নতুন এ পদে এসেছেন সাবেক কমিউনিষ্ট নেতা ও সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক জর্জ সাবরা. তবে দোহায় যারা মিলিত হয়েছেন তাদের কেউই শান্তিপূর্ণভাবে সিরিয়ার সংকট সমাধানের পক্ষে কথা বলেন নি. সমবেত হওয়া সবারই একটাই শ্লোগান ছিল এবং তা হচ্ছে- আসাদ বিহীন সিরিয়া.

মস্কো সর্বদাই চাইছে সিরিয়ার সংকট শান্তিপূর্ণ পথে সমাধান হোক. রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ বিরোধী পক্ষকে অভিযোগ করে বলেছেন যে, তারা সিরিয়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চালিয়ে যাচ্ছে. এদিকে সিরিয়া বিষয়ে রাশিয়ার ভূমিকার কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের মুখপাত্র আলেকসান্দার লুকাশেভিচ. তিনি বলেন, “দোহায় যারা মিলিত হয়েছে বা এ ধরণের বৈঠক অন্য কোথায় হলেও তার অন্যতম শর্ত হবে সিরিয়ার সংকট শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের চেষ্টা করা. বিদেশীদের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সিরীয়দের নিজেদের আলোচনা করতে হবে এবং তা হবে জেনেভা সাক্ষাতের আলোকে”.

আপাতত বিরোধী পক্ষের নেতারা কাতারে সম্মেলন করেছে. সশস্ত্র বিদ্রোহীরা আমেরিকার কাছ থেকে আরও ৫০টি রকেট পেয়েছে. আর তা নতুন ধ্বংসযজ্ঞ, হতাহত ও শরনার্থীদের সংখ্যা বাড়াবে. জাতিসংঘের তথ্যমতে, ইতিমধ্যে সিরিয়া ছেড়েছে ৪ লাখ মানুষ.

 

সিরিয়ার পরিস্থিতি তা এখন পার্শ্ববর্তী প্রতিবেশীদের জন্য নানা অশান্তির জন্ম দিচ্ছে. তুর্কী গনমাধ্যমে চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে যে, তুরষ্ক গোপনে ওয়াশিংটনের সাথে ঐক্যমতের ভিত্তিতে সিরিয়ার সীমান্তে নিরাপত্তা জোন তৈরীর চেষ্টা চালাচ্ছে. এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্যেটরিওট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে. সিরিয়ার আলেপ্পো শহর পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত ওই নিরাপত্তা জোন তৈরী করা হবে. তবে তুরষ্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় এ তথ্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছে. এর ১ ঘন্টা পরই তুর্কী প্রধানমন্ত্রী এরদোগান বলেছেন, আপাতত প্যেটরিওট ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনের কোন পরিকল্পনা নেই.

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, তুরষ্কের প্রধানমন্ত্রী এরদোগান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ধাভুতোগলু ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম মতাবলম্বী অনুসারী এবং তাদের মধ্যে রাজনৈতিক দিক দিয়েও ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে. সিরিয়ার রাজনীতি এখন তুর্কী নেতাদের মধ্য যে ঐক্যমত নেই তাই প্রমান করেছে.

এদিকে সিরিয়ার বিরোধী জোট সিরিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিল ঘোষণা করেছে যে, বাশার আসাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম পরিচালনা করার জন্য একটা বিরাট আর্থিক সাহায্য পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে নয় বরং তা আসছে লিবিয়া থেকে. লিবিয়া এখন পর্যন্ত নিজেরাই গৃহযুদ্ধ কাটিয়ে উঠতে পারে নি. এরই মধ্যে ত্রিপলিতে এ সংবাদ নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে. লিবিয়ানদের এটি কোন দিক থেকে সন্তুষ্টি করতে পারে নি. কয়েক মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশের পুনঃগঠনের কাজে না খরচ করে তা বিপ্লবী কাজে সরবরাহ করা হচ্ছে.