বারাক ওবামা অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনাকে সত্য প্রমানিত করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন. গত শতাব্দীর ২০- এর দশকের দিকে যে বিষন্নতা বিরাজ করেছিল মার্কিন সমাজে, ওবামা তাকেও জয়লাভ করেছে. যুক্তরাষ্ট্রে চলমান অর্থনৈতিক মন্দা ও বেকারত্বের হার শতকরা ৮ ভাগ স্বত্বেও ওবামার বিজয় অর্জিত হয়.

সাধারণত, পূর্বের চেয়ে অনেকটা সাহসিকতার সাথে রাষ্ট্রপতিরা দ্বিত্বীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন শুরু করেন. তিনি জানেন যে, তৃত্বীয় মেয়াদে আর হোয়াইট হাউসে থাকছেন না. তাই, অনেকটা বা কিছুটা স্বাধীনচেতা মনমানসিকতা তাদের মাঝে দেখা যায়. তবে, সব ঝামেলা অন্য জায়গায়. নিম্ন কক্ষের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে রিপাবলিকানদের কাছে. সিনেটে ডেমোক্রেটিকরা পেয়েছে ৫৩টি আসন.

ওবামার সবচেয়ে কঠিন কাজ হবে আমেরিকাকে অর্থনৈতিক মন্দা থেকে উদ্ধার করা. ১ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কর সংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে. কংগ্রেস এর অনুমোধন করেছে. কর দেওয়ার সময়কে সহজ ও মন্দা দূরীকরণের জন্যই এ সিদ্ধান্ত. শুধু তাই নয়, জানুয়ারি থেকে রাষ্ট্রীয় খরচ বিভিন্ন খাতে কমিয়ে আনা হচ্ছে. কংগ্রেস আশংকা করছে যে, জানুয়ারির মধ্যে কোন সমাধান না পেলে দেশে বেকারত্বের হার শতকরা ৯ ভাগে উত্তীর্ণ হবে এবং আমেরিকার অর্থনৈতিক আবারও ভেঙ্গে পড়বে.

কেউ হয়ত মনে করছে যে, এটি আমেরিকার সমস্যা তবে তা মনে করা হবে একটি বড় ভুল.

ওবামাকে তার মন্ত্রিসভা ঢেলে সাঁজাতে হবে. আগামী বছরের শুরুতে বিদায় নিবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন. এছাড়া অর্থমন্ত্রী টিমাটি গেইটনের ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী লেওন পানেট্টা বিদায় নিবেন. এরা সবাই হচ্ছেন মন্ত্রিসভার শীর্ষ মুখ.

হিলারী ক্লিনটনের স্থলাভিষিক্ত হয়ত হবেন ডেমোক্রেটিকের সিনেটর জন কেরী অথবা জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি সিওজান রাইস. তবে সিউজান রাইস যদি নতুন পররাষ্ট্রমমন্ত্রী হয় তাহলে তা রাশিয়ার জন্য মঙ্গলজনক হবে না বলে মনে করছেন স্কুল এব ইকোনোমিক্সের বিশ্লেষক দিমিত্রি সুসলভ. রেডিও রাশিয়াকে তিনি বলেন, “রুশ-মার্কিন সম্পর্কের দিক দিয়ে এটি কোনভাবেই সুফল বয়ে আনবে না, বিশেষত, সিউজান রাইস মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন হস্তক্ষেপকে সম্পূর্ণ সমর্থন জানাচ্ছেন. আরব বসন্ত নিয়ে তিনি রাশিয়ার পুরোপুরি বিরোধী. এবং রাশিয়ার সাথে সম্পর্কে তিনি নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে আছেন. আমি বলতে চাই তিনি অনেকটা আবেগতাড়িত”.

শোনা যাচ্ছে যে, হিলারী ক্লিনটন নিরর্থকই বিদায় নিচ্ছেন না. আগামী ২০১৬ সালে নিজের প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করবেন. বিশ্বের পরিস্থিতি বর্তমানে এতটাই নাজুক যে, ওবামাকে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং হিলারী ক্লিনটন চাইছেন না যে, ওই সব সিদ্ধান্তের সাথে তাঁর নাম জড়িয়ে বিতর্কিত হোক.