চিনের উচিত্ হবে নতুন ধরনের অর্থনৈতিক ধরণ সৃষ্টির. এই বিষয়ে চিনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় পরিষদের সাধারন সম্পাদক হু জিন টাও ঘোষণা করেছেন, তিনি এই দলের অষ্টাদশ সম্মেলনের প্রতিনিধিদের সামনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে এই কথা বলেছেন. তিনি দেশের সামনে পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন যে, আগামী ২০২০ সালে দেশের গড় বার্ষিক উত্পাদনকে ও গড় ব্যক্তিগত আয়কে ২০১০ সালের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে দেখতে চান. এই সবই, সাধারন সম্পাদক বিশেষ কে উল্লেখ করেছেন যে, সম্ভব হতে পারে শুধু খুবই গভীর ভাবে চিনের অর্থনৈতিক ধরনকে বদল করে.

অর্থনৈতিক ধরনের পরিবর্তনের ভিত্তি হিসাবে গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের নেতৃত্ব দেখতে পেয়েছেন ভোগ করার অর্থনীতিতে চলে যাওয়াকে. তিরিশ বছরেরও বেশী সময় ধরে চিন দাঁড়িয়ে রয়েছে শুধু রপ্তানী ও বিদেশী বিনিয়োগের উপরে ভিত্তি করেই. বাণিজ্যের থেকে লাভ ও বিদেশী মূলধনের প্রবাহ কয়েক দশক ধরে চিনের অর্থনীতিতে উন্নয়নের গতিকে অব্যাহত রেখেছিল, যা গোনা হয়েছে দুই অঙ্কের সংখ্যায়. কিন্তু এই উন্নয়নের গতিবেগ বৃদ্ধির কারণ ইতিমধ্যেই নিজেদের পূর্ণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে. ঐতিহ্য গত ভাবে চিনের দ্রব্যের বাজার – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ – অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণেই অনেক খানি ক্ষীণ হয়ে গিয়েছে. আর শ্রম শক্তির মূল্যবৃদ্ধির ফলেই চিন প্রায় নিজের বিনিয়োগের বিষয়ে আকর্ষণ করার মূল কারণই হারিয়ে ফেলেছে.

অর্থনৈতিক বিকাশের গতি কমতে শুরু করেছে. কৃত্রিম ভাবে বাড়িয়ে দেওয়া বিনিয়োগের চাহিদার জন্য চিনের স্থাবর সম্পত্তির বাজারে ও বিনিয়োগের বাজারে বুদ্বুদ তৈরী হওয়া শুরু হয়েছে, মূল্যবৃদ্ধি দ্রুততর হয়েছে, যা এই কিছুদিন আগেও চিনের জনগনকে উদ্বিগ্ন করত না. এবারে চিনের নেতৃত্বের সামনে কাজ হয়েছে অর্থনীতিকে কোমল ভাবে কমতে দেওয়ার. পরবর্তী কালের অর্থনৈতিক বিকাশ প্রাথমিক ভাবে দেশের ভিতরের বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি দিয়েই করতে হবে, - এই কথা বলেছেন বিশ্বায়ন সমস্যা ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর মিখাইল দেলিয়াগিন, তিনি এই প্রসঙ্গে যোগ করেছেন:

“চিনের নেতৃত্বের রাজনীতি হবে এবারে দেশের জনগনের জীবনের মান বৃদ্ধি করা নিয়ে. এই সম্পর্কে দর্শনীয় হল ৪০ কোটি মানুষের গ্রাম থেকে শহরে চলে আসার পরিকল্পনা. কৃষি ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, যা কৃষকের সংখ্যা কমিয়ে দেবে. আর উত্পাদন বৃদ্ধি করার জন্য দরকার হবে নতুন শ্রমিকের. দেখাই যাচ্ছে যে, শহরের লোকরা গ্রামের লোকদের চেয়ে বেশী ভোগ করে. চিনের ভিত্তি মূলক পরিকাঠামো তৈরী হয়ে গিয়েছে ধরে নিলে, এই দেশ এই বারে সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করতে পারে ব্যবহার বা ভোগের ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্যই”.

দ্রুত গতিতে নগরায়নের ফলে অনেক সামাজিক সমস্যাও সৃষ্টি হচ্ছে. আধুনিকীকরণের ফলে কৃষি ক্ষেত্র থেকে বাদ পড়ে যাওয়া কৃষকরা কি কাজ পাবেন? আর শহর গুলিতে কাজ করার জায়গা কত দ্রুত বাড়বে? বর্তমানের শহরগুলিতে চালু থাকা পেনশন ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থা গতকাল অবধি কৃষক থাকা এই প্রবল বন্যার মতো আসা লোকদের চাপ সহ্য করতে পারবে তো?

যাই হোক, যদি ধরে নেওয়াও যায় যে, সামাজিক দিকটি ভাল হওয়ার দিকেই যাবে, তবুও অর্থনীতির বিকাশের গতি আগের মতো বজায় রাখা মনে তো হয় না যে সম্ভব হবে, এই রকম বিশ্বাস নিয়ে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের রাজনৈতিক গবেষণা ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের আন্দ্রেই ভিনোগ্রাদভ বলেছেন:

“এই ধারণা যা চিন বিকাশের নতুন উত্স স্রেফ আভ্যন্তরীণ ভোগের মধ্যেই খুঁজে পাবে, তা বাস্তব হতে পারে না. কারণ যদি চিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যত বেশী ভোগ করে ততটাই ভোগ করতে শুরু করে, তবে পরিবেশে বিপর্যয় হবে. তার ওপরে চিনের আভ্যন্তরীণ বাজারের সীমা আরও এই কারণে আবদ্ধ যে, চিনের জনতা সব মিলিয়ে আজ যথেষ্ট গরীবই রয়েছে. কম সময়ের মধ্যে এত বিশাল সংখ্যক লোক বড়লোক হয়ে যেতে পারে না”.

যে ভাবেই হোক, অর্থনৈতিক ধরনের পাল্টে দেওয়ার কাজ নেওয়া হয়েছে. এটার সমাধান করা সহজ হবে না, অন্তত পক্ষে এই জন্যে যে, অর্থনৈতিক ধরনের বদল খুবই অঙ্গাঙ্গীভাবে রাজনৈতিক সংশোধনের সঙ্গেও জড়িত. আর এই সমস্যা নিয়ে চিনে চলছে খুবই তীক্ষ্ণ বিতর্ক ও মনে হয় যে, আপাতত এই সম্বন্ধে সহমতে আসা সম্ভব হয় নি.