স্ক্যান্ডাল, যা শেষ অবধি পদত্যাগ ও পার্টি থেকে বহিঃস্কার দিয়ে চিনের কিছু দিন আগের খুবই সম্ভাবনাময় রাজনীতিবিদ বো সিলাইয়ের সঙ্গে করতে হয়েছে, তা কমিউনিস্ট দলের কাছ থেকে উত্তর চেয়েছে খুবই জটিল সব প্রশ্নের – দুর্নীতির কারণ ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাকে ফলপ্রসূ করে তৈরী করা, যা “ছায়াময় রাজনীতি” থেকে মুক্ত হতে পারবে. এই বিষয়ে চিনের কমিউনিস্ট পার্টির অষ্টাদশ সম্মেলনের পরিনাম সংক্রান্ত বক্তৃতায় মনোযোগ না দিয়ে পারা যায় নি. “রেডিও রাশিয়ার” পর্যবেক্ষক ইগর দেনিসভ, যিনি এই সম্মেলনের উদ্বোধনী দিবসে ৮ই নভেম্বর উপস্থিত ছিলেন, তিনি বেজিং থেকে আমাদের কাছে তাঁর মন্তব্য পাঠিয়েছেন.

রাজনৈতিক আধুনিকীকরণের খুবই বাস্তব প্রয়োজনীয়তা চিনের নেতৃত্ব স্বীকার করেছেন. এটা খুব ভাল করেই লক্ষ্য করা গিয়েছে চিনের দলীয় নেতা হু জিনটাও এর বক্তৃতার বয়ানে. যথেষ্ট কড়া বাক্য বিন্যাসেই সেখানে বলা হয়েছে “স্বচ্ছ রাজনৈতিক ব্যবস্থা” তৈরীর কথা. এই কাজ একই সঙ্গে দুর্নীতির সঙ্গে সংগ্রামের সঙ্গে একসাথেই সামনে রাখা হয়েছে. রাজনৈতিক ব্যবস্থার অস্পষ্টতা, স্বাধীন আইন রক্ষা ও বিচার ব্যবস্থার অনুপস্থিতি – এই সবই সম্পূর্ণভাবে বো সিলাইয়ের ঘটনার ক্ষেত্রে প্রকট হয়েছে. অসংখ্য আইন লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত বো সিলাইয়ের ক্ষেত্রে বহু বছর ধরেই তার ক্যারিয়ারের সিঁড়িতেও উঠতে কোন বাধা দিতে পারে নি.

এই ধরনের কাজকর্মের বিরুদ্ধে খুবই কড়া সাবধান বাণী শোনানো হয়েছে সাধারন সম্পাদক হু জিনটাও এর ভাষণে, যেখানে তিনি বলেছেন বিশেষ সুবিধার সঙ্গে লড়াই করার কথা, যা আইনের পরিধির বাইরে বিস্তৃত. “কথা দিয়ে আইনের ক্ষেত্র একেবারেই বদলী করা যায় না, তার উপরে ক্ষমতার প্রভাব খাটানো চলে না, নিজের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য আইনের অপব্যবহার করাও চলতে দেওয়া যায় না” – ঘোষণা করেছেন হু জিনটাও.

এই দলিলে অংশতঃ বলা হয়েছে যে, সমস্ত স্তরের নেতারাই, আর বিশেষ করে উচ্চ পদস্থ নেতারা বাধ্য জেনে শুনে স্বচ্ছ রাজনীতির নিয়ম পালনে. এই খানে হু জিনটাও বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, যদি এই প্রশ্ন সম্যক ভাবে সমাধান না করা হয়, তবে এটা দলের জন্য খুবই দ্রুত ক্ষতির কারণ হতে পারে, আর তা এমনকি দল ও দেশকে শেষ করে দিতে পারে.

এই রিপোর্ট, যা এক কথায় দলীয় রাজনৈতিক পরিকল্পনার চরিত্র রাখে, তাতে কিন্তু দুর্নীতি ও ছায়াময় রাজনীতি কেন রয়ে গিয়েছে, তার মূল কারণ গুলি বিশ্লেষণ করার জন্য কোন জায়গা মেলে নি. তাতে এমনকি কোন উত্তরও মেলে না যে, কেন পরপর একটানা দুর্নীতি সংক্রান্ত স্ক্যান্ডাল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না, যদিও চিনের কমিউনিস্ট পার্টির ভিতরেই তার সঙ্গে লড়াই আজ বহু বছর ধরেই করা হচ্ছে. সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বে বর্তমানে বিতর্ক চলছে কি করে দেশে দলের ক্ষমতা বজায় রাখার জন্য একেবারেই প্রধান এই সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে উন্নতি করতে পারা যাবে, তাই নিয়ে.

আপাততঃ রিপোর্টে আবার করে সেই সংজ্ঞাই দেওয়া হয়েছে, যা সেই সপ্তদশ সম্মেলনের সময়ে উচ্চারিত হয়েছিল, চিনের সমাজে অবক্ষয় ও ঘুষের রাজনীতি বন্ধ করার জন্য চিনের পথের কথা. তা নির্দিষ্ট রকমের বস্তু নিচয় দিয়ে পরিপূর্ণ করার দায়িত্ব হবে নতুন নেতৃত্বের, যা এই অষ্টাদশ সম্মেলনে তৈরী করা হবে. এই ধরনের ব্যবস্থার মধ্যে কোন ভূমিকা গণতান্ত্রিক সংশোধন নেবে, কিভাবে শাস্তির ব্যবস্থার সঙ্গে অপরাধ সংগঠন পূর্ব ব্যবস্থা মেলানো হবে, সরকারি কর্মচারীদের উপরে প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কি রকমের হতে চলেছে – এই সব প্রশ্নই আগামী দশ বছরে চিনের রাজনৈতিক জীবনের ছবিকে ঠিক করে দেবে.